অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পরিণাম বনাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা

Print

আব্বু যেদিন হলে আমার কাপড় আনতে গিয়েছিল, সেদিন হল থেকে বলা হয়েছিল যে ঈদের পরে ভার্সিটি খুললে হলে উঠতে পারব। ভার্সিটি খোলার দিন ঘনিয়ে এলো। ছুটি শেষ হবার দুইদিন আগে আব্বু ম্যামকে ফোন দিল। টিকিট কাটার একটা ব্যাপার আছে, ফেরারও তো একটা প্রিপারেশন আছে। তো ম্যাম বললেন আমার হলে ফেরা হবেনা। ভার্সিটি খুলবে, আমার ব্যাপারে মিটিং হবে, ভিসি-প্রোক্টর সিদ্ধান্ত জানাবে, তারপর যদি তাদের দয়া হয়, তো আমি হলে আসতে পারব।

এর আগে না। আব্বু ফোনে যখন কথা বলছিল, এক্সপ্রেশন দেখে বুঝতেছিলাম খারাপ খবর। আমার কাছে ততোদিনে অবশ্য চোখের পানি নতুন কিছু না। ১৫ আগস্ট, দিবাগত রাতের পর থেকে অবাক হতেও ভুলে গেছিলাম অবশ্য। আমি ধরেই নিয়েছিলাম আমার আর হলে যাওয়া হবেনা। আব্বুকে বলছিলামও হলে আর থাকব না, সাবলেটে উঠব। আব্বু উত্তর দিছিল, সাবলেটে ওঠা তো ব্যাপার না। এইখানে তোর সম্মানের প্রশ্ন। হলে না উঠলে তুই হেরে যাবি। যে দোষ করিসনি, সেই দোষের শাস্তি তোকে পাইতে দেব না। হলে না উঠলে তো প্রমাণ হবে তোর ফল্ট ছিল। কথাগুলো শুনে অনেকদিন পরে অবাক হইছিলাম আমি। একটা মানুষ এতকিছুর পরেও এতোটা দৃঢ় থাকে কিভাবে!

আমি আর কিছু বলার সাহস পেলাম না। ক্লাস শুরু হলো। আমার একসপ্তাহ ক্লাস করা হলো না। মিডটার্মের ডেট দিয়ে দিল। সেপ্টেম্বরের পাঁচ তারিখ। একেতো বইখাতা কিছু সাথে নেই, তার উপর হলেও উঠতে দিচ্ছেনা। নরকযন্ত্রণাটা কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। এরমধ্যে আব্বু একাধিকবার প্রোক্টর আর প্রভোস্ট ম্যামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেছে। স্যার তো আব্বুকে একবার শুনায়েও দিল, “আপনি বেশি কথা বলেন” আমি নিজে ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যেতে লাগলাম দিনদিন। আমার কারণে আব্বুর এই স্ট্রেস, এই মানুষের কাছে ছোট হওয়া – এইগুলা আমি নিতে পারতেছিলাম না কোনোভাবেই। আমি নিজে ঝামেলা করলেও পরে এমন একটা সিচুয়েশন ক্রিয়েট হয়ে যায়, উল্টো আমাকে সান্ত্বনা দেয়া লাগে। এক্ষেত্রেও তাই হলো। আমার কান্না থামানো আমার বাপের কাছে নিজের অপমানের চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো। আর আমার সন্তান হিসেবে নিজেকে অভিশপ্ত মনে হতে লাগলো। আব্বু অনেকবার যোগাযোগ করার পর লাস্ট পর্যন্ত প্রভোস্ট ম্যাম বললেন আমাকে হলে ঢুকতে দেয়া হবে বইখাতা নিতে। তবে শর্ত হলো সাথে আমার আব্বুকে যেতে হবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 83 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com