কারও শাস্তি হয়নি, অর্থও ফেরেনি

Print

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত এ দেশের কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি করলেও তা–ও প্রকাশ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ নিয়ে দফায় দফায় তদন্ত করেই যাচ্ছে। কিন্তু অর্থ আর উদ্ধার হয়নি।

বাংলাদেশে কিছু না হলেও ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েই যাচ্ছে। চাকরিচ্যুত করা, সিনেটে প্রকাশ্য শুনানি, মামলা এবং সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার ফেরত আসে। আর ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখনো উদ্ধার করা যায়নি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৫৫৭ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।

আর এ ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। ওই দলে রয়েছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসানসহ ইউনিটের তিন কর্মকর্তা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি এসব আলোচনায় ভিডিও মাধ্যমে যোগ দিচ্ছেন।

এ ঘটনার তিন বছর পূর্তির আগেই মামলা করতে চায় বাংলাদেশ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো ঘটনার তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিনিধিদলটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক ও সোসাইটি ফর ইন্টার ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের (সুইফট) সঙ্গেও আলোচনা করবে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবু হেনা রাজী হাসান গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলা করতে হবে। আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। শিগগির জানা যাবে, কবে মামলা দায়ের হবে। আর কারা আমাদের জন্য আইনি সহায়তা দেবে।’

সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রতিষ্ঠান সেবার জন্য চুরি হওয়া অর্থের ১০ শতাংশ হারে মাশুল চেয়েছে। দেশটিতে অর্থ উদ্ধারে এমন মাশুল আদায়ের প্রবণতা আছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফিলিপাইনের বিচারের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের কী অবস্থা। আমরা মামলা না করলেও তারা নিজেই এ ঘটনার বিচার করছে। তদন্ত হলেও কারও শাস্তি হয়নি। মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও সাবেক অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের আমলে তা হয়নি। এভাবেই তিনি মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দুর্বলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।’

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 22 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com