আইন মানছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

Print

আইন না মানলেও দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আইন অনুযায়ী কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের শর্ত না মানলে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকার কথা। কিন্তু সেই শর্ত না মানা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। নতুন নতুন বিভাগ অনুমোদনও পাচ্ছে। অনুমোদন পাচ্ছে সমাবর্তনেরও। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ ও সেগুলোকে নিয়ম শৃঙ্খলায় আনতে ২০১০ সালে নতুন আইন করে সরকার। কিন্তু আইন প্রণয়ন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইন মানানোর ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই শিক্ষামন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের।

২০১০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পূর্বে ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। ২০১০ সাল থেকেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে একাধিকবার সময় বেধে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে সময় বেধে দিয়েছিল শিক্ষামন্ত্রণালয়। কিন্তু এরপর আর সময় বাড়ানো হয়নি। ফলে ২০১৭ সাল থেকেই ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় চলছে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে। যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের লঙ্ঘন। অন্যদিকে ২০১২ সালে অনুমোদন পায় ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলোর মধ্যে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার ৭ বছর শেষ হয়েছে। আইন অনুযায়ী এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও কেউ সনদ নবায়ন করেনি। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অনুমোদন পায় ১৯৯৬ সালের ১৬ মে। প্রতিষ্ঠার ২৩ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০০০ সালের ২১ মার্চ। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে আর কতদিন লাগবে তা জানাতে পারেনি ইউজিসি। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০০১ সালের ১৩ মার্চ। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকলেও সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। আর ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ অনুমোদন পায় ২০০১ সালের ৫ ডিসেম্বর। ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য জমি কিনলেও এখনো ভবনের কাজ শুরু হয়নি। এসব বিষয়ে এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে ইউজিসি। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০০২ সালের ২৪ জানুয়ারি। এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও আশুলিয়ায় নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণ করলেও সেখানে পুরোপুুুরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। ইউজিসি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শিগগিরই এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে বলে সূত্র জানিয়েছে। চট্টগ্রামে অবস্থিত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ২০০১ সালের ৫ ডিসেম্বর অনুমোদন পায়। ইউজিসির তথ্য, এ বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 15 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com