আওয়ামী লীগের অনেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায়

Print

জুয়া, ক্যাসিনো, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুদ্ধ ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী অনেক নেতা। চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে অপসারণের পর বিপুল পরিমাণ টাকা ও অস্ত্রসহ এরই মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে যুবলীগ নেতা খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমকে। গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছেন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরো কয়েক নেতা। চলমান অভিযানের মুখে তারা এরই মধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন। বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আপাতত রক্ষা পাওয়ারও চেষ্টা করছেন অনেকে। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সরকারের ইমেজ নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। বিতর্কিতরা কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, টানা তিন মেয়াদে সরকারে থাকায় এবার দল ও সরকারের ইমেজকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে জন্য ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিতদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ থেকে চাঁদাবাজি করায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করেছেন শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার পাশাপাশি যুবলীগের একাধিক নেতার ক্যাসিনো, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন। এর পরই রাজধানীতে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাদের পরিচালিত একাধিক ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে তা সিলগালা করে দেয় র্যাব। গ্রেফতার করা হয় একাধিক হত্যা মামলার আসামি ও ক্যাসিনোর মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। তাকে একাধিক মামলায় এরই মধ্যে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। দলের পরিচয়ে সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব এরই মধ্যে সব মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে গণভবনে ছাত্রলীগের নেতারা দেখা করতে গেলে তিনি তাদের সতর্ক ও সাবধান থাকতে বলেন। এ সময় দলের অভ্যন্তরে থাকা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, ‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। ছাত্রলীগ ধরেছি। এবার যুবলীগকে ধরছি। কেউ পার পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন অবস্থানের পর গতকাল টেন্ডারবাজ যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে বিপুল পরিমাণ টাকা, মদ, অস্ত্র ও সাত দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ধ্যায় অভিযান চালানো হয় কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে। তবে জি কে শামীমকে গ্রেফতারের পর যুবলীগ তার দায় নিচ্ছে না। শামীম নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা এবং যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করছে সংগঠনটি। তবে গতকাল খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এ দিকে রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ থাকা ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকেও যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারে। তাকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বর্তমানে তার কাকরাইল অফিসে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 72 বার)


Print
bdsaradin24.com