অফিস নেই! ঐক্য আছে

Print

চতুর্থ তলা, প্রীতম-জামান টাওয়ার, ৩৭/২ বীর উত্তম গাজী দস্তগীর সড়ক, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। এটি খুব প্রসিদ্ধ ঠিকানা নয়! তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি, সরকারি-বেসকারি মিডিয়াগুলো এই ঠিকানায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এখানে বসেই দিন বদলের (ক্ষমতা পরিবর্তন) স্বপ্ন দেখেছেন ড. কামাল হোসেনের মতো ডাকসাইটে রাজনীতিবিদরা।

বলা হচ্ছিল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কথা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর কালভার্ট রোডে (বীর উত্তম গাজী দস্তগীর সড়ক) প্রীতম-জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলার পশ্চিম পাশের বড় আকৃতির তিনটি কক্ষকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এর একটি কক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্যন্টের নীতিনির্ধারকরা বৈঠক করতেন। পাশের আরেকটি কক্ষ ব্যবহার করা হতো দেশি-বিদেশি মিডিয়ায় ব্রিফ করার জন্য। মিডিয়া রুমের পাশের কক্ষটি ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের বিশ্রামের জন্য। প্রধান কার্যালয়ে এলে দামি সোফা, চেয়ার, টেবিল, সেলফ ও ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানো এই কক্ষটিতে বসতেন ড. কামাল হোসেন।

গতবছর মধ্য অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত খুব জমজমাটই ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই প্রধান কার্যালয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত বছর ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের ৭২ ঘণ্টা আগে ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে এখানেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব শেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলন থেকেই ড. কামাল হোসেন জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অন্তত ২০০ আসনে জিতবে!

পরের দিন ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঢাকা মহানগর কমিটির সংবাদ সম্মেলন ছিল প্রধান কার্যালয়ে। কিন্তু ওই দিন দুপুরের পর প্রীতম-জামান টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেদিন রাস্তায় দাঁড়িয়েই সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মহানগর কমিটির সমন্বয়ক জগলুল হায়দার আফ্রিক। অর্থাৎ ২৭ ডিসেম্বর-ই ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান কার্যালয়ের শেষ দিন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) প্রীতম-জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা হয় শাহ আলম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। যে কক্ষটিতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করতেন, সে কক্ষের সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন শাহ আলম। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অফিস সম্পর্কে জানতে চাইলে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সে অফিস তো কবেই শেষ! নির্বাচনের পর এখানে আর কেউ আসেনি। ভবন মালিক ডেভেলপার কোম্পানির কাছে অফিস ভাড়া দিয়ে দিয়েছে।’

অফিসে ঢুকে দেখা যায়, ডেভেলপার কোম্পানিটি নিজেদের মতো করে অফিস সাজিয়ে নিয়েছে। সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো সাইন-সিম্বল নেই। অফিসের যে বুথটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাফতরিক কাজে ব্যবহার করা হতো, সেটিতে এখন ডেভেলপার কোম্পানির কর্মী শাহ আলম বসেন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 81 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com