আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা, নির্বাক প্রশাসন! শিক্ষকদের দায়দায়িত্ব কার?

Print

গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:  

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত বৈধ উপাচার্যের দাবিতে গত ৬ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুরুর দিকে এ আন্দোলন ইউজিসি কর্তৃক উপাচার্যে দাবি থাকলেও বৃহস্পতিবার (২মে) বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডা. লায়লা পারভিন বানু উনার পিছনে এনএসআই, সরকার আছে বলে শিক্ষার্থীদের “অন্য কেউ এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে” মর্মে হুমকি দেন। এতে করে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপরে শিক্ষার্থীরা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ডা. লায়লা পারভিন বানুর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ৪মে থেকে আন্দোলনে নামে।

শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসলেও মাঝেমধ্যেই মূল ফটকের বাহিরে স্থান হয় শিক্ষকদের। কখনো বৃষ্টি, কখনো প্রচণ্ড উত্তাপের মধ্যেও মূল ফটকের বাহিরেই অবস্থান করতে হয় শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। চাকরী রক্ষাতে, বেতন যাতে না কর্তন করা হয় এ কারণে ফার্মগেট, মিরপুর থেকে অনেক কষ্টে সাভারে অবস্থিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন অনেক শিক্ষক কর্মকর্তা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে অনেক সময় শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদাম তলা, ফুচকা চত্বরে পেপার পড়তে, প্রশাসনিক ভবনের নিকটে রৌদ্রে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রশাসন নির্বাক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থা অনেকটাই বেহাল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, ‘শিক্ষকদের এভাবে মূল ফটকের বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখে ছাত্রদের আন্দোলন করা ঠিক হচ্ছে না।অনেকেই ছোট বাচ্চা নিয়ে রোদে দাড়িয়ে আছেন,আবার অসুস্থতা নিয়ে অনেকে বাসের মধ্যে কষ্টে বসে আছেন। আমাদেরই ব্যর্থতা। আমরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে পারিনি।’

গঠনমূলক কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দিয়ে এক শিক্ষক জানান, ‘সমস্যাটা যেহেতু প্রশাসনের সাথে, সেহেতু শিক্ষার্থীদের তাদের সাথে আলোচনায় বসে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। প্রত্যাশা করি তারা আমাদের এভাবে দাঁড় করিয়ে না রেখে গঠনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান করবে।’

শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক এই বিড়ম্বনায় দু:খ প্রকাশ করে গবি ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা মহসীন হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকরা আমাদের গুরুজন, তাদেরকে কষ্ট দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। যেহেতু  শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসন আমাদের দাবির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছে না, তাই বাধ্য হয়ে প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করতে আমরা এ পদক্ষেপ। ”

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত উপাচার্যের দাবিতে গত ৬ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। গত ২ মে শিক্ষার্থীদের উপাচার্য কর্তৃক হুমকির পর থেকে এটি উপাচার্যের পদত্যাগ আন্দোলনে রূপ নেয়।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 106 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com