একচোখা আমরা!

Print

প্রতিটি জিনিসেরই কমপক্ষে দুটো পিঠ থাকে। মুদ্রার যেমনি দু্টো পিঠ থাকে, কাজের ভাল-মন্দ দুদিক থাকে, ঘটনার আগে-পরে থাকে, জীবনের বাঁচা-মরা থাকে। বেশির ভাগ সময়েই আমরা কোন ঘটনা বা বিষয়ের দুপিঠ দেখার চেষ্টা করিনা। একমাত্র টাকা অচল কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য টাকার দুই পিঠ ঘষে দেখে নেই। পথের ধারে বসা অন্ধ ভিখিরি যেমনি ভিক্ষে নেয়ার সময় কয়েন বা টাকার নোট অচল কিনা তা হাতড়ে পরখ করে নেয়।

আমাদের মধ্যে টাকা বাদ দিয়ে জীবনের বাকি বিষয়গুলো এক চোখে দেখার প্রবণতা বেশি। আমরা দেখি, কে আমার চেয়ে বেশি ভাল আছে! আমরা দেখি, কার ছেলে লেখাপড়া, চাকরি, ব্যবসায় সাঁই সাঁই করে উন্নতি করে ফেলেছে। আমরা দেখি, মেধা ছাড়াই টাকার জোরে কার ছেলে মেয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলো, কার ছেলে মেয়ে আমেরিকা চলে গেলো!

আমরা দেখি, কোন দম্পতি একেবারে প্রেমে হাবুডুবু, লাবুডুবু ভাব করে সুখি সুখি চেহারায় আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

আমরা দেখি,কে আমাদের চোখের সামনে সাত তলা দালানের মালিক হয়ে গেল, কার ছেলে রাজনীতি করে কোটি টাকার বাড়ি বানালো, কোন বাড়ির ছেলে আরব দেশে চলে গেলো! আমরা দেখি, কার কালো মেয়ের বিয়ে হলো বিশাল বড়লোক বাড়িতে, কার ছেলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে টকাটক ইংলিশ শিখে ফেললো, কার মেয়ে মন্ত্রীর সাথে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলে, কোন অজ পাড়াগাঁয়ের সখিনার বিয়ে হয়ে গেলো মন্ত্রীর সাথে, সাধারণ এক মানুষ কিভাবে ফেসবুকে সেলিব্রেটি হয়ে গেলো, বইমেলায় কোন পুচকি লেখকের বইয়ের কাটতি বেশি —

এমনি কত কি দেখি আর নিজের ভাগ্যে জুটলোনা বলে হিংসার আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার না হোক, ঈর্ষার তুষানলে ধিকি ধিকি তাপে দগ্ধ হই।

আমরা দেখিনা, অসুস্থ বাচ্চার বাবা মায়ের দিন কিভাবে কাটে, জানিনা ক্যান্সার আক্রান্ত আর্যর বাবা মায়ের বুকে কি তোলপাড় চলে, জানিনা হসপিটালে মৃত্যুশয্যায় থাকা রোগীদের পরিবারের দূর্দশা বা ভোগান্তির পরিমাণ, জানতে চাইনা রাজনৈতিক ডামাডোলে নিহত নিরপরাধ পথচারী্র পরিবারে কি মাতম চলে! জানতেও চাইনা, পেট্রল বোমা সন্ত্রাসে পুড়ে মরে যাওয়া মানুষগুলোর সংসার কিভাবে চলছে!
আমরা দেখিনা সহায় সম্বলহীন বিধবার অসহায় চোখের চাহনি, দেখিনা অটিস্টিক শিশুদের বাপ মায়ের স্বাদ বর্ণহীন দাম্পত্য জীবনের ছবি, দেখিনা ধর্ষিতা কন্যার বেদনার্ত মুখচ্ছবি, দেখিনা শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত কন্যার বাবা মায়ের নিদারুণ অপমান, ভাবনাতেই আনিনা অভাবের তাড়নায় দালালের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া কিশোরীর ভয়ার্ত দিশেহারা মুখ, ভাবিনা আরবদেশে যাওয়া মানুষগুলোর মানবেতর জীবনযাপনের করুণ চিত্র!

আমরা দেখিনা ড্রাগ এডিক্টেড ছেলেমেয়ের মায়েদের অসহায়ত্ব, দেখিনা ফ্যানের আংটায় ফাঁস লাগিয়ে মরে যাওয়া টিন এজ ছেলেমেয়ের বাবার আহাজারির দৃশ্য, দেখিনা জঙ্গী ছেলের মরদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করা বাপ মায়ের বুকের ব্যথা, দেখিনা চাপাতির আঘাতে খুন হয়ে যাওয়া অভিজিত নিলয় ওয়াশিকুর জুলহাস তন্ময়দের বাবা মায়ের স্তব্ধ চাহনি, বুকে চাপ ধরে থাকা শোকের যন্ত্রণা।

দেখতে পাইনা ধর্ষিতার পরিবারে লেপ্টে থাকা কষ্ট, অপমানের মর্মবেদনা।শুনতে চাইনা দেহোপসারিনীর দেহে লেগে থাকা বিষাক্ত কামড়ের যন্ত্রণা ও দহনের নীরব আর্তনাদ, দেখতে চাইনা রাস্তার ধারে বসা বিকলাঙ্গ ভিখিরির ভিক্ষে চাওয়ার দৃশ্য, দেখিনা বানভাসি মানুষের আহাজারি, দেখিনা সংখ্যালঘুদের ‘ভয়ে আধমরা’ জীবন যাপন চিত্র—এমনি আরও কত কিছুই দেখিনা!

জীবনের অপর পিঠ দেখলে বুঝতে পারতাম, ঐ পিঠে থাকা অল্প কিছু সৌভাগ্যবানের তুলনায় কম ভাগ্যবান হলেও, এই পিঠে থাকা অনেক বেশি মানুষের দুঃখ দূর্দশা দূর্ভাগ্যের তুলনায় অনেক বেশি সৌভাগ্যবান আমরা। ডালভাত খেয়ে পরিবারের সকলকে নিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মধ্যে যে সুখ, যে নিশ্চিন্ততা, অন্যের সুখ দেখে হাহাকার করা হৃদয় কি তা বুঝে!

-রীতা রায় মিঠু ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 204 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com