গুচ্ছ পদ্ধতিতে যেতে চায় ২১ কলেজ, আপত্তি নেই মন্ত্রণালয়ের

Print

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের ২১ শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী কলেজ।  এজন্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের সম্মতি ও দিক-নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় বিশ্ববিদ‌্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। আজ সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘শতবর্ষী সরকারি কলেজগুলোর বেশিরভাগই ঐহিত্যবাহী ও পুরনো। এসব কলেজে মেধাবী শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। তাই এসব কলেজের আগ্রহের কথা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।’

অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরেও (মাউশি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান বরাবরও চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, শতবর্ষী ১৩টি কলেজের মধ্যে রয়েছে, রাজশাহী কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রামের হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ, নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজ, বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ, পাবনার অ‌্যাডওয়ার্ড কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, খুলনার ব্রজলাল (বিএল) কলেজ, ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ, রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, বাগেরহাটের প্রফল­চন্দ্র (পিসি) কলেজ ও ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ।

তবে, রাজধানীর ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ শতবর্ষী হলেও এসব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। তাই ঢাবি থেকে এসব কলেজে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

আর ৮টি প্রাক-মডেল কলেজের মধ্যে রয়েছে  ঢাকা কমার্স কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, লালমনিরহাটের উত্তরবাংলা কলেজ, বগুড়ায় সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, টাঙ্গাইলে সখীপুর রেসিডেন্সিয়াল মহিলা কলেজ, কুষ্টিয়ায় দৌলতপুর কলেজ ও কিশোরগঞ্জে রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় ১৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছে। প্রাথমিকভাবে এই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ১৩টি শতবর্ষী কলেজ এবং আটটি প্রাক-মডেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা ১৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি।

এতে আরও বলা হয়েছে, সমন্বিত প্রক্রিয়ায় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে গত বছর রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠিত ১৩টি শতবর্ষী কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছিল। এটি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সুফলদায়ক হবে বলে সবাই ঐকমত্য প্রকাশ করেন। করোনাজনিত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠান করার কথা আমরা ভাবছি। এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সম্মতি চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ১৯ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যদি সেখানে যুক্ত হতে চায় তাদেরও স্বাগত জানাতে আমাদের আপত্তি থাকার কথা নয়।’ তারা ইউজিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে মন্ত্রণালয়  ব‌্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 122 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ