কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জাবির ১ম দিনের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

Print
মোঃ রায়হান চৌধুরী, জাবি প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম দিনের ভর্তি পরীক্ষা কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ( ‘এ’ ইউনিট) প্রথম শিফটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ ভর্তি যুদ্ধ শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল ৫টায়।
গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, “আজ পাঁচটি শীফটের পরীক্ষায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। মঙ্গলবার এই ইউনিটের বাকি তিনটি শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।”
বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে দায়িত্বরত শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের সাথে তিনি পরীক্ষার সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো.আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মঞ্জুরুল হক সহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটসহ আরো অনেকে।
এদিকে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও কিছু অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী ও দায়িত্বরত শিক্ষকরা। পরীক্ষা কক্ষে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রায় দুই ঘন্টা ভোগান্তির শিকার হন তারা। এতে করে পরীক্ষার্থীরা কক্ষে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন নি বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত কয়েকজন শিক্ষক।
ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন শিফটে পরিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের ২০-৩০ মিনিট পরেও ঢুকতে দেখা যায়। অনেক পরীক্ষার্থী যানজটের কারণে দেরিতে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেছেন বলে জানান। তাদের মধ্যে একজন মারুফ হাসান (পরীক্ষার রোল: ১৩১১৩৫)। তিনি সিলেট থেকে এসেছেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর তিনি পরীক্ষা হলে প্রবেশ করেন। তার দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে রাস্তায় প্রচন্ড যানজটের কথা বলেন। এরকম মারুফ হাসানের মতো অনেক পরীক্ষার্থী ঠিক সময়ে আসতে পারেন নি।
পরীক্ষার্থীরা দেরিতে আসলে তাদেরকে কোন বিবেচনা করা হবে কি না জানতে চাইলে এক কর্তব্যরত শিক্ষক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অপেক্ষা করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে আমরা পরীক্ষার্থীর মানবিক দিক বিবেচনা করে ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করি।
এছাড়াও অনেকে শিফট ভুল করে অন্য শিফটে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী কেউ শিফট ভুল করে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করলে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পরীক্ষার্থীকে দায়িত্বরত সমন্বয়কারীর কাছে অবস্থান করতে হয়। কিন্তুু অনেক পরীক্ষার্থীকে শিফট ভুল করে ভিতরে প্রবেশ করে অবাধে চলাফেরা করতে দেখা যায়।
গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনে চতুর্থ শিফটের রামিম হোসাইন নামে একজন পরীক্ষার্থী দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা পড়েন। পরে দায়িত্বরত শিক্ষক তার প্রবেশপত্র ও উত্তরপত্রসহ তাকে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন। পরে নির্ধারিত সময় শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে কিছু অব্যবস্থাপনা থাকলেও পরীক্ষার্থীদের নানারকম ভোগান্তির কবল থেকে রক্ষা করতে বিএনসিসি এবং স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের তৎপরতা চোখে পড়েছে। যোগাযোগ করা যায় এমন যে কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ ছিল বরাবরের মতই নিষিদ্ধ।
এছাড়াও ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোট ১৫৬ জন সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশ রয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা রাখাও হয়েছে। এছাড়াও ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বত্র দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

 

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 179 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com