চীনের সাথে ঋণচুক্তি হয়নি সাড়ে ৩ বছরেও

Print

প্রকল্প অনুমোদনের সাড়ে তিন বছর পার। আজো চীনের সাথে ঋণচুক্তি হয়নি। যার কারণে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের মূল কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। স্থবির হয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প।

এটি বাস্তবায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে সরকার ক্রেতা ঋণে আট হাজার ২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিচ্ছে। চীনের কারণে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধি পাচ্ছে তিন বছর। এই প্রকল্পে জনবলের বেতনের চেয়ে ভাতাদি মাত্রাতিরিক্ত। ৩১৭ জনের জন্য ভাতা ১১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

পিজিসিবি সূত্র জানায়, এক্সিম ব্যাংকের সাথে আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এখনো সুদ হার নিয়ে দরকষাকষি চলছে দুইপক্ষের মধ্যে। তবে এখন ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। ঋণচুক্তি না হওয়ায় প্রকল্পটি পিছিয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার বিদ্যুৎসহ বেশ কয়েকটি খাতে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ সহায়তা নিচ্ছে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণের শর্তগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।

ঋণের শর্তানুযায়ী সুদ প্রদানের পাশাপাশি প্রকল্পের সামগ্রিক যন্ত্রপাতি ও সব ধরনের মালামাল চীন থেকে আমদানি করা বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব তথ্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

ইআরডি ও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিজিসিবির নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, সঞ্চালন লাইন সংস্কার ও নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য ১৩ হাজার ৭০৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকার পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট নেয়া হয় ২০১৬ সালের নভেম্বরে। এটি চীনা প্রেসিডেন্টের সফরকালে করা সম্মতি স্মারকের তালিকাভুক্ত একটি প্রকল্প।

পাঁচ বছরে চীন বাংলাদেশে যেসব প্রকল্পে অর্থায়ন করবে পিজিসিবির এই প্রকল্পটি তার মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক। প্রকল্প ব্যয়ের ৯ হাজার ৭০৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা ১৩২ কোটি ১৮ লাখ ডলার চীন ঋণ হিসেবে দেবে।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আগামী ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সমাপ্ত করার কথা। কিন্তু ঋণচুক্তি না হওয়াতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩২৪ কোটি ২৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। কিন্তু এখন প্রকল্প সহায়তা কমেছে এক হাজার ৭৮০ কোটি টাকা বা ১৭.৩০ শতাংশ।

বাস্তবায়নকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ সাত বছর ৯ মাসে উন্নীত করা হয়েছে চার বছর ৯ মাস থেকে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 113 বার)


Print
bdsaradin24.com