কেলেঙ্কারি ফাঁস হয় শাস্তির খবর নেই

Print

ভিক্ষুকমুক্ত জেলা গড়তে গিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন জামালপুরের সদ্য সাবেক হওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীর। সততার জন্য এ বছরই পেয়েছিলেন বিভাগীয় ‘শুদ্ধাচার পদক’। কিন্তু সবই গেছে নারী অফিস সহায়কের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। গতকাল রবিবার তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে ন্যস্ত করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। ডিসি কবীরের এ অনৈতিক কা-ের পর কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, প্রশাসনে এমন ঘটনা নতুন নয়, নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না দিতে পারলেও তা দিন দিনই বাড়ছে বলে তাদের ভাষ্য। ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্তদের কেবল ওএসডি করা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে কী শাস্তি হয়, সেটি আর জানা যায় না। তবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে অনাকাক্সিক্ষত এসব ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড ও ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যাতে ডিসি আহমেদ কবীরকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই

বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। তবে শুক্রবার সকাল থেকে ওই আইডিতে তা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। যদিও ততক্ষণে মেসেঞ্জারে ভাইরাল হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে। ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ধারণ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩ আগস্টের। ডিসি কবীর অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এ ঘটনাকে বানোয়াট বলছেন। বিপর্যস্ত কবীর ভিডিওর বিষয়ে বলেন, ‘এটি একটি সাজানো ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করলেও গুরুত্ব দেইনি। এর পরই বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।’ তবে ভিডিওতে দেখানো কক্ষটি অফিসের ভেতরে তার বিশ্রামাগার এবং ওই নারী নিজ কার্যালয়ের অফিস সহায়ক বলে স্বীকার করেন তিনি।

আপত্তিকর আচরণের ঘটনায় আহমেদ কবীরের শুদ্ধাচার সনদ কেড়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এদিকে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) ড. মুশফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। ঘটনা তদন্তে আরও থাকছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন প্রতিনিধি। তবে সদস্যরা কেউ উপসচিব পদমর্যাদার নিচে হতে পারবেন না।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে উদাহরণ সৃষ্টির মতো শাস্তি হবে। অন্য কোনো কর্মকর্তাও যদি এসব অনৈতিকতায় জড়ান, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।’

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 58 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com