গ্রামে গ্রামে ঘুরে বয়স্কভাতার কার্ড প্রদান করছেন কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু

Print

মোঃ ইমরান সরদার,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:কলারোয়ায় ৭৭ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধার আজও বয়স্ক ভাতার কার্ড মেলেনি। এমন একটি সংবাদ প্রকাশের পর বয়স্ক ভাতার কার্ড মিলেছে অসহায় বৃদ্ধা রুপিয়ার ভাগ্যে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায় ০৪ নভেম্বর ২০১৯ সাতক্ষীরা হইতে প্রকাশিত দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকায় “কলারোয়ায় ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার আজও বয়স্ক ভাতার কার্ড মেলেনি” শিরোনামে খবর প্রকাশের পর কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু ঐবৃদ্ধাকে বাড়ি হতে ডেকে এনে বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দিলেন সংবাদ প্রকাশের দিনেই।

এ বিষয়ে মন্তব্য করে লাল্টু বলেন আমি দায়িত্বে এসেছি ৬ মাস হলো, কিন্ত কোন্ অদৃশ্য কারনে সংশ্লিষ্ট ঐ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান অসহায় এমন একজন বৃদ্ধাকে উপকারভোগী কার্ড করে দিতে পারেনি সেটা আমার বোধগম্য নয়। আমি হতবাক হয়েছি ৭৭ বছরের দৃষ্টিহীন বিধবা মহিলা কোন উপকারভোগীর আওতায় না আসায়। লাল্টু আরো বলেন- আমি এখন থেকেই পৌরসভা সহ ১২টি ইউনিয়নে খোজ খবর নিচ্ছি এধরনের আর কোন অসহায় ব্যক্তি অবহেলিত অবস্থায় আছেন কিনা- থাকলে অগ্রগন্য ভিত্তিত দল মত নির্বিশেষে তাদেরকে উপকারভোগীর আওতায় নিয়ে আসবো। জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা অনুযায়ী দলীয় করনের উদ্ধে থেকে সমবন্টন করবো।

নতুন বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রদান করার সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান স ম মোরশেদ আলী ভিপি, কেড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কেড়াগাছি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ভুট্টোলাল গাইন, কলারোয়া উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবু সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী, কলারোয়া উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শেখ ফারুক হোসেন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

বৃদ্ধা রুপিয়া খাতুন উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ন্যাশনাল আইডি কার্ড অনুযায়ী বয়স তার ৭৭ পেরিয়ে গেছে। স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২৫ বছর আগে। তার দুই ছেলেও মারা গেছে অনেক আগে। চোখে দেখতে পান না প্রায়, কানেও শোনে না। এতোগুলো সমস্যাও থাকা সত্ত্বেও আজও একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়া হয়নি তার নামে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসহায় জীবন-যাপন করছে রুপিয়া খাতুন। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত নানাবিধ রোগে। বর্তমানে তিনি তার মৃত ছেলেদের স্ত্রী ও নাতীদের সাথে থাকছেন।
নাতীরা চাষাবাদ করে সংসার চালান। কোন রকমে দিন চলে তাদের। এরই মধ্যে দাদির ওষুধ কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে তাদের।

বৃদ্ধা রুপিয়া খাতুনের নাতী জয়নাল আবেদিন জানান, দাদির অনেক বয়স হয়েছে। সবসময়ই নানারকম রোগ-শোকে ভুগছেন। তার জন্য ওষুধ কেনা লাগে প্রায় সময়। আবার বিভিন্ন সময় ভাল ভাল কিছু খাবার খেতে চান কিন্তু অর্থাভাবে কিনে দিতে পারিনা। এজন্য খুব খারাপ লাগে আমাদের। তার যদি একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড থাকতো তাহলে তার ওষুধ কেনাসহ বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করতে পারতাম। রুপিয়া খাতুনের পুত্রবধূ রাহিলা খাতুন জানান, ২৫ বছর আগে আমার শ্বশুর মারা গেছেন। কিন্তু আমার শ্বাশুড়ি বয়স্ক ভাতা কার্ড তো দুরের কথা আজও পর্যন্ত একটা বিধবা ভাতার কার্ড পাননি। আমরা কয়েকবার ছবি দিয়েছিলাম কিন্তু মেম্বর-চেয়ারম্যান কার্ড দেননি।

কার্ড হাতে পাওয়ার পর বৃদ্ধা রুপিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি চোখের পানি ফেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেছেন ।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 143 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com