চলনবিলে বোনা আমনে পানির অভাবে বির্পযয়ঃ লোকসানের আশঙ্কা

Print
জেলা প্রতিনিধি, নাটোরঃ চলনবিলে চলতি মৌসুমে আমন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকেরা। পানি নিয়ন্ত্রিত কতিপয় মাঠ ব্যতীত অধিকাংশ অনিয়ন্ত্রিত মাঠগুলো থেকে ইতিমধ্যে বন্যার পানি নেমে গেছে। আমন ধান ফোলার সময় মাঠ থেকে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এ ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা। চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর সাথে যেসব ফসলী মাঠের সংযোগ খালগুলোর মুখে স্লুইজ গেট নেই সে সমস্ত মাঠে পানি ধরে রাখার মতো বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকাই মূলত এ ফলন বিপর্যয়ের কারণ। এ অবস্থায় চাষীরা বোনা আমন ধান আবাদে বিঘা প্রতি তিন হাজার টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। ইতোঃমধ্যে হাল্কা বৃষ্টিতে চাষীদের কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও লোকসান এড়াতে পারছেন না তারা।
চলনবিলের অধিকাংশ নদীই নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি পলি জমে ক্রমশই বিশালাকৃতির চলনবিল সংকুচিত হয়ে পড়ছে। নদী ও নদীর সাথে সংযুক্ত মাঠ খাল বিলের পানি ধারণ ক্ষমতা ও কমে গেছে। কিছু বিল ও নদীর সংযোগ খালের মুখে স্লুইজ গেট থাকায় সেসব বিল মাঠ গুলিতে ইচ্ছামত পানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারায় সেসব বিল বা মাঠ গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমান বোনা আমন ধান উৎপন্ন হলেও অধিকাংশ অনিয়ন্ত্রিত মাঠে বোনা আমন ধান গত কয়েক বছর যাবত ভাল হচ্ছে না। কোন কোন বছর বর্ষার শুরুতেই মাঠে অধিক পানি প্রবেশ করার ফলে কচি আমন ধানের চারা ডুবে যায় আবার কোন কোন বছর ধান ফুলে শিষ বের হবার পূর্বেই বিলের মাঠের সমস্ত পানি নিষ্কাশিত হয়ে বোনা আমন ধান শুকনোই পরে মারা যায়। এ সময় পোকা মাকড়ের আক্রমন ও বৃদ্ধি পায়।
চলতি বোনা আমন চাষ মৌসুমে ধানের শীষ বের হবার পূর্বেই চলনবিলের বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিংড়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, তাড়াশের হাজার হাজার হেক্টর জমি থেকে বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এসব এলাকায় আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বড়াইগ্রামের ভিটাকচুগাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম জানান, সাড়ে চার বিঘা জমিতে আজল দীঘা ধান রয়েছে তার। ধানগুলো ফুলতে না ফুলতেই জমি থেকে পানি চলে গেছে। ধান গাছগুলো শুকিয়ে বিবর্ণ হতে শুরু করেছে। ধানের গোড়ায় কয়েকদিন মাত্র পানি ছিল। ক্রমাগত রোদ হলে সব ধান হয়তো শুকিয়ে মারা যাবে। আর মাঝে মধ্যে বৃষ্টিপাত হলে বিঘা প্রতি তিন চার মণ হারে ধান পাওয়া যেতে পারে। ধারাবারিষা এলাকার কৃষক আব্দুল হাই জানান, বীজ বপনের সময় এক বিঘা জমিতে দুইবার চাষ দিতে ৬শ টাকা, বীজ বাবদ ৪২৫ টাকা, নিড়ানো বাবদ অন্তত ১৬০০-২০০০ টাকা, ডিএপি ও ইউরিয়া সার বাবদ ৪৫০ টাকা, ধান কাটা ও পরিবহন বাবদ ২ হাজার ৫শ টাকা, কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতো বোনা আমন ধান চাষে অন্তত ৬ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বৃষ্টি না হয়ে ক্রমাগত রোদ হলে ফলন একেবারেই কমে যাবে। কাছিকাটা গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, মৌসুমের শুরুতে মাঠে বন্যার কিছু পানি আসলেও কিছু দিন পরই মাঠ থেকে পানি নেমে যায়। পরে ধান ফোলার কয়েকদিন পূর্বে আবার মাঠে পানি প্রবেশ করতে না করতেই পানি কমতে থাকে। এখন মাঠের ধান ফুলছে কিন্তু ধানের গোড়ায় পানি নেই। অনেক জমিতে কোন ধানই হবে না। কোন কোন জমিতে বিঘা প্রতি তিন চার মণ হারে ধান হতে পারে যার বাজার মূল্য তিন হাজার টাকার বেশি নয়। সে হিসেবে এ এলাকার কৃষককে বিঘা প্রতি তিন হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।
বড়াইগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার ইকবাল আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে চলনবিলের কেবল বড়াইগ্রামে ৮ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে বোনা আমনের চাষ হয়েছে। জমি থেকে পানি চলে যাওয়ায় ধানের ফলন কিছুটা কম হবে।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 84 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com