কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

Print

সাইফুর রহমান শামীম,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুকিপুর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। ৬টিতে কোন ভবন নির্মিত হয়নি। ফলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় অর্ধ যুগ পূর্বে উপজেলার নাককাটির হাট,গতিয়াশাম,কবিরাজপাড়া,কিসামত গোবদা এবং ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝঁকিপূর্ন ঘোষনা হলেও নতুন ভবন নির্মিত না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোন কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। দ্রুত এসব ঝুকিপুর্ণ ভবন অপসারন করে নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যে কোন মহূর্তে ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা। এছাড়া উপজেলার দূর্গারাম আবাসন,দেবালয়,ব্যাপারীপাড়া,মনিডাকুয়া ,ফুলখাঁ তালুয়া পাড়া ও রতিগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন ভবন নির্মিত হয়নি। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম দারুন ভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
সরেজমিনে এসব বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণী কক্ষের অভাবে ঝুকিপুর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। এমনি একটি উপজেলার নাককাটির হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাককাটিরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৩ সনে একটি অফিস কক্ষ সহ চার কক্ষ বিশিষ্ঠ ভবন নির্মিত হয়। প্রায় অর্ধ যুগ পূর্র্বে ভবনের শ্রেণী কক্ষের বিভিন্ন অংশ ধ্বসে পড়া শুরু করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শ্রেণী কক্ষটি পরিত্যাক্ত হিসেবে তালাবদ্ধ করে রাখেন। অপর শ্রেণী কক্ষ দু’টিরও বিভিন্ন অংশে ধ্বস নামায় উপজেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ পুরো ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা এবং নতুন ভবন নির্মানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। কিন্তুু আজ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় উপায়হীন ভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন। প্রচন্ড ভীতি নিয়ে ওই কক্ষেই পাঠ দানের কথা জানান, বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী স্বপন কুমার , রবিউল ইসলাম ও শারমিন আক্তার।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুলতানা পারভিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে চায় না। তবু ও সেখানেই ক্লাশ করতে হচ্ছে। দেয়াল ও ছাদের প্লাস্তোরা ধ্বসে ধ্বসে পরে। এছাড়া বর্ষাকালে কক্ষের ভিতর পানি জমে।
প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, আমরা উপায়হীন হয়ে পরেছি। নি¤œমানের ইটগুলোর উপর নতুন প্লাস্তোরা কিংবা মেরামতও সম্ভব না হওয়ায় ওই ভবনেই পাঠদান করাতে হচ্ছে।
কিসামত গোবদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অনেক আগেই ঝুকিপূর্ণ ঘোষনা হলেও নতুন ভবনের বরাদ্দ না আসায় কোন রকম ভাবে সংস্কারের মাধ্যমেই ওই ভবনের শ্রেণী কক্ষ গুলোতেই পাঠদান চলছে বলে জানান,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন।
কবিরাজপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়,পুরাতন ভবনের মাঝে ফাটল থাকা সত্বেও ঝুকিপূর্ণ ভবনের তিনটি কক্ষেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান জানান,উপায়ন্ত না পেয়ে ঝুকিপূর্ণ এই বিদ্যালয়টিতেই অবুঝ শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে।
একই ভাবে ঝুকিপূর্ণ ভবনের শ্রেণী কক্ষ গুলোতেই চলছে,ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ও গতিয়াশাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম ঝুঁকিপূর্ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান,বরাদ্দ আসলে নতুন বিল্ডিং নির্মান করা হবে।#

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 161 বার)


Print
bdsaradin24.com