এক মাস আগের খবরই সত্যি হলো

Print

অবশেষে সব ধোঁয়াশা কেটে গেল। সত্যি হয়ে গেল এক মাস আগে প্রচারিত খবর। গত ২৯ জুন কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় গান বিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা পা’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। সেখানে প্রাথমিকভাবে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চূড়ান্ত পর্বের একমাত্র নারী প্রতিযোগী অঙ্কিতা ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা করা হয়। যৌথভাবে প্রথম রানারআপ হন গৌরব সরকার ও স্নিগ্ধজিৎ। শোয়ের অন্যতম আরেক প্রতিযোগী প্রীতমের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় রানারআপ হন বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয়া মাঈনুল আহসান নোবেল।

সে সময় নোবেল তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, ‘গ্র্যান্ড ফিনালের পর্বটি রেকর্ড হয়েছে। পর্বটি জি বাংলায় প্রচার হবে ২৮ জুলাই রাতে। এখনো এক মাস বাকি। তাই ফলাফল নিয়ে ২৮ জুলাইয়ের আগে কিছু বলতে পারছি না।’ নোবেলের এমন মন্তব্যের পর আশায় বুক বেঁধেছিলেন তার ভক্তরা। ভেবেছিলেন ২৮ জুলাই রাতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় হয়তো ফলাফল ভিন্ন কিছু ঘোষণা হতে পারে। কিন্তু নোবেলসহ সবাইকে হতাশ করে ২৮ জুলাই রাতে বিচারকরা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অঙ্কিতার নামই ঘোষণা করেন।

অর্থাৎ ফলাফল মাস খানেক আগে ঠিক যেমনটা ঘোষণা করা হয়েছিল, এদিন রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটাই জানানো হয়। তার এক চুলও অদলবদল হয়নি। রবিবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে সাতটায় জি বাংলায় শুরু হয় ‘সা রে গা মা পা ২০১৮-১৯’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। সেখানে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়া ছয় প্রতিযোগী নোবেল, অঙ্কিতা, স্নিগ্ধজিৎ, গৌরব সরকার, প্রীতম রায়, সুমন মজুমদার ও ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন। এদিন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অঙ্কিতা পান দুই লাখ টাকা ও একটি নতুন গাড়ি। কালিকা প্রসাদ স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন সুমন মজুমদার।

শেষ দিনে নোবেল তিনটি গান শোনান। সেগুলো হল প্রিন্স মাহমুদের কথা, সুরে জেমসের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’, আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তুমি’ এবং প্রতুল মুখার্জীর ‘আমি বাংলায় গান গাই’। এই শো দিয়েই এপার-ওপার দুই বাংলায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন গোপালগঞ্জের ছেলে নোবেল। ‘সা রে গা মা পা’-এর অন্যতম সেরা প্রতিযোগী ছিলেন তিনি। প্রতি পর্বে তার গান মুগ্ধ করেছে দর্শক এবং বিচারকের আসনে বসা শ্রীকান্ত আচার্য, শান্তনু মৈত্র ও মোনালি ঠাকুরকে। তারা নোবেলের নাম দিয়েছিলেন ‘বিস্ময় বালক’। নোবেলকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদারও বলেছিলেন।

দর্শকদেরও প্রত্যাশা ছিল, নোবেল চ্যাম্পিয়ন হবেন। কিন্তু সবাইকে আশাহত হতে হয়েছে। তৃতীয় হয়েছেন নোবেল। অনাকাক্সিক্ষত এই ফলাফলে মন ভারী নোবেলের ভক্তদের। তবে এই ফলাফলে নাকি খোদ নোবেলেরই কোনো কষ্ট নেই। কারণ বিচারকদের রায়ে তৃতীয় হলেও দর্শকদের ভোটে ‘মোস্ট ভিউয়ার চয়েস’-এ তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। নোবেলের কথা, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে আমি সবসময় গানটা ঠিকমতো গাওয়ার দিকে বেশি জোর দিয়েছি। ফলাফল যা-ই হোক, আপনারা আগে যেমন আমার সঙ্গে ছিলেন, আশা করছি ভবিষ্যতেও সেভাবেই আপনাদের পাশে পাব।’

জি বাংলায় ‘সা রে গা মা পা ২০১৮-১৯’ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। ভারত থেকে নির্বাচিত ৪৮ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিলেন ‘শীষ কন্যা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অবন্তি সিঁথি, তানজীম শরীফ, রোমানা ইতি, মেজবা বাপ্পী, আতিয়া আনিসা, মন্টি সিনহা ও মাঈনুল আহসান নোবেল। বাকিরা নানা ধাপে প্রতিযোগতা থেকে ছিটকে গেলেও গোপালগঞ্জের ছেলে নোবেল জায়গা করে নেন চূড়ান্ত পর্বে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 54 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com