ঘুড়ে এলাম জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে

Print

 

আসমাউল মুত্তাকিন (দিনাজপুর প্রতিনিধি) :ভ্রমন করতে কার না ভালো।ঢাকায় আমি নতুন।এই অজানা শহরটিকে জানতে মনটা ছটফট করছিল।মনে মনে ভাবছিলাম কোথায়ও একটা ঘুড়ে আসা যাক।কিন্তু কিভাবে কি হবে সেটা বুঝতে পারছিলাম না। কিছুই যেন আর ভালো লাগছিলো না।অবশেষে আমাদের ভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শ্রদ্ধেয় রফিকুরজাম্মান রোমান স্যারের সৌজন্য সেটা সফল হলো।তিনি বললেন “তোমরা ভার্সিটিতে নতুন,পড়ালেখার পাশাপাশি দেশের ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমন করা দরকার যাতে কারে বাংলাদেশ ইতিহাসটা সঠিকভাবে জানাতে পারো”।
স্থান ঠিক হলো সাভারে অবস্থিত আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। তারিখ ঠিক হলো ২৫শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার।বেড়াতে যাব বলো ২৪শে সেপ্টেম্বর রাতটা আমার কাটছিল না। মনে মনে ভাবলাম কখন রাতটা কাটবে কখন আমি সাভারে যাব।কারণ আমি এই প্রথম স্মৃতিসৌধে যাচ্ছি এর আগে কখনো যাওয়া হয়নি।অবশেষে ঘনিয়ে এলো সেই মহেন্দ্রক্ষণ। বিকাল ৫টার দিকে আসরের নামাজের পর আমার সহপাঠী ইমরানসহ রোমান স্যার,মামুন স্যার ও সুফিয়ান স্যার এবং আমাদের ভার্সিটির বড়ভাই তৌকির ভাই,ইয়াকুব ভাইদের সাথে নিয়ে মোট সাতজন আমরা স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রইনা দিলাম।খাগান বাজার থেকে অটোরিক্সা করে স্মৃতিসৌধে পৌছালাম।
স্মৃতিসৌধের ইতিহাস অনেকের অজানা তাই বলা হয়ে থাকে ১৯৭১’র ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। একই বছর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। এই যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়। এই সৃতিসৌধ বাংলাদেশের জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়ায়ের স্মরণে নিবেদিত এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সৃতিস্তম্ভ এবং এর প্রাঙ্গণের আয়তন ৩৪ হেক্টর (৮৪ একর)। এ ছাড়াও রয়েছে একে পরিবেষ্টনকারী আরও ১০ হেক্টর (২৪ একর) এলাকা নিয়ে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়। এই সৃতিসৌধ সকল দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের যুগলবন্দি রচনা করেছে। সাতটি ত্রিভুজ আকৃতি মিনারের শিখর দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি সূচিত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে চুয়ান্ন, ছাপান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মিনারটি ৪৫ মিটার (১৫০.০০ ফুট)উঁচু এবং জাতীয় শহীদ সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং বাগান। সৃতিসৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণ সমাধি। সৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, অভ্যর্থনা কক্ষ, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ক্যাফেটেরিয়া।

স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সর্বমোট আয়তন ৮৪ একর। স্মৃতিস্তম্ভ পরিবেষ্টন করে রয়েছে ২৪ একর এলাকাব্যাপী বৃক্ষরাজিশোভিত একটি সবুজ বলয়। স্মৃতিসৌধটির উচ্চতা ১৫০ ফুট। সৌধটি সাত জোড়া ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল নিয়ে গঠিত। দেয়ালগুলো ছোট থেকে ক্রমশঃ বড়ক্রমে সাজানো হয়েছে। এই সাত জোড়া দেয়াল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ধারাবাহিক পর্যায়কে নির্দেশ করে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ – এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসাবে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত হয়েছে।

রাতে দিকে স্মৃতিসৌধে লাইটিং ব্যবস্থা এত সুন্দর যা দূর থেকে মনে হয় রাতের জোনাকি পোকা স্মৃতিসৌধের গায়ে লেগে আছে।
ভ্রমন শেষে চা পান ও নাস্তা খেয়ে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্য রইনা দিলাম….!!!

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 217 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com