ছাত্রলীগের বেশিরভাগ সভাপতি-সম্পাদক আ.লীগে নেই!

Print

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৯০ পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের বেশিরভাগই বর্তমান আওয়ামী লীগে নেই। তাদের অনেকে নিজে দল গড়েছেন, কেউ অন্য দলে যোগ দিয়েছেন আবার কেউ কেউ বিএনপি-জাতীয় পার্টির মন্ত্রী হয়েছিলেন।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এ ছাত্র সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্রলীগ বাংলাদেশের বিভিন্ন অধিকার সংক্রান্ত আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন- এককথায় দেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অনবদ্য।

৭১ বছরের এই পথচলায় অসংখ্য নেতা-কর্মী ছাত্রলীগে যোগ দিলেও দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় শুরুর দিকে যারা সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেইসব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনেকে পরে আর রাজনীতিতে থাকেননি কিংবা আওয়ামী লীগের ঠাঁই হয়নি।

বঙ্গবন্ধুর সময়কার মন্ত্রী হওয়া ওবায়দুর রহমান পরবর্তী সময় বিএনপির মহাসচিব হয়েছিলেন। শাহ মোয়াজ্জেম জাতীয় পার্টির মন্ত্রী হওয়ার পর পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন। আ সম আব্দুর রব জাসদ গঠন করেন। শেখ শহীদুল ইসলাম জাতীয় পার্টির মন্ত্রী হয়েছেন।

ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা কে কোথায়

৫৫ সালে ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি দবিরুল ইসলামকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দ্বিতীয় সভাপতি কুষ্টিয়ার কামরুজ্জামান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি আমরণ আওয়ামী লীগ করেছেন।

‘৫৪’ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে সভাপতি হন আব্দুল মমিন তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক পদে দ্বিতীয় মেয়াদেও নির্বাচিত হন এম এ ওয়াদুদ। এম এ ওয়াদুদ (শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপুমনির পিতা) আওয়ামী লীগে সক্রিয়ভাবে কাজ না করলেও ইত্তেফাকের কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতিমন্ত্রী মরহুম আব্দুল মমিন তালুকদার ছাত্রলীগের দুই মেয়াদে সভাপতি ছিলেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এম এ আউয়াল। দুর্নীতির অভিযোগে আদমজী জুট মিলের ব্যবস্থাপকের পদ থেকে বরখাস্ত করেন। পরে তিনি জাসদে যোগ দেন এবং ৭৩ এর নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে জামানত হারান।

৫৭ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে সভাপতি হন রফিকউল্লাহ চৌধুরী। সিএসপি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে আমলাজীবন বেছে নেন। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ দেন, কিন্তু তিনি জ্যেষ্ঠতা ক্ষুণ্ন হবে মত দিয়ে কেবল সচিব হিসেবে নিয়োগ নেন। রফিকউল্লাহ চৌধুরী (স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পিতা) বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চাকরি হারান তিনি।

৬০ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে শাহ মোয়াজ্জেম সভাপতি এবং শেখ ফজলুল হক মনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 57 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com