ইন্টারনেট থেকে নিজেকে যেভাবে ‘ডিলিট’ করবেন

Print

এ এক অদ্ভুত জগৎ। আপনি ভাবছেন এখানে নেই। কিন্তু আছেন। আপনি ভাবছেন ‘লগআউট’ করেছেন, আসলে ‘লগইন’ হয়ে আছেন। প্রযুক্তির এই যুগে বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার ধারণা না থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

যেভাবে আপনি ইন্টারনেটে থেকে যান: আপনি যখন কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন, তখন কতগুলো কুকিজ আপনার ব্রাউজারে স্টোর হয়ে যায়। এগুলো হল ছোট টেক্সট ফাইল।

দুই ধরনের কুকিজ সাধারণত স্টোর হয়। ফার্স্ট পার্টি কুকিজ ওয়েবসাইটের অপারেটর থেকে, এবং থার্ড পার্টি কুকিজ বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান অথবা অ্যানালেটিক্যাল ফার্ম থেকে আসে।

ওই কুকিজগুলোর মাধ্যমে আপনার ফোনের অনেক তথ্য কোম্পানিগুলোর হাতে চলে যায়। আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কোন ওয়েবসাইটে কত সময় থাকছেন, অনলাইনে আপনার পছন্দের বিষয় কী-সব তারা জেনে যায়। এগুলো বিশ্লেষণ করে, তারা আপনার মোবাইলে, ফেসবুকে কিংবা ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন পাঠায়।

বাংলাদেশে যারা বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে অনলাইনে খেলা দেখেন, তারা বিষয়টি বুঝবেন। ওই অ্যাপসে লগইন করতে তারা আপনার ফেসবুকের পাবলিক প্রোফাইল কিংবা গুগল অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস চায়। এখানে খেলা দেখার পর আপনি ফেসবুক কিংবা জিমেইল লগআউট করলেও তাদের ওয়েবসাইটে ‘লগইন’ থেকে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে আপনাকে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট থেকে ‘ডিলিট’ হতে হবে।

১. কুকিজ ডিলিট: ওয়েবসাইটের ইউআরএলে একদম বাঁদিকে কিছু সাইটে ‘Not secure’ লেখা থাকে। এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। ওখানে ক্লিক করে কুকিজ ডিলিট করা যায়। কিছু সাইটে ‘https://’ লেখা থাকে। এগুলো মোটামুটি নিরাপদ। তবু সুরক্ষিত থাকতে ওখানে ক্লিক করেও কুকিজ ডিলিট করতে হবে।

২. ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট: এখনকার যুগে অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। ব্যক্তিগত কারণে এই অ্যাকাউন্টগুলো বেশিরভাগ ব্যবহার করে ডিঅ্যাক্টিভেট করেন না। সেটা আপনার প্রয়োজনের ব্যাপার। কিন্তু প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেট বলছে, অনলাইন থেকে পুরোপুরি ‘ডিলিট’ হতে হলে এইসব অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করতে হবে।

যদি কোনো কারণে সেটি করতে সমস্যা হয়, তাহলে সেটিংসে গিয়ে প্রাইভেসি ঠিক করে নিতে হবে। ফেসবুকে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন সেটি জানতে পারেন এই প্রতিবেদন থেকে: ফেসবুকে ‘গোপন কথা’ গোপন রাখার উপায়।

৩. ডেটা কালেকশন সাইট: ইন্টারনেটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার জন্য শতশত ডেটা কালেকশন সাইট আছে। তার মধ্যে অন্যতম Spokeo, Whitepages.com, PeopleFinder।

এই সব সাইটে প্রবেশ করে কুকিজ ডিলিট করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হল তারপরেও এরা আপনার তথ্য রেখে দেয়। পুরোপুরি ডিলিট হতে একটি বিশেষ সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন। ‘joindeletme.com’ থেকে ‘DeleteMe’ সার্ভিস নিতে হবে। এ জন্য আপনাকে বছরে হাজার দশেক টাকা ব্যয় করতে হবে। যারা অনলাইনে প্রতিনিয়ত লাখ-লাখ টাকা লেনদেন করেন, তারা এই সার্ভিস নিতে পারেন।

এই সব সাইট থেকে নিজেকে ডিলিট করা মানে গুগলের সার্চ রেজাল্ট থেকেও আপনার প্রায় ডিলিট হয়ে যাওয়া।

৪. গুগল ক্রোম: আপনি অনেক সময় ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সেটি গোপন রাখতে চান। কিন্তু জানেন না কী করে করতে হয়। আপনি কোন কোন ওয়েবসাইটে ঢুকেছেন, সেটি কাউকে না দেখাতে চাইলে chrome://settings লিখে এন্টার করুন। সেটিংস খুললে Shwo advanced settings-এ ক্লিক করে Privac-এর অধীনের Send a `Do Not Track’ request with your browsing traffic টিক দিয়ে পরেরবার OK চাপুন। এ ছাড়া প্রত্যেকবার ব্যবহার শেষে ‘History’-তে ক্লিক করে ‘ÔClear browsing’-তে গিয়ে ‘data’ অথবা ‘All time’ নির্বাচন করে ইতিহাস মুছে ফেলতে পারেন।

ক্রোমে নিরাপদ থাকার আরও উপায় আছে। ওপরের ডান কোনায় তিনটি ডট চিহ্নে ক্লিক করে সেটিংসে যান। এরপর একদম নিচে ‘Advanced’লেখায় ক্লিক করুন। নিচের দিকে ‘Content Settings’ দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন। এখানে ক্লিক করার পর প্রথমেই দেখতে পাবেন ‘Cookies’ অপশন। এখানে ক্লিক করে ‘Allwo sites to save and read cookie data (recommended)’ অপশনটি চালু অথবা বন্ধ করতে পারেন।

৫. ফায়ার ফক্স: ওপরের ডানদিকে সমান্তরাল তিনটি লাইনে ক্লিক করে আপনি সেটিংসে যেতে পারেন। সেখানে দুই নম্বরে ‘Content Blocking’ অপশন রয়েছে। এখানে ‘Strict’ অথবা ‘Custom’-এ ক্লিক করে পছন্দমতো নিরাপদ অপশন বেছে নিতে পারেন।

ফায়ার ফক্সের সঙ্গে যুক্ত থাকা ক্ষুদ্র প্রোগ্রামগুলো (এক্সটেনশন) কাজের ধরন অনুযায়ী অনেক সময় বেশি মেমোরি নিতে পারে। কোন এক্সটেনশন কত বেশি মেমোরি নিচ্ছে, সেটি খুঁজে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারেন। এ জন্য ফায়ার ফক্স চালু করে https://goo.gl/eiHJ71 ওয়েব ঠিকানা থেকে মেমোরি এক্সটেনশনটি ফায়ার ফক্সে ইনস্টল করে নিন। এবার অ্যাড্রেসবারে about:addons-memory লিখে এন্টার করলে কোন প্রোগ্রাম অধিক মেমোরি নিচ্ছে সেটি সংখ্যার মাধ্যমে এবং নিচে তার বর্ণনাসহ দেখা যাবে। এর নিচের Minimiæe memory usage-এ ক্লিক করলে অধিক ব্যবহৃত প্রোগ্রামকে থামানো যাবে। আবার অ্যাড্রেসবারে about: addons লিখে এন্টার করলে প্লাগইনকে মুছে ফেলা যাবে। এভাবে এই ব্রাউজারে আপনি নিরাপদ থাকতে পারেন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 39 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com