কেন্দুয়ায় প্রেমের বিয়ের ৫ মাসের মধ্যেই স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী হাসপাতালে

Print

মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল ॥ নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় প্রেমের বিয়ের ৫ মাসের মধ্যেই পাওয়ার ট্রিলার কেনার জন্য বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে না দেওয়ায় প্রেমিক স্বামীর নির্যাতনে প্রেমিকা স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে । নির্যাতনের শিকার সালমা আক্তার (১৮) নামে এক স্ত্রীকে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে । এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ডুমদী গ্রামে এবং নির্যাতিতা সালমা আক্তার একই ইউনিয়নের ঝাইরকোনা গ্রামের হাদিস মিয়ার মেয়ে।

নির্যাতিতা ও তার পিতা-মাতার সাথে কথা বলে জানা যায় , প্রেমের সম্পর্কের টানে মাস পাচেঁক আগে মেয়ের ( প্রেমিকার) মা-বাবার সম্মতি ছাড়াই সালমাকে বিয়ে করে একই ইউনিয়নের ডুমদী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে হৃদয় মিয়া।বিয়ের পর কিছুদিন গড়াতেই পাওয়ার ট্রিলার ক্রয়ের জন্য বাবার বাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দিতে স্ত্রী সালমার উপর চাপ সৃষ্টি করে স্বামী হৃদয়। এতে সালমা অসম্মতি জানালে তার উপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। এরই জের ধরে প্রায়শই স্ত্রী সালমাকে নির্যাতন করে আসছিল তার স্বামী। স্বামীর নির্যাতন সঁইতে না পেরে গত কয়েকদিন পূর্বে পাশর্^বর্তী গাড়াউন গ্রামে খালার বাড়িতে চলে যায়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য হিলাল উদ্দিন হিলালী সালমাকে টাকার জন্য আর নির্যাতন করবে না মর্মে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে এনে দেন। কিন্তু একদিন না যেতেই গত বুধবার সকালে স্বামী হৃদয় আবারও সালমার উপর নির্যাতন শুরু করে। এ সময় সালমাকে বেদড়ক মারপিট করে আহত করে এবং যাতে সে চিৎকার চেঁচামেছি না করতে পারে সেজন্য স্বামী হৃদয় সালমার গলা চেপে ধরে।

এ বিষয়ে উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কল্যাণী হাসান নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়। এ ঘটনায়দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানাই।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে -চিকিৎসাধীন নির্যাতিত সালমা আক্তারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বাবা-মার অসম্মতিতে হৃদয় আমাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই পাওয়ার ট্রিলার ক্রয়ের জন্য সে আমাকে বাবার বাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকে। কিন্তুআমি টাকা এনে দিতে না পারায় হৃদয় প্রায় প্রতিদিনইআমাকে মারপিট করে। মঙ্গলবার রাতের বেশির ভাগ সময় আমার গলা চেপে ধরে ও শ^াসরোধ করে আমার উপর নির্যাতন চালায় হৃদয় এবং বুধবার সকালে আমাকে বেদড়ক মারপিট করে। পরে খবর পেয়ে সালমার মা মনোয়ারা আক্তার স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার আহত মেয়েকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

চিকিৎসাধীন সালমা আক্তারের পিতা হাদিস মিয়া জানান-আমি আমার মেয়েকে নির্যাতনকারী পাষন্ড হৃদয়ের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনের সহযোগিতা চেয়ে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 352 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com