ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ মে ২০২২
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ইতিহাস ঐতিয্য
  3. ইসলাম
  4. কর্পোরেট
  5. খেলার মাঠে
  6. জাতীয়
  7. জীবনযাপন
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. দেশজুড়ে
  10. নারী কন্ঠ
  11. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  12. ফার্মাসিস্ট কর্নার
  13. ফিচার
  14. ফ্যাশন
  15. বিনোদন

গরীবের পুষ্টিতেও টানাটানি

আনোয়ার বারী পিন্টু
মে ৩১, ২০২২ ৮:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পুষ্টিকর খাবারের সাথে দিন দিন মানুষের দুরত্ন বেড়ে চলছে। বিশেষ করে পুষ্টির সাথে গরীবের যোজন যোজন দুরত্ম্ন তৈরী হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে সাধারণ পুষ্টিকর খাদ্য বলতে ডিম আর ডাল’কেই বোঝাতো। কিন্তু সহজলভ্য ডিম আর ডাল এখন গরীবের হাতের নাগালের বাইরে। সপ্তাহে একদিন বাজার থেকে মাছ কিনে প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা মেটাতো তা নিয়েও এখন বড় বিপাকে তারা। হাতে একটু টাকা জমলেই যারা মাসে দু একবার মাংস কিনে খেতো তাদের কাছে মাংসের বাজার এখন দুঃস্বপ্নের মতো। সুষম খাবারের গুরুত্ব মানবদেহের জন্য অপরিসীম। প্রতিনিয়ত নির্দিষ্ট পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ না করলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় সেই সুষমখাবার খাদ্য তালিকা থেকে মানুষ অনেক দুরে সরে যাচ্ছে।  বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সমাজে পুষ্টি খাবার এখন আকাশকুসুম এক কল্পনার নাম হয়ে উঠেছে। ক্রমেই মানসম্পন্ন খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার শঙ্কা আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপেও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগার তথ্য উঠে এসেছে।

এ অবস্থায় নানারকমের রোগ ব্যাধীসহ একটি পুষ্টিহীন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদরা।

বাংলাদেশ বুলেটিনকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ জানান, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আমিষ রয়েছে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শিমের বিচি ও ডালে। শাকসবজি ছাড়াও ফলমূল রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবগুলোর দামই বাড়ছে জ্যামিতিক হারে।

কয়েকদিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে মসুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা। দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে। আর হাইব্রিড মাঝারি মসুর ডালের দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডাল ১২৫-১৩০ টাকা, খেসারি ৮০-৮৫ টাকা ও এ্যাংকর ডাল ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে রুই মাছের কেজি ৩২০ টাকার ওপরে, ছোট মাছের মধ্যে মলা মাছের কেজি ৪০০ টাকা। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। সোনালী (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়।

বর্তমানে গরুর মাংস ৬৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে কোথাও কোথাও ৬২৫ টাকা কেজি। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে।
প্রকারভেদে সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজিতে। আর লাল আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে। এর আগের সপ্তাহে সাদা আলু বিক্রি হয়েছিল ১৫ টাকা কেজিতে। আর লাল আলু বিক্রি হয়েছিল ২০ টাকা কেজিতে। অর্থাৎ সাদা আলু কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। আর লাল আলুর দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। রমজানের আগেই আলুর দাম আরও বাড়ার শঙ্কা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের।

বাজারে সজনে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। একমুঠো শাকের দাম সর্বনিম্ন ২০ টাকা, করল্লা ৯০ টাকা, ছোট সাইজের লাউ ৬০ টাকা, ফুল কপি ৪০ টাকা, পাকা টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, শিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা,  শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা,  গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

ফলের বাজারেও একই দশা। আনার এক কেজি ২৬০ টাকা, মাল্টা ১৬০ টাকা, আঙ্গুর ২০০ টাকা কেজি, আপেল ১৬০ টাকা। দেশি ফলের দামও অনেকটা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এসবের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল , ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মুরগির  দামের বাড়বাড়ন্ত অবস্থা।
এ অবস্থায় পুষ্টিহীন প্রজন্ম গড়ে ওঠার পাশাপাশি অসুস্থ্য ও নানা ঘোত্রের প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়ে যেতে পারে।

জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী,  মানুষের দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য কেবল ভাত-মাছ হলেই যথেষ্ট নয়। এর সাথে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের খাদ্য তালিকায় দুধ ও দুধ জাতীয় খাবার দৈনিক ১৫০ থেকে ৪৫০ মিলি, ফলমূল ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম এবং চিনি ১৫ থেকে ২৫ গ্রাম থাকতে হবে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২৭০ থেকে ৪৫০ গ্রাম চাল, আটা, ভুট্টা গ্রহণ করা উচিত। সঙ্গে ৩০০ থেকে ৬০০ গ্রাম শাকসবজি এবং ১৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম মাছ, মাংস, ডিম খেতে হবে।  এছাড়া সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিলি তেল ও চর্বি এবং ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম ডাল জাতীয় খাদ্য খেতে হবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ খাদ্য সম্মেলনের আগে ইউনিসেফের প্রকাশিত ‘ফেড টু ফেইল? দ্যা ক্রাইসিস অব চিলড্রেন্স ডায়েটস ইন আর্লি লাইফ’  শীর্ষক  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য, অসমতা, সংঘাত, জলবায়ু-সংক্রান্ত দুর্যোগ এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিশ্বে সবচেয়ে কমবয়সীদের মাঝে বিদ্যমান পুষ্টি সংকটকে প্রকট করে চলেছে।

এছাড়াও ফুড সিকিউরিটি নিউট্রিশনাল সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম (এফএসএনএসপি) থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রায় আড়াই কোটির বেশি মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, এর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি বিষয়ক ফুড সিকিউরিটি নিউট্রিশন সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম এর গবেষণা বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভেতরে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে । একইসঙ্গে বাংলাদেশের মায়েদের এক-তৃতীয়াংশ অপুষ্টির শিকার এবং উচ্চতার তুলনায় তাদের ওজন কম বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডি।

বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় না। ফলে এ দেশের প্রতি ছয়জনের একজন পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাদের ভাগ্যে জুটছে না পর্যাপ্ত খাদ্য। গত এক দশকে বাংলাদেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে অন্তত ১০ লাখ। আর এই অপুষ্টির কারণ প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাব। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩০ লাখ। ২০১৮ সালে তা এসে দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখে। ২০১৯ সালে বিশ্বে ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিবিষয়ক’ এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপুষ্টির কারণে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের। স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি হলেও পুষ্টি পূরণের ক্ষেত্রে এখনও দেশ অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। ফলে পুষ্টির অভাবে শূন্য থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে শতকরা ৩৮ দশমিক ৭ ভাগ ছোট আকৃতির, ৩৫ দশমিক ১ ভাগ কম ওজনের এবং ১৬ দশমিক ৩ ভাগ শিশুর আকৃতি ছোট হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে জাতীয় অনুপুষ্টি সমীক্ষা দেখা যায়, বাংলাদেশে ৪০ শতাংশ কিশোরী রক্তস্বল্পতায় ভোগে। ৯ থেকে ১৪ বছরের কিশোরী মেয়েরা লৌহজাতীয় খাবার প্রয়োজনের তুলনায় ২০ শতাংশ কম খায়। আর মাছ-মাংস খায় শতকরা মাত্র ১০ জন।

এ বিষয়ে কথা হলে পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানান, ‘মানুষের খাবারে পুষ্টির গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। এমনিতেই সাধারণ মানুষের পুষ্টিবিষয়ে একটু অজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে বাজারে যদি মূল্যবৃদ্ধি হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ততটো হবে না যতটা স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন। এরপরেও মানুষের উচিত হিসেব করেও হলেও কিছু না কিছু সাধ্য মতো জেনে শুনে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা।’

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘মানুষের যদি ক্রয়ক্ষমতা না থাকে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ কমে যায়, পুষ্টি কমে যায়। পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হওয়ার কারণে পেছনে অনেকটা বৈশ্বিক বিষয় কাজ করে। সস্তার মধ্যে প্রোটিন আছে ডাল খাওয়া যেতে পারে, শর্করা হিসেবে ভাত, আটা, ময়দা আছে।  স্নেহ জাতীয় পদার্থের মধ্যে তেল কম খাওয়া যেতে পারে। ভিটামিনের জন্য দেশীয় ফলমূল যেগুলো আছে সেগুলো খাওয়া যেতে পারে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।