আমাদের মা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন মাটির মানুষ- হিজড়া গুরু অনন্যা

Print

 

মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েলঃ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হিজড়া স্বজনদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি প্রদানসহ তাদেরকে কন্যা স্বীকৃতি দিয়েছেন ।তাই মদনের হিজড়া গুরু অনন্যা তাদের মা জননেত্রী শেখ হাসিনার কথার যথার্থ মূল্যায়ন রক্ষা করতে গিয়ে ,তারা প্রতিটি পূঁজা মন্ডপের উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন পূঁজা মন্ডপে তাদের সাদ্য অনুযায়ী উপহার প্রদান করেছেন ।জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ,ধর্ম যার যার ,উৎসব সবার । এই বিষয়টিকে মনেপ্রাণে ধারণ করে তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসবে হিজড়াদের উপহার প্রদানের বিষয়টি এক উজ্বল দৃষ্টান্ত ।  নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের সংগঠন স্বপ্ন ছোঁয়া উপহার প্রদান করেছেন । স্বপ্ন ছোঁয়ার সভাপতি হিজড়া গুরু অনন্যা বলেন-তারা নিজেদেরকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় । আর এজন্যই তারা মদনে গড়ে তুলেছে স্বপ্ন ছোঁয়া নামক সংগঠন বা সংস্থা । এ সংস্থার মাধ্যমে তারা এলাকার হিজড়াদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্ম নির্ভরশীল করে তুলতে চায় । অন্যের গ্রলগহ বা করুণা ও অবজ্ঞার পাত্র হয়ে তারা এ সমাজে বসবাস করতে চায়না । তারা সমাজের আর দশটার মানুষের মত কর্মমূখী জীবন যাপন করতে চায় ।

মদনের তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের হিজড়া গুরু অনন্যা বলেন- আমিসহ বেশ কয়েকজন হিজরা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাত পেয়েছি । প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে  পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়েছেন ও কন্যা স্বীকৃতি দিয়েছেন । কাছে থেকে প্রধানমন্ত্রী দেখে বুঝতে পেরেছি,আমাদের মা জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন মাটির মানুষ । মদনের হিজড়া গুরু অনন্যার সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি এসব কথা বলেন । তিনি আরও বলেন- হিজড়াদের মধ্যে না পুরুষের পূর্ণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, না নারীদের । এ কারণে সমাজে তারা স্বাভাবিক জীবন-যাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যদিও হিজরা সম্প্রদায় বাংলাদেশে এখন তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তবুও তাদের অসহায়ত্বের শেষ নেই । হিজরা সম্প্রদায় বঞ্চিত নানা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে । সমাজে স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ না পেয়ে এসব হিজড়ারা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত হতে হয় ।  সামাজিক সুযোগ সুবিধা পেলে তারা কখনোই অন্যের কাছে হাত পেতে কিছু নিবেনা এমনকি তারাও সমাজের উপকার করতে পারে এমন কাজ করতে পারবে । হিজড়াদের মধ্যে অনেক প্রতিভাবান মানুষ রয়েছে । তাদের মাঝে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধনের সুযোগ পেলে তারাও দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখতে পারবে ।

অনন্যা বলেন-একটা ব্যাপার হল, একটি হিজরা শিশুকে পরিণত বয়সে যাওয়ার আগে যদি যথযথ মেডিকেল ট্রিটমেন্ট করা হয় তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু যখন বোঝা যায় সে সাধারণ আর দশজনের থেকে আলাদা তখন আসলে অনেক দেরি হয়ে যায়। একইভাবে কোন পুরুষ বা নারীও হিজড়া হতে পারেন। আসলে যখন একজন মানুষ বুঝতে পারে সে হিজড়া তখন সে পরিবার, সমাজ সব জায়গায় অবহেলা আর অবজ্ঞার স্বীকার হয়।

হিজড়াদের জীবন মান উন্নয়নে কেমন পরিবেশ প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে হিজড়া গুরু অনন্য বলেন- শারীরিকভাবে বিকাশের পাশাপাশি সুস্থ, সুন্দর মানসিক বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। সুস্থ মানসিক বিকাশের অভাবে হিজড়ারা আজ অনবরত  হীনমন্যতায় ভোগছে । মানসিকভাবে সকল বিষন্নতা, কলুষতা  কাটিয়ে আদর্শ মানুষ, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে দেশ গঠনে অংশগ্রহণ উদ্বুদ্ধ করাসহ ‘তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরও  শিক্ষা ও কমর্সংস্থানের সুযোগ দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে ।
হিজরা গুরু অনন্যা আরও বলেন- আমাদের সমাজ  হিজড়াদের  সহজে গ্রহণ করে না । সামাজিকভাবে গ্রহণ না করার কারণেই চিকিৎসা, শিক্ষা, কমর্সংস্থানসহ নানা স্থানে বিভিন্নভাবে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয় তাদের।

অনেক দেশেই হিজড়ারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। অন্যের করুণার ওপর নিভর্র করে তাদের জীবন চলে না। কিংবা তারা প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অন্যদের বিরক্ত করে না। কারণ, তারা আত্মনিভর্রশীল, তারা শিক্ষিত, তারা চাকরিজীবী, তারা রাজনীতিবিদ, তারা ব্যবসায়ী। আর আমাদের দেশে? তারা অবহেলার পাত্র, অবজ্ঞার পাত্র, রাস্তাঘাটে বিরক্ত করা জনগোষ্ঠী।

তিনি আরও বলেন –আমরা চাই ,স্বাভাবিক মানুষের মতো আমাদের  অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ।  আমাদেরকে সমাজ খাটো করে দেখে। অনেক সময়  আমাদেরকে মানুষই মনে করে না। নানানভাবে তিরস্কার করা হয় । চাকরি, শিক্ষা, কমজীর্বন, রাজনীতি সবক্ষেত্রে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ।  আমাদের স্বপ্ন ছোঁয়া সংস্থার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা চাই সকল জিড়াদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরিয়ে আনতে । তাদেরকে সহায়তা করে – তাদের শিক্ষা, কর্ম, সামাজিক মযার্দা ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করার জন্যই স্বপ্ন ছোঁয়া সংস্থার পথচলা ।

পরিশেষে হিজড়া গুরু অনন্যা বলেন- বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে  হিজড়াদের জীবনমানকে উন্নত করতে হবে।  আমাদেরকে  শিক্ষা, সামাজিক মযার্দা, কমর্সংস্থানের সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।  আর যেন আমাদের মত হিজড়াদের  যেন আর রাতের অন্ধকারে  চোখের জল ঝরাতে না হয়,  হিজড়ারা যেন  আর কারোর তিরস্কারের পাত্র হতে না হয়, তারা যেন নিজ নিজ পরিবারেই বসবাস করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনকেও এগিয়ে আসতে হবে তাদের জীবনমানকে উন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে। সাধারণ জনগণের মাঝে প্রচারণা চালাতে হবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে, তাদের অধিকার নিয়ে, সামাজিক মযার্দা নিয়ে। সবোর্পরি, আমাদের সকলের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে, তবেই সকল হিজড়াদের জীবন বদলে যাবে, হিজড়াদের জীবন মানের উন্নয়ন হবে ।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 250 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com