চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে বিদেশী মরিচ চাষ শুরু

Print

সালেকিন মিয়া সাগর,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি(১১-০৩-১৯):::
বাড়ীর ছাদের টবে কিংবা শখের বশে নয় এবার মালচিং ফিল্মি পেপার পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে চুয়াডাঙ্গায় চাষ করা হচ্ছে বিদেশী সবজি ক্যাপসিকামের। এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের সবজির চাষ করা হয়েছে। একটি গাছ থেকে একাধিকবার ফল পাওয়া ও অল্প সময়ে ফল বাজারজাতকরনের উপযোগী হওয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে চাষীরা। এছাড়া ক্যাপসিকামের বাজার দামও ভালো পাওয়ায় লাভের আশা করছে জেলার চাষীরা।

বাংলাদেশে ম‚লত ক্যাপসিকামের চাষ হয় বাড়ির ছাদের গাছের টবে কিংবা শখের বশে। কিন্তু এবার সৌখিনতা নয় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চুয়াডাঙ্গায় চাষ করা হচ্ছে বিদেশী সবজি ক্যাপসিকামের। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের এক খন্ড জমিতে এবারই প্রথম এ ধরনের আবাদ করা হয়। প্রথমে কিছুটা সংশয় থাকলেও ভালো ফলন ও চড়া বাজারদাম থাকায় কৃষকরা বেশ খুশি। এই ক্যাপসিকাম সালাত হিসাবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এ দেশে ক্যাসিকামের বেশি চাহিদা না থাকলে ও বিদেশে এর চাহিদা বেশ। এর আগে ক্যাপসিকাম বিদেশ থেকে আমদানী করতে হত। এখন আর আমদানী করতে হবে না। দেশেই এখন ক্যাপসিকাম পাওয়া যাবে।
গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আঃ কাদের জানান, ক্যাপসিকাম ম‚লত ঢাকা, রাজশাহী, চট্রগ্রাম ও বড় বড় শহরের শপিং মলে বাজারজাত করা হচ্ছে। ক্যাপসিকাম প্রতি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরোও জানান, প্রতি বিঘা ক্যাসিকাম চাষ করতে ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। ক্যাপসিকাম রোপনের ৬০-৭০ দিন পরে ফল পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে প্রায় সাড়ে ৪হাজার চারা রোপন করা যায় এবং প্রতিটি গাছ থেকে ১৫-১৬টি ক্যাসিকাম ধরে। এ ফল ৪-৫ মাস পর্যন্ত ফল ধরে। এক বিঘা ক্যাপসিকাম চাষ করে কৃষক ৪ লক্ষাধিক টাকার ও বেশী আয় করতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আশাদুল ইসলাম জানান, গাছ লাগানোর ২মাসের মাথায় ফল দেয়া শুরু করে ক্যাপসিকামের ছোট্ট এই গাছগুলো। একটি গাছ থেকে ফলও পাওয়া যায় বেশ কয়েকবার। সেসব ফল বিশেষ উপায়ে প্যাকেজিং এর মাধ্যমে পাঠানো হয় ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ক্যাপসিকামের দাম ভালো পাওয়ায় লাভের প্রত্যাশা করছে এই কৃষক।

এ জাতের বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এগ্রিকনসার্ন এর ম্যানেজার খাইরুল ইসলাম বলেন, প্রথম অবস্থায় কিছুটা ভীতি থাকলেও প্রত্যাশার তুলনায় ভালো ফলনে সে ভীতি কেটে গেছে। আগামীতে ক্যাপসিকাম চাষের ব্যপকতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে তারা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক স‚ফি রফিকুজ্জামান বলেন, বীজ রোপণের পর থেকেই ক্যাপসিকাম চাষীদের নানা ভাবে সহায়তা করেছেন তারা। এছাড়া জেলার অন্যান্য কৃষকদের এ চাষে আগ্রহী করতে উদ্বুদ্ধ করছেন তারা।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 111 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com