কৃমি নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

Print

 

বাংলাদেশে শিশুদের পুষ্টিহীনতার অন্যতম একটি কারণ কৃমি। শিশুদের রুচি নষ্ট হওয়া এবং দুর্বলতার জন্য কৃমি দায়ী হতে পারে। কৃমির সংক্রমণ হলে আপনি সন্তানকে যা-ই খাওয়ান না কেন, তার একটা বড় অংশ কৃমির পেটে চলে যায়। জেনে অবাক হবেন একটি কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে দিনে শূন্য দশমিক ২ মিলিলিটার রক্ত শুষে নেয়। অনেক কৃমি শরীরে থাকলে প্রতিদিনই বেশ কিছু পরিমাণ রক্ত হারিয়ে যায়। ফলে শিশুরা অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভোগে। শিশু অরুচি বা খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেয়, আয়রনের ঘাটতি ও রক্তশূন্যতার জন্য দুর্বল হয়ে যায় , বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। কৃমির কারণে অ্যালার্জি, ত্বকে চুলকানি, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কখনো খাদ্যনালীতে বা পিত্তনালীতে কৃমি আটকে গিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে । কৃমি সংক্রমণ তাই একটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা।
কৃমির সমস্যা ওষুধের মাধ্যমে দূর করার উপায় আছে। কিন্তু অনেকে নানা ভুল ধারণার জন্য ভয়ে কৃমির ওষুধ খান না। শিশুদেরও খাওয়াতে চান না ।

১. পেটে দু-চারটা কৃমি থাকা ভালো, পেটে কিছু কৃমি না থাকলে খাবার হজম হয় না—অনেকে এসব ধারণা পোষণ করেন৷ আসলে কৃমি শরীরের শত্রু৷ এরা দেহের খাদ্য-পুষ্টি-রক্ত শোষণ করে৷

২. অত্যধিক মিষ্টি, চিনি ও বেশি রাতে মাছ খেলে পেটে কৃমি হয়, এমন বিশ্বাস চালু আছে৷ কিন্তু এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়৷ কৃমি একধরনের পরজীবী প্রাণী, যা খাবার, পানির মাধ্যমে বা পায়ের পাতা ভেদ করে দেহে প্রবেশ করে৷ অপরিচ্ছন্নতা এবং দুষিত খাবার ও পানি কৃমির কারণ৷ অত্যধিক মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার সঙ্গে দেহে কৃমি সংক্রমণের কোনো সম্পর্ক নেই৷

৩. চিরতার পানি অর্থাৎ তেতো খেলে কৃমি মরে যায়, অনেকে এ রকম ভেবে থাকেন৷ চিরতার অন্য ভেষজ গুণ থাকলেও কৃমি মরার বিষয় প্রমাণিত হয়নি৷

৪. কৃমির ওষুধ কেবল শীতের সময় বা বৃষ্টির দিনে খাওয়াতে হয়; গরমের দিনে খাওয়াতে নেই—এ ধারণাও অনেকের মধ্যে দেখা যায়৷ এসবের কোনো ভিত্তি নেই৷ । তবে খাওয়ার পর বা ভরা পেটে খাওয়া ভালো।বাজারের কৃমিনাশক ওষুধ সবই মোটামুটি নিরাপদ এবং শীত-গরম যেকোনো সময়ই খাওয়ানো যায়৷

৫. কেবল গ্রামে বা রাস্তায় থাকা শিশুদের কৃমি হয়—এই ধারণাও ভুল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে-কারও কৃমি সংক্রমণ হতে পারে। তাই অপুষ্টি এড়াতে নিয়মিত কৃমিনাশক খাওয়াই ভালো।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 44 বার)


Print
bdsaradin24.com