কৃষকদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের ‘লুকোচুরি’

Print

বগুড়ায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে লুকোচুরি শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। নির্ধারিত সময় অনেক আগে পার হলেও এখনও শুরু হয়নি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান। এজন্য জেলার কোথাও কোনো তালিকাও তৈরি করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৫ এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা শুরু করা যায়নি। জেলার ১২ উপজেলাতে একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এদিকে সরকার নির্ধারিত ধানের দরকে স্বাগত জানালেও খুশি নন জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা। তারা বলছেন, এখনও খাদ্য বিভাগ কৃষকদের তালিকা তৈরি করেনি। শেষ সময়ে এসে কৃষকদের বাদ দিয়ে যদি ফড়িয়াদের কাছে থেকে ধান কেনা হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা।

ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত অঞ্চল বগুড়ার শেরপুর, ধুনট ও নন্দীগ্রাম উপজেলা। এখানে ধানের দাম খুবই কম। সরকারিভাবেও ধান সংগ্রহে চলছে টালবাহানা। এ অবস্থায় বোরো চাষিরা লোকসানের ভয়ে শঙ্কিত।

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার থেকে জেলার সর্বত্র একযোগে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। যদিও কোনো এলাকাতেই তালিকা তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, জেলায় এবার ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৮৬ মেট্রিক টন। চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৮ হাজার ৩৫৪ মেট্রিক টন।

ধুনট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার সরকারিভাবে ৫০২ মেট্রিক টন এবং শেরপুর উপজেলায় ৬৩৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করার কথা। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান এক হাজার ৪০ টাকায় কেনা হবে। কিন্তু এখনও উপজেলার খাদ্য বিভাগ ও মিল-চাতালের মালিকরা ধান কেনা শুরু করেননি। এ অবস্থায় হাট-বাজারগুলোতে পানির দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। অথচ ২৫ এপ্রিল থেকে ধান ক্রয় শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তা চলার কথা।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার খাদুলী গ্রামের ধান ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ গ্রামে ঘুরে ঘুরে ধান কিনছিলেন। তিনি বলেন, এবার ধানের দাম একেবারেই কম। বিভিন্ন গ্রামের ধনীরা এখন কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে নিচ্ছেন। পরে তারা সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে বেশি দামে বিক্রি করবেন। তিনিও ফড়িয়া হিসেবে ধান কিনছেন।

পাঁচথুপি গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, গুদামে ধান দিতে পারলে কৃষকদের লাভ হতো। কিন্তু গুদাম ধান নেয়া শুরু করেনি। ফলে ধানের দাম দিনদিন পড়ে যাচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিন বলেন, সাংসারিক চাহিদা মেটাতে তিন মণ ধান হাটে এনেছিলেন। প্রতি মণ ধান ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 17 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com