একুশে পদক পাচ্ছেন লিয়াকত আলী লাকী

Print

অভিনয়ে বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০১৯’ পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকী। আজ বুধবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একুশে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। 

জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এই পদক প্রদান করা হয়। জাতীয়ভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে ‘একুশে পদক ২০১৯’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। লিয়াকত আলী লাকী একুশে পদক পাওয়ার খবরে সারাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে আনন্দজোয়ার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে তাঁকে শুভেচ্ছা-ভালোবাসা জানিয়ে সর্বস্তরের নাট্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উচ্ছ্বাসিত নানা কমেন্টস। 

আনন্দময় এমন খবরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারী, এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁকে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন জানাতে তাৎক্ষণিক ছুটে জান তাঁর দপ্তরে। সবার অকৃত্তিম শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় প্রাণিত হন শিশুবন্ধু ও ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকী।

একুশে পদক পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘যে কোনো কাজে কখনো আপনজনের কাছে, কখনো সাধারণ মানুষের কাছে স্বীকৃতি পাওয়া যায়। কিন্তু রাষ্ট্র যখন একটা মূল্যায়ন করে, সেটা অবশ্যই যে কাউকে প্রাণিত করে। এই মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে দায়িত্বটা আরো বেড়ে গেলো বলে মনে হয়। সারা জীবন মূল ধারার সংস্কৃতিকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে যারা শিল্পের আলোটি নানাভাবে প্রজ্বলিত করে চলেছে, তাদের পক্ষ থেকে সম্মাননাটা গ্রহণ করবো। আমি প্রথমেই বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহীদদের স্মরণ করছি। এই দেশটি স্বাধীন না হলে রাষ্ট্রীয় এই ধরণের বড় সম্মাননা হয়তো আমাদের ভাগ্যে কখনোই জুটতো না। বাবা মায়ের কথা স্মরণ করছি, যারা আমাকে মুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। মনে করি, উন্নত দেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আলোকিত করতে হবে। “বিকশিত শিশু, আলোকিত আগামী”-এই মূলমন্ত্রে আমি বিশ্বাস করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাবো, শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা নীরবে নিভৃতে কাজ করছেন, এটা তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না যা মূল ধারার সংস্কৃতি কর্মীদেরকে বিশেষভাবে প্রাণিত করছে।’

নাট্য ও সংস্কৃতিজন লিয়াকত আলী লাকী ছাড়াও এবারের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হচ্ছেন- ভাষা আন্দোলনে অধ্যাপক হালিমা খাতুন (মরণোত্তর), অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু ও অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম, সঙ্গীতে সুবীর নন্দী, মরহুম আজম খান (মরণোত্তর) ও খায়রুল আনাম শাকিল, অভিনয়ে লাকী ইনাম ও সুবর্ণা মুস্তাফা; আলোকচিত্রে সাইদা খানম, চারুকলায় জামাল উদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধে ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য, গবেষণায় ডক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ ও ড. মাহবুবুল হক, শিক্ষায় ডক্টর প্রণব কুমার বড়ুয়া, ভাষা ও সাহিত্যে রিজিয়া রহমান, ইমদাদুল হক মিলন, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মইনুল আহসান সাবের এবং হরিশংকর জলদাস।

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৯ সালের একুশে পদক প্রদান করবেন। পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পাচ্ছেন একটি সোনার পদক, সনদ ও দুই লাখ টাকার চেক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 199 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com