ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া নিষিদ্ধ লীগ অাইসিএল।

Print

 

২০০৮ সালে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে চালু হয় ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ। অর্থের ঝনঝনানি দেখে বহু দেশের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটাররা এই লিগ খেলতে পাড়ি জমায় ভারতে। নিজ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই খেলতে যাওয়া এই সকল ক্রিকেটাররা পরবর্তীতে সম্মুখীন হন নিষেধাজ্ঞার।

২০০৫ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, ধীরে ধীরে ক্রিকেট বিশ্বে টি২০ ম্যাচগুলো জনপ্রিয় হতে থাকে, ২০০৮ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব ভারতীয় বোর্ডের অনুমতি ব্যতীত নিজ উদ্যোগে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ বা আইসিএল চালু করেন, সেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দুটি আলাদা দল অংশগ্রহণ সহ ভারতের ৭টি দল মিলিয়ে ৯টি দল অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ থেকে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে তারকা ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিজ, আফতাব আহমেদ, নাজিমুদ্দিন,

অলক কাপালি, মোহাম্মদ রফিক, ধীমান ঘোষ, তাপশ বৈশ্য, ফরহাদ রেজা, মোশাররফ হোসেন রুবেল ও নাজমুল হাসান মিলন সহ ১৪জন ঢাকা ওয়ারিয়র্স নামাকরণে আইসিএলে অংশগ্রহণ করে, আইসিএল বিসিসিআই স্বীকৃত না হওয়ায় গোপনেই ক্রিকেটাররা দেশ ত্যাগ করেন, এর ফলে মুহুর্তেই তারকা ক্রিকেটার শুণ্য হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট।

বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেটাররা খেলতে যাওয়ার পেছনে টাকা মূল কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়। ক্রিকেটারদের থেকে এই বিষয়ে পরিস্কার কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও অলক কাপালির বক্তব্য মতে এশিয়া কাপে ভারতের সাথে ৮৫ বলে দূর্দান্ত সেঞ্চুরী করে বেশ কিছুদিন জাতীয় দলে খেলার পরও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে কাপালিকে অন্তর্ভূক্ত না করায় হতাশ হয়েই কাপালি আইসিএলে গমন করেছেন মর্মে জানা যায়। অপর ক্রিকেটারদের মধ্যে শাহরিয়ার নাফিজ, ফরহাদ রেজা, নাজিমুদ্দিন, ধীমান ঘোষরা জাতীয় দলে সে সময়ে চরম ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ হয়ে আইসিএলে চলে যান মর্মে ধারণা করা হয়।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড উক্ত টুর্নামেন্ট অনুমোদন না দেওয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় আইসিএলকে এবং কপিল দেবকে। সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ১৪ জন ক্রিকেটারকেও বিসিবি ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে আবেদনের মাধ্যমে ২ বছরের মধ্যেই শাস্তি সম্পন্ন করেন হাবিবুল বাশার এবং শাহরিয়ার নাফিজ, ফরহাদ রেজা, অলক কাপালি, আফতাব আহমেদ, মোশাররফ হোসেন রুবেল পুনরায় জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।

আইসিএলের লোভেই ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে বহু ক্রিকেটারের। এক সময়ের সফলতম অধিনায়ক হাবিবুল বাশার তো আইসিএল থেকে ফিরেই নিয়ে নিলেন অবসর। ধীমান ঘোষ কিংবা মোশাররফ রুবেলরাও হারিয়ে গেলেন কালে অতল গহ্বরে। এক সময়ের দুর্দান্ত অলরাউন্ডার অলক কাপালির ক্যারিয়ারটাও থমকে দিয়েছিল আইসিএল। তবে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল আফতাব আহমেদ।

অনেকের মতে, আফতাব আহমেদের মতন কোন ক্রিকেটার এখনো আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেটে। ব্যাত-কিংবা বল হাতে বহু ম্যাচ জেতানো আফতাব নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরলেও তাঁর দুর্দান্ত ফর্মটা ফেরেনি কখনও। তাইতো অনেক আক্ষেপ নিয়েই মাত্র ২৯ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের ইতি টানেন এই সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার।

বাংলাদেশের ক্রিকেটার বাদেও বহু ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে এই লিগের মাধ্যমে। নিউজিল্যান্ডের শেন বন্ড, পকিস্তানের মোহাম্মদ সামি কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার জাস্টিন কেম্প। সবার ক্যারিয়ার ধ্বংসের পেছনের কারণ হিসেবে আইসিএলকেই দায়ী করা হয়

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 80 বার)


Print
bdsaradin24.com