খাদ্যে ভেজালকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘নরম কোমল’ শাস্তির ব্যবস্থা!

Print

খাদ্যে ভেজাল দেওয়ায় প্রাণ, এসিআই, সিটি ওয়েল মিল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলসহ ১৮টি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু খাদ্যপণ্যে ভেজাল থাকার বিষয়টি মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থা বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছে।

বুধবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য আদালতে মামলা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির।

বুধবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে খাদ্য আদালতে মামলাটি করেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬ ধারায় পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ আনা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

তবে যে ধারায় মামলা করা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি এসব বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণ হলে সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা এবং সর্বনি¤œ তিন লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। সেই সঙ্গে এক থেকে তিন বছরের কারাদ- হতে পারে। উভয় দ- হওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগ জমা পড়ার পর আদালত কী বলেছে- জানতে চাইলে কামরুল হাসান বলেন, ‘আগামী ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ অনেক তারিখ আছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা তাদের জবাব দেবেন।’

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ‘এত বড় কোম্পানির ছয় লাখ টাকা জরিমানা কোনো ব্যাপার না। আমরা একে বলব- নরম, কোমল, মোলায়েম, আরামপ্রদ শাস্তি। এত বড় কোম্পানির পক্ষে এটা কোনো শাস্তি হলো? আসলে আমাদের কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের পক্ষে, ভোক্তাদের পক্ষে না। এটা নানা সময় তারা প্রমাণ করে। এই ধারায় মামলা এটা নতুন উদাহরণ আর কিছু নয়।’

আমলারা কীভাবে ব্যবসায়ীদের পক্ষে তার উদাহরণ দিতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ এই অধ্যাপক বলেন, ‘১৯৫৯ সালের বিশুদ্ধ খাদ্য আইনে খাদ্যে ভেজালের জরিমানা ছিল ১০০ থেকে ২০০ টাকা। তখনকার সময়ে এই জরিমানাটা বেশ বড় অংকের ছিল। তবে ২০০৫ সালে এটা যখন সংশোধন হয়েছে, আমরা বলেছিলাম শাস্তি বাড়ানো দরকার। সরকার অনেক ঢাক ঢোল পিটিয়ে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ জরিমানা করেছে আড়াই হাজার টাকা। এটা রীতিমতো রসিকতা ছিল। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমলাদের আঁতাত লুকনো থাকলো না। এরপর এরপর নিরাপদ খাদ্য আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন হলো। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমলাদের এক শ্রেণির সখ্যটা কাল হয়েছে। তারা এত কম শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে যে, সর্বোচ্চটা পেলেও ব্যবসায়ীদের কষ্ট না হয়।’

অধ্যাপক ফারুক বলেন, ‘কারণে এমন জরিমানা হতে হবে যে, সারা জীবন মনে রাখবে। নইলে তারা ভয় পাবে না। পশ্চিমা দুনিয়ায় তাই হয়। নিদেনপক্ষে মালয়েশিয়ার দিকে তাকালেও তো হয়।

মোট ৫২টি পণ্যে ভেজাল থাকার প্রতিবেদন পেয়ে গত ১২ মে এসব পণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 26 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com