রাঙিয়ে দেয় নতুন পথ চলা -ইভা ফারজানা সুস্মিতা

Print

ছোটোবেলা থেকেই যেকোনো শিল্পের প্রতি অসম্ভব টান আমার। বিশেষ করে ছবি আঁকা। যেকোনো কিছুতে যে কোনো কিছু দিয়েই আঁকা-আঁকি করে ফেলতাম। একটু বড় হয়ে যখন মেহেদীর কোন পেলাম, তখন থেকে এক ধরনের নেশা কাজ করত। একটা কোন, ভেতরে মেহেদী, যেভাবে হাতে নিয়ে ঘুরাই কিছু না কিছু আঁকা হয়ে যায়, তাও আবার মানুষের হাতে, যার রঙ আবার বেশ কিছু দিন থাকে। অদ্ভূত এই জিনিসের উপর নেশা বেড়েই চলল। যৌথ পরিবারের একমাত্র সুবিধাস্বরূপ কখনো এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগের অভাব হয়নি ( ;)) । আস্তে আস্তে হাত যখন এসে গেল, ক্লায়েন্ট পেতে থাকলাম। লেখাপড়ার ফাঁকে বিভিন্ন উৎসবের আগে মেলায় স্টল নিতাম বন্ধুদের সাথে মিলে, অনেকটা মজার ছলেই। যে পরিমান সাড়া পেতে লাগলাম, যেভাবে মানুষ ফোন নাম্বার নিয়ে যেতেন এবং কল করে প্রফেশনাল সার্ভিস চাইতেন, এটা একটা অনেক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ব্রাইডাল কাজ ধরি ২০১২- ২০১৩ থেকে। তখন অবশ্য পেইজ খুলিনি। যারা মেলা থেকে নাম্বার নিতেন, অথবা কারো রেফারেন্সে কল দিতেন, তাদের ব্রাইডাল করা হত। পেইজ খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০১৪ তে। বাবা-মা এর নাম এর অংশবিশেষ মিলিয়ে পেইজের নাম দেই সারোজা। একটি চাকরির পাশাপাশি ছুটির দিনে কাজ নেয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু চাকরি করে পেইজ চালানো ঝামেলায় যেতে চাইনি বলে এক ছেলেকে নিয়োগ করলাম কমিশনের বিনিময়ে আমার পক্ষে পেইজের যাবতীয় যোগাযোগ চালু রাখার জন্য। তাকে পেইজ চালাতে দিয়ে আমি হয়ত নিজের অজান্তেই সুযোগ করে দিয়েছিলাম সুযোগের অপব্যাবহার করার। আমার অজান্তে তার পরিচিতারা পেইজ চালাত এবং সে ক্লায়েন্টদের কাছে আকাশচুম্বী দাম বলত। ব্যাপারটা ধরতে পেরে আমি পুরো পেইজটা বন্ধ করে আবার নতুনভাবে সারোজা শুরু করি ২০১৫তে। এবার সিদ্ধান্ত নিলাম, যা করব, নিজে একা করব। আগেই ফেম্মেস ফেস্তার মিলনমেলার (get together party) একজন স্পন্সর হিসেবে নাম লিখয়েছিলাম। এডমিন শান্তুকে পুরো ব্যাপারটা বলার সাথে সাথে ওকে পাশে পেলাম। আর ৭০,০০০ সদস্যবিশিষ্ট ফেম্মেস ফেস্তার পুরো পরিবার থেকে পেলাম অকল্পনীর সহযোগিতা আর নতুন পেইজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি। ২০১৫ -২০১৬ সালে আমি প্রচুর কাজ করেছি, যার শতকরা ৮০ ভাগই পেয়েছি এই ফেম্মেস ফেস্তা থেকে। এই গ্রুপের ভালোবাসা সাথে নিয়েই আমার এতদূর এগিয়ে আসা। আমার সাফল্যের জন্য আজ আমি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি কৃতজ্ঞ আমাকে আমার কাজের দক্ষতার জন্য, এটি একটি নেয়ামত। আমি কৃতজ্ঞ পরিবারের সহযোগিতার জন্য, স্বামীর অনুপ্রেরণার জন্য, আর ফেম্মেস ফেস্তা থেকে পাওয়া এত ভালোবাসার জন্য। ইচ্ছা আছে যতদিন পারি, নতুন নতুন কাজের মাধ্যমে ব্যাবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। এজন্য আমি সকলের দোআ প্রার্থী।

 

 

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 214 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com