কেন্দুয়ার কান্দিউড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ কায়সারের সাদামাঠা কর্মময় জীবনের কিছু কথা

Print

মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েলঃ
নেত্রকোনা জেলার লাইটপোষ্ট হিসেবে খ্যাত কেন্দুয়া উপজেলা । এ উপজেলা সদর ইউনিয়ন ১০ নং কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ । এ পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ কায়সার । তিনি বিগত ইউপি নির্বাচনে কেন্দুয়া উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের পরিষদের মধ্যে তার ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
কেন্দুয়া উপজেলার রাজ রাজেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত বেজগাঁতি গ্রামের এক স¤ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে শহীদুল্লাহ কায়সারের জন্ম । তিনি বেজগাঁতি গ্রামের সরকার বাড়ীতে ১৯৬২ সালের ১ মে শনিবার সকালে জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতার নাম হাজী সাইফ উদ্দিন ও মায়ের নাম শরীতের নেছা । ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ কায়সারের দাদা হাজী সদর উদ্দিন সরকার ছিলেন স্বাধীনতার পর কান্দিউড়া ইউনিয়নের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ।
সোনার চামিচ মুখে নিয়ে জন্ম নেওয়া শহীদুল্লাহ কায়সার ১৯৮১ সালে কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই (সরকারী) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন । পরে তিনি ১৯৮৩ সালে তিনি কর্মময় জীবন গড়ার লক্ষ্যে বিদেশে পাড়ি জমান । কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দেশের মধ্যে ইরান,তুর্কি,দুবাইসহ অন্যান্য দেশে কাজ করেন । তন্মধ্যে দুবাইয়ের তৎকালীন সেনাপ্রধান রাশেদ আব্দুল্লাহ আল মহিয়ানের কম্পানীতে কার সার্ভিসিং (ওয়াশিং) এ দীর্ঘদিন কাজ করেন । ১৯৯৫ সালে তিনি বাংলাদেশের নিজ এলাকায় ফিরে আসেন । এলাকায় এসে তিনি রাজনীতি ও জনসেবার সাথে জড়িয়ে পড়েন ।
মঙ্গলবার বিকালে কেন্দুয়া বাজারের ফকির মার্কেটে এক বৈকালীন আড্ডায় কথা হয় তার সাথে । একান্ত আলাপচারিতায় শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন-আমাদের বংশ পরম্পরায় পারিবারিক পরিমন্ডল আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত । তবে আমি ১৯৯৬ সালের দিকে নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্ত মরহুম নুরুল আমীন তালুকদারের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতি সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি । তিনি আমার সাদামাঠা কর্মময় জীবন ও সততার জন্য অতি আন্তরিকভাবে উঁনার সাথে রাজনীতি করার জানান । আমি উঁনার অমায়িক আচরণে সন্তুষ্ঠ বিএনপির রাজনীতির সাথে একাতœতা ঘোষনা করি । আমি কান্দিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দশ বছর দায়িত্ব পালন করি । বর্তমানে আমি কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি ।
এ সময় তিনি আরও বলেন- বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নিয়ে নির্বাচন করেই বিজয়ী হয়েছি। তবে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে “সবার উপরে মানুষ সত্য” এই কথাটিকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছি । এমনকি সকল দলের লোকজনের সাথে মিলেমিশে চলাফেরা করেছি । এখনো সামাজিকভাবে সকলের সাথে উত্তম আচরণ করার চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছি । সকল দলের লোকজনই আমাকে মনেপ্রাণে ভালবাসে এ আমার একান্ত বিশ্বাস । আমি আমার জীবনে মানুষের উপকার করার চিন্তাই করেছি । কখনো কারোও ক্ষতির চিন্তা করিনি ।
বর্তমানে আমার ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউডি সদস্যগণ আওয়ামীলীগের । তথাপি আমি সকল ইউপি সদস্যকে নিজের ভাইয়ের মত আপন ভেবে সকলের সাথে সমন্বয় সাধন করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি । শহীদুল্লাহ কায়সার আরও বলেন-আমি মনে করি,রাজনীতি যার যার,ইউনিয়ন সবার । তাই সকল দলের মানুষের সহযোগিতায় আমি আমাদের ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন করতে চাই । এজন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়াই একমাত্র আমার চলার পথের পাথেয় ।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে শহীদুল্লাহ কায়সারকে তার পারিবারিক জীবন সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করলে,তিনি বলেন-৩ ভাই,৩ বোনের মধ্যে আমি সবার বড় । ১৯৯৭ সালে পারিবারিকভাবে খালিয়াজুরির জগন্নাথপুরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার হিসেবে খ্যাত মরম মেম্বারের জৈষ্ঠ্য কন্যা মিনারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করি । আমাদের সুখী দাম্পত্য জীবনে আমি ৪ কন্যা সন্তানের জনক । বড় দুই মেয়ে কেন্দুয়া ডিগ্রী কলেজে অধ্যয়নরত । তৃতীয় কন্যা ক্লাস এইটে ও সবার ছোট মেয়ে প্লে-তে অধ্যয়নরত ।
এছাড়াও তিনি এ সময়, আরও বলেন-আমার জীবনে আমি অভাববোধ করিনি । আর কাউকে অভাবে থাকতে দেখলে আমার খুব মায়া হয় । আমার অগাধ ধন-সম্পতির বেশীরভাগই আমি মানুষের সেবার লক্ষ্যে ব্যয় করেছি । আমি আগামীদিনে চেয়ারম্যান নাও থাকতে পারি । পরবর্তীতে যারাই চেয়ারম্যান হবেন,তাদের প্রতি আমার উপদেশ থাকবে-তারা যেন এলাকার উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে মিলেমিশে কাজ করেন । তবেই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে ।
অন্য একপ্রসংগে তিনি বলেন- সহজ-সরল মানুষ হিসেবে আমাকে বর্তমান সরকারের দলীয় নেতাকর্মীরাও খুব ভালবাসে । জনসেবার পাশাপাশি আমি প্রতিনিয়ত ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করি । ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলার চেষ্ঠা করি ।
পরিশেষে তিনি বলেন-আধ্যাত্মিক ভাবধারা আমার মাঝে বিরাজিত থাকায় অনেক সময়ই শরীয়ত.মারফত ,মুর্শিদী ও গভীর তত্বের সংগীত শ্রবণেও মন টানে । তবে মরার পরেও যেন কর্মগুনে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারি, সেজন্য আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জনমানুষের উপকার ও সেবা করে যেতে পারি-এটাই আমার সাদামাঠা কর্মময় জীবনের প্রত্যাশা ।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 527 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com