অবাস্তব সব নিয়মে হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে বিপিএল

Print
অবাস্তব সব নিয়মে হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে বিপিএল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের নাটকীয়তা ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সকল রেকর্ড। বিপিএল নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাস্যকর এবং অবাস্তব সব সিদ্ধান্তে ক্রিকেটবিশ্বে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে দেশের ক্রিকেটেরই। সময়ে সময়ে নেয়া এমন অজস্র সিদ্ধান্তের মাঝে সবশেষ যে নতুন নিয়মের ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি তা এই ফ্রাঞ্জাইজি লিগকে পরিণত করেছে রীতিমত হাসির খোরাকে।

প্রতি মৌসুমে নিয়মের পরিবর্তন, ধারাবাহিকতার অভাব এবং অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে এমনিতেই নামীদামী খেলোয়াড়রা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বিপিএল থেকে। তবে সব কিছু ছাড়িয়ে গেছে এবারের বিপিএল। উদ্বোধনের বাকি নেই দুই মাস, অথচ প্রতিদিন নতুন নতুন হাস্যকর সব নিয়মের ঘোষণা দিয়েই চলেছে বিপিএল কমিটি।

সবশেষ গত ১১ অক্টোবর (শুক্রুবার) বিসিবির পরিচালক মাহবুবুল আনাম ২০১৯ বিপিএলের কিছু নতুন নিয়ম জানিয়েছেন । এর মধ্যে যে তিনটি বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে—

১. ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করতে পারে এমন বিদেশি ফাস্ট বোলারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

২. প্রতিটা দলে বিদেশি কোচ দেওয়া হবে।

৩. প্রতিটি দলে একজন লেগ স্পিনার খেলাতেই হবে এবং তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ৪ ওভার বোলিং করাতে হবে।

১৪০ কিলোমিটারের বল

মাহবুব আনাম বলছেন, তাঁরা এবার বিপিএল করতে চান ক্রিকেটের উন্নয়নে। খেলোয়াড়েরা যেন এই টুর্নামেন্ট খেলে আরও উন্নতি করতে পারেন সে কারণে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বোলিং বাধ্যতামূলক করতে চাইছেন আয়োজকেরা। কথা হচ্ছে, ২০ ওভারের ম্যাচে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করলেই কি সাফল্য পাওয়া যায় বা এই মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়াটা কতটা বাস্তবসম্মত?বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ১৪০ কিলোমিটার গতির বল স্বচ্ছন্দে খেলতে পারলেই কি মনে করা যাবে টেকনিক্যালি তিনি অনেক উন্নতি করেছেন?

১৪০ স্পিড টা কিভাবে মাপা হবে? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফুটেজ দেখে গড় গতি মাপা হবে? কিন্তু ওই ক্রিকেটার যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলে? এখন তো ১০৫ দেশ টি টোয়েন্টি খেলে। বিভিন্ন এসোসিয়েট দেশ থেকে প্লেয়ার যারা আসবে, তাদের গতি কিভাবে মাপা হবে? বা ঘরোয়া লিগ খেলা বোলারদের? আর বাংলাদেশের পিচে, যেখানে এমনিতেই পেসাররা পায়না বাড়তি কোন সুবিধা, সেখানে ১৪০ এর বেশি গতিতে বল করাটা আদৌ বাস্তবসম্মত?

বিদেশি কোচ

বিপিএলে এখনো পর্যন্ত টম মুডি, ওয়াকার ইউনিস, মাহেলা জয়াবর্ধনে, ডেভ হোয়াটমোর, ডিন জোনস, ল্যান্স ক্লুজনার, মিকি আর্থারের মতো অনেক নামীদামি কোচেরা কাজ করে গেছেন। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, বিপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে সফল স্থানীয় কোচরাই। গত চার বিপিএলে শুধু মুডিই (২০১৭ বিপিএলে রংপুরের হয়ে) ফাইনালে উঠেছেন। বাকি সাত ফাইনালিস্টের সবাই স্থানীয় কোচ।

অর্থাৎ বিপিএলে যে স্থানীয় কোচরাই সফল তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারপরেও কেন বিদেশি কোচদের প্রতি ছুটবে বিসিবি। যেখানে স্থানীয়দের সুযোগ দিলে লাভবান হবে দেশের ক্রিকেট। আর সুযোগ দেবার মতো একাধিক স্থানীয় কোচও রয়েছে বাংলাদেশে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 31 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com