কেন তাবলীগ জামাতের এই সংঘর্ষ?

Print

অনেকেই তাবলীগের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের কারন জানতে চাইছেন, তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত ভাবে সংঘর্ষের কারন বর্ননা করা হলঃ সংঘর্ষের মূল চরিত্র বা দায়ী অনেক টা ভারতের নিজামউদ্দিনের মাওলানা সা’দ ই। কেননা তিনি কুরআন ও হাদিস নিজের মনগড়া ব্যাখা প্রদান করছেন আর উনিই তার কথাকেই চূড়ান্ত বলে দাবি করছেন। তার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম স্বর তোলেন ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা। তারপর আসতে আসতে সমগ্র ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্থান সহ বিশ্বের সকল ওলামায়ে কেরাম তার মিথ্যাচারের বিরুদ্ধ স্বর তোলেন আর এবং তাকে তাকে দাওয়াতে তবলীগের মুরব্বী থেকে বাজেয়াপ্ত করেন। কিন্তু মাওলানা সা’দ নিজেকে একা একাই মুরব্বী দাবি করছেন এবং তিনি ও তার অনুসারীরা এখন আলাদা ভাবে তাবলীগের মেহনত শুরু করেছেন। উনি সম্পূর্ন ওলামায়ে কেরামদের সমাজের বিরুদ্ধে চলছেন ও উল্টা-পাল্টা ফতোয়া দিচ্ছেন আর উনার অনুসারীরাই আজ কয়েকদিন যাবত টঙ্গীতে জোট হয়ে জোড় করছেন।। তাই আজ তাদের হটাতে আজ এ সংর্ঘষ।

সা’দ সাহেবের বিভ্রান্তিকর উক্তি সমূহঃ
১. বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা করার সময় তিনি বলে থাকেন, মুফাসসিরীনগণ এই আয়াতের এক তাফসীর করে থাকেন। আমি এই আয়াতের তাফসীর এভাবে করি, এটা শুনো, এটা সঠিক তাফসীর। মনোযোগ দিয়ে শুনো। মনোযোগ দিয়ে শুনো। (জমহুর মুফাসসিরীনদের বিপক্ষে গিয়ে নিজস্ব আঙ্গিকে কুরানের তাফসীর করতেন। যেটা সম্পূর্ণরূপে ভুল।)
২. ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল রাখা হারাম। কারো পকেটে ক্যামেরা বিশিষ্ট মোবাইল রেখে নামায পড়লে তার নামায শুদ্ধ হবে না।
৩. যেই উলামায়ে কেরাম ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল রাখেন, তাঁরা উলামায়ে ছূ। বারবার কসম করে বলেন, তাঁরা হলেন উলামায়ে ছূ। এমন আলেমরা হল গাধা।
৪. মোবাইলে কুরআন শরীফ পড়া এবং শোনা, প্রস্রাবের পাত্র থেকে দুধ পান করার মতো। উনার শব্দ হলঃ পেসাবদানী ছে পানি পিনা হাঁয়’।
৫. কুরআন শরীফ শিখিয়ে যাঁরা বেতন গ্রহণ করেন, তাঁদের বেতন বেশ্যার উপার্জনের চেয়ে খারাপ। যেই ইমাম এবং শিক্ষকরা বেতন গ্রহণ করেন, তাদের আগে বেশ্যারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
৬. মাদরাসাগুলোতে যাকাত না দেয়া হোক। মাদরাসায় যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে না। সারা আলমের মাদরাসাগুলো যাকাত নিয়ে হারাম কাজ করতেছে।
৭. রাসূল (স.)এর পর কেবল তিনজনের বাই’আত পূর্ণতা পেয়েছেন, বাকী সকলের বাই’আত অপূর্ণ। তিন জন হলেন; শাহ ইসমাঈল শহীদ (রাহ.), মাওলানা ইলিয়াছ (রাহ.) ও মাওলানা ইউসূফ (রাহ.)।
৮. তিনি আজমগড়ের ইজতিমায় একাধিকবার সুন্নাতকে তিন প্রকার বর্ণনা করেছেন- ইবাদাতের সুন্নাত, দাওয়াতের সুন্নাত এবং আচার-আচরণের সুন্নাত। এটা তার নতুন উসুল।
৯. দাওয়াতের পথ নবীর পথ, তাছাউফের পথ নবীর পথ নয়।
১০. আযান হল-তাশকীল। নামায হল-তারগীব। আর নামাযের পরে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া হল-তারতীব। তাশকীল অর্থ; প্লান, পরিকল্পনা। তারগীব অর্থ; উৎসাহ প্রদান। লক্ষণীয় যে, এই কথার মাধ্যমে তিনি নামাজকে এবাদতে মাকসূদা থেকে বের করে দিচ্ছেন। ঠিক যেন মওদুদী সাহেবের “তাফহীমাত এর উদ্ধৃতি। তারতীব অর্থ; কাজ বাস্তবায়ন।
১১. রাসূল (সা.) দাওয়াত ইলাল্লাহ’র কারণে ইশার নামায দেরীতে পড়ছেন। অর্থাৎ নামাযের চেয়ে দাওয়াতের গুরুত্ব বেশি।
১২. হযরত ইউসূফ (আ.) ‘উযকুরনী ইনদা রাব্বিক’ বলে গাইরুল্লাহ’র দিকে নযর দেয়ার কারণে অতিরিক্ত সাত বছর জেলখানায় থাকতে হয়েছে।
১৩. হযরত মুসা (আ.) দাওয়াত ছেড়ে দিয়ে কিতাব আনতে চলে গেছেন। দাওয়াত ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে পাঁচলক্ষ সাতত্তর হাজার লোক মুরতাদ হয়ে গেল।
১৪. হযরত যাকারিয়া (আ.) আল্লাহকে বাদ দিয়ে গাছের কাছে আশ্রয় চাইলেন ফলে শাস্তি ভোগ করতে হল।
১৫. হযরত মূসা আ. থেকে এক বড় ভুল হয়েগেছে (এই ইবারতাটা হুবাহু মওদুদী সাহবের ইবারত)। এবং তিনি অপরাধ করে বসছেন। এই জন্য তিনি ক্বওমকে ছেড়ে আল্লাহর সান্বিধ্য লাভের জন্য নির্জনতা গ্রহণ করলেন।
১৬. আমাদের কাজের (তাবলিগী) সাথে লেগে থাকা এবং মাওলানা ইলিয়াছ ও মাওলানা ইউসূফ সাহেবের কিতাব পড়বে, অন্য কোন কিতাব পড়বে না।
১৭. হযরত মূসা (আ.) কর্তৃক একটি বড় ভুল হয়েছে যে, তিনি উম্মতকে ছেড়ে নির্জনতা অবলম্বন করেছেন।
১৮. হযরত মূসা (আ.) কর্তৃক হারুন আ. কে নিজের স্থলাভিষিক্ত বানানো উচিত হয়নি।
১৯. সকাল সকাল কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা এবং নফল নামায পড়ার একটা অর্থ বুঝে আসে কিন্তু আল্লাহ আল্লাহ জিকির করে কী অর্জন হয়? কিছুই হয় না।
২০. এ-তাবলীগই নবুওতের কাজ। এছাড়া দীনের যত কাজ আছে-দীনি ইলম শিখানো, দীনি ইলম শিখা, আত্মশুদ্ধি, কিতাবাদি রচনা করা; কোনটাই নবুওয়াতী কাজ না।
২১. মাদরাসার শিক্ষকগণ মাদরাসায় খিদমাত করার কারণে দুনিয়াবী ধ্যান্দায় জড়িয়ে পড়েছেন এই জন্য তাদের দীনের মেহনতে সময় দেয়া দরকার।
২২. কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা বান্দাকে জিজ্ঞাস করবেন, তা’লীমে বসেছিলে কি না, গাশত করেছিলে কি না?
২৩. প্রত্যেক সাহাবী অপর সাহাবীর ‍বিরুদ্ধাচরণ করছেন। অথচ আল্লাহ তা’য়ালা বলছেন-
و ألف بين قلوبكم فأصبحتم بنعمته إخوانا.
২৪. হিদায়েতের সম্পর্ক যদি আল্লাহর হাতে হতো, তাহলে নবী পাঠাতেন না। অথচ রাসুল (সা.) বলছেন- من يهدي الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له
২৫. আপনাদের কাছে সবচাইতে বড়গোনাহ চুরি-যেনা। এর চাইতে বড় গোনাহ হল, খুরুজ না হওয়া। তাই হযরত কা’ব ইবনে মালেকের সাথে পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হয়। (ইস্তেদলালের নমুনা দেখেন।)
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাদের সাথে থাকব আমরা ?? সমস্ত ওলামায়ে কেরামদের সাথে নাকি একা একা নিজেকে জামাতের নেতা মনে করা সা’দ সাহেবের সাথে

 

 

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 25 বার)


Print
bdsaradin24.com