অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টান্সঃ ভয়াবহ ব্যাধির চেয়েও জঘন্য

Print

অ্যান্টিবায়োটিক শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত।সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ইনফেকশন জাতীয় রোগে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা হয়।কিন্তু বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে আমরা যথেচ্ছভাবে সামান্য থেকে তীব্র যেকোন রোগের জন্য লাগামহীনভাবে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করছি।এন্টিবায়োটিকের এমন অপব্যবহারের ফলে শরীরে তৈরী হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট যা কিনা এইডস বা ক্যান্সারের চেয়ে মারাতয়া। অ্যান্টিবায়োটিকের যথা ব্যবহার ও অপব্যবহারের নানান দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন কুমিল­া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ কৌশিক আহমেদ।সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানভীর আহমেদ রাসেল –

অ্যান্টিবায়োটিক কি?এটি কখন সেবন করা উচিত?

অ্যান্টিবায়োটিক হল অনুজীব বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী একটি শক্তিশালী ওষুধ।অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে,ভাইরাসের বিরুদ্ধে নয়।এটি শুধুমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়েছে নির্ণীত হলেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।

অ্যান্টিবায়োটিক অপব্যবহারবে ফলস্রুতিতে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্টের নাম ব্যাপকহারে শোনা যাচ্ছে। এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট কি?

বর্তমানে মানুষের স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্টকে বিবেচনা করা হয়।এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট বলতে বুঝায়, আগে যে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জন্য এন্টিবায়োটিক কার্যকর ছিল তা বর্তমানে আর কাজ করছে না।তাছাড়া স্বল্প মাত্রায় প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক যদি দীর্ঘ সময় ধরে যাওয়ার পর রোগী আরোগ্য লাভ করেন,তখন বুঝতে হবে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে অথবা প্রায় হয়ে যাচ্ছে।

কারা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকিতে আছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) জরিপ অনুযায়ী,উচ্চ ও নিম্ন আয়ের উভয় দেশসম‚হ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকিতে আছে।আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সব বয়সী মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকিতে আছে।আমাদের দেশে গ্রামীণ অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও জনসচেতনতার অভাবে বেশিরভাগ মানুষ সামান্য অসুস্থ হলেই এন্টিবায়োটিক সেবন করে।গ্রামাঞ্চলে মাত্র ৮% অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিক্রয় করা হয়।এসব দিক বিবেচনায় গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলো বিশেষ করে শিশুরা এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে।গ্রামীণ ডাক্তারদের অযথা এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইভ করা,কিছুটা সুস্থ হয়ে গেলে আর্থিক বিবেচনায় এন্টিবায়োটিক কোর্স প‚র্ন না করা,পরিষ্কার পরিচ্চন্নতা নিয়ে সম্যক জ্ঞানের অভাবে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে এর প্রকোপ বেড়েই চলেছে।

কিভাবে বুঝব অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়েছে কিনা?

যখন এন্টিবায়োটিক নেওয়ার পরও রোগী আরোগ্য লাভ না করেন অথবা আরোগ্য লাভ করতে সাধারণ মাত্রার তুলনায় বেশি পরিমাণে এন্টিবায়োটিক নিতে হয়,তখন প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হয় এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট কি শুধুমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে?

না,এটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে।আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি,ব্যবহৃত পানিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে যা ভয়াবহ ব্যাধির চেয়ে জঘন্য।

এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?

আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক যথাযথ ব্যবহারের সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকতে হবে।আমাদের মনে রাখতে হবে সকল অনুজীবের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।যাই ব্যাকটেরিয়া গঠিত কোন অনুজীবে আক্রান্ত কিনা,তা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যথা মাত্রায় সেবন করতে হবে।ভাইরাসে আক্রান্ত জ্বর, সর্দি,কাশি এসবের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়।সরকারের ও এন্টিবায়োটিক অবাধ বিক্রয় বন্ধ সহ কার্যকর ভুমিকা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 177 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com