জন্মদিন উদযাপিত হোক পরিশীলিতভাবে

Print

মোঃ তামজীদুল হক ফাহিম

সুন্দর এ পৃথিবীতে কোনো মানুষের আগমনের দিনটিই তার জন্মদিন। বহুল প্রতীক্ষিত এ দিনটি উদযাপিত হোক একটু আড়ম্বরপূর্ণভাবে এ যেন সবারই চাওয়া। কালের গর্ভে একটি বছর হারিয়ে যাওয়ার বেদনা উপেক্ষা করে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই আমরা সবাই। আর তার জন্য বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের আয়োজন ও উদযাপনের কমতি থাকে না।
.
খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে জন্মদিন উদযাপনের ইতিহাস শুরু হয় মিশরীয়দের মাধ্যমে। তারা তাদের ফারাওদের জন্মদিন বা সিংহাসনে আরোহনের দিনটি (এ নিয়ে ইজিপ্টোলজিস্টদের মাঝে বিতর্ক আছে) পালন করতো জাঁকজমকভাবে। ধারনা করা হতো এ দিন তারা মানুষ থেকে দেবতায় রুপান্তরিত হন। প্রাচীন গ্রীস এবং রোমেও জন্মদিন পালন করা হতো। ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুদের ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষ্যে জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়ে আসছে বহুকাল ধরেই। প্রাচীনকালে জন্মদিন উদযাপন শুধুমাত্র ধর্মীয় রীতি হিসেবে উচ্চবিত্তদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত সবাই তা পালনে আগ্রহী।
.
ইতিহাসের কচকচানি বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি এবার। আমরা আমাদের সমাজে কিভাবে জন্মদিন পালন করছি? সেটা কি আদৌ পরিশীলিতভাবে পালন হচ্ছে নাকি তার বিপরীত?
.
বর্তমানে উঠতি বয়সী কিশোর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুনদের মধ্যে জন্মদিন উদযাপনের একটি রীতি খুব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথমে যার জন্মদিন তার দুই হাত শক্ত করে গাছ বা কোনো কিছুর সাথে বাঁধা হয়। বেঁধে মাথায় পঁচা বা ভালো ডিম ফাটানো হয়। এবার আটা বা ময়দা মাখানোর পালা। বন্ধুরা হাতের মুঠোয় আটা নিয়ে ক্রমাগত তার দিকে ছুড়তে থাকে। ভাঙ্গা ডিমের উপর লেগে সারা গায়ে তা মেখে যায়।
.
এভাবে আটা ময়দা মাখানো কতটা শোভনীয় সে কথা যদি বাদও দিই তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায় এটি কতটা যুক্তিযুক্ত। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা কোনো ট্রেন্ড অন্ধভাবে অনুসরন করি। কারা চালু করলো, কোথা থেকে আসলো, সেটা ভালো কি মন্দ তা যাচাই বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে বলেও মনে করি না। আর বন্ধুমহলে যদি কেউ এসব ট্রেন্ডের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তাকে হয় খ্যাত না হয় আঁতেল উপাধি দিয়ে হাসির পাত্র বানাই।
.
এখন আসি এভাবে জন্মদিন উদযাপন করা কেন উচিত নয়। প্রথমত, আটা বা ময়দা চোখ বা নাকের ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। আটা ময়দা ডিমের সাথে মাখামাখি হয়ে নাকে ঢুকলে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে এবং তা হয়ও। এছাড়া অসতর্কতাবশত চোখে ডিমের খোসার ভাঙ্গা অংশ ঢুকে গেলে তা থেকে মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়ার জো নেই। এ সময় ঐ ব্যাক্তিটির কষ্ট করে দম নেওয়া দেখে তার বন্ধুরা মজা নেয়। বিষয়টি আমার কাছে অমানবিক মনে হয়। আর দেশে যেখানে অনেক দরিদ্র পরিবার দু বেলা দু মুঠো খাওয়ার জন্য কষ্ট করছে সেখানে এত ডিম ময়দা অপচয় করা কতটুকু যৌক্তিক?
.
‘জন্মদিন এভাবেই উদযাপন করতে হবে’ এ চিন্তা বাদ দিয়ে আমরা নিজেরাই ভালো কোনো ট্রেন্ড চালু করতে পারি। জন্মদিনে বন্ধুরা মিলে যত তম জন্মদিন ততটা গাছ লাগাতে পারি। পথশিশুদের শিক্ষার উদ্যোগ গ্রহন করতে পারি। তাদের অন্তত এক বেলা পেট পুরে আহারের ব্যবস্থা করতে পারি। স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে পারি। কোনো দরিদ্র পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে স্থায়ী কোনো ব্যাবস্থা (যেমন ভ্যান বা রিকশা কিনে দেওয়া, গরু ছাগল কিনে দেওয়া, ছোটখাটো ব্যাবসার ব্যাবস্থা করে দেওয়া ইত্যাদি) করে দিতে পারি। নিজের এলাকা পরিস্কার করার উদ্যোগ নিতে পারি।
.
হ্যাঁ, এতে হয়তো ট্রেন্ড অনুসরণ না করায় খ্যাত উপাধি পেতে হবে। তা হোক না। খ্যাত হয়ে যদি সমাজের একটু উপকারে আসা যায় ক্ষতি কি? ব্যাতিক্রমধর্মী এ উদযাপন যে এক সময় ট্রেন্ড হবে না তাই বা কে বলতে পারে। আর তাছাড়া এতে মানসিক প্রশান্তি তো নিঃসন্দেহে লাভ করা যাবে। জন্মদিনে এ প্রাপ্তিই কি কোনো অংশে কম?

 

লেখকঃ শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 191 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com