জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১আসনে সাইদ টুকু মোমেনকে নিয়ে চলছে নানা গুন্জন

Print

বাকী বিল্লাহঃ(সাঁথিয়া-বেড়া)পাবনা প্রতিনিধিঃআসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৬৮/১আসনের দিকে নজর সবার।এই আসনে আওয়ামীলীগ গনসংযোগ শুরু করলেও মাঠে নেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডঃ আবু সাইদ নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।বর্তমান সাংসদ শামসুল হক টুকুও রয়েছে নির্বাচনী প্রচারনার মাঠে। এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে সাইদ না টুকু তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এদিকে নির্বাচনী রাজনীতিতে সরকার বিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় এ এলাকার মানুষ ভাবছে আগামী নির্বাচন সব দলের অংশ গ্রহনেই হবে।দলের নিবন্ধন না থাকলেও ঐক্যফ্রন্টের সাথে থাকবে জামায়াত। পাবনা-১আসনে জামায়াতের নির্দিষ্ট ভোট থাকায় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র নাজিব মোমেন মনোনয়ন পাবেন বলে এমন ধারনা করছে এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ। তবে এ আসন থেকে জামায়াত মনোনয়ন পেলে নাখোশ হবে স্থানীয় বিএনপি। জোটগত ভাবে নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ ও জামায়াত থেকেই মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগ জামায়াত বিএনপি জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী রয়েছে। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সম্পুর্ণ ও বেড়া উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত পাবনা-১ আসন।সাঁথিয়া উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২লাখ ৭২ হাজার ৫ শত ৮২ জন।এখানে আওয়ামীলীগের ভোট বেশি।বেড়া উপজেলার ৪ টি ইউনিয়ন ১ টি পৌরসভা ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫ শত ৩৪ জন।এখানে বিএনপির ভোট বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটিকে বরাবরই গুরুত্বপুর্ন আসন বলা হয়ে থাকে।কারন স্বাধীনতার পর থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত যেই জয়ী হয়েছেন তাকেই সরকারের গুরুত্বপুর্ন জায়গায় রাখা হয়েছে। যদিও এ আসন থেকে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে ৩ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পেয়েছেন। তারা হলেন,পরিকল্পনা মন্ত্রী একে খন্দকার।প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান মির্জা আব্দুল জলিল।স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু।জিয়া সরকারের আমলে ১৯৮১সালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মির্জা আব্দুল হালিম।এরশাদ সরকারের সময় একে খন্দকার পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং বেড়ার কৈতোলা গ্রামের মেজর(অবঃ) মনজুর কাদের ত্রান ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী।১৯৯১ সালে খালেদার আমলে ওসমান গনি খান(ওজি-খান)সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী।১৯৯৬ সালে হাসিনা সরকারের সময় অধ্যাপক ডঃ আবু সাঈদ (সাবেক তথ্য-প্রতিমন্ত্রী)।২০০১ সালে চারদলীয় জোটের জামায়াতের মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী কৃষি মন্ত্রী। এবং মহাজোট সরকারের আমলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথমে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত হন শামসুল হক টুকু।এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশাীরা হলেন, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডঃ আবু সাঈদ। বর্তমান সাংসদ শামসুল হক টুকু এমপি।মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার পর পর তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন।এবং তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা ওবায়দুল হক ও স্কাই।এ এলাকায় বর্তমান এমপি নিয়মিত গনসংযোগ চালাচ্ছেন।তিনি এলাকায় উন্নয়ন করেছে বলে দাবি করছেন তার সমর্থকেরা।এদিকে সংস্কারপন্থি হওয়ায় এ আসনে আওয়ামীলীগের সাবেক তথ্য-প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডঃ আবু সাঈদ নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন থেকে বাদ পরে যায়।বর্তমান এবারের নির্বাচনে সরকারের উন্নয়নের প্রচার নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।তার সমর্থকেরা মনে করেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিই হবেন আওয়ামীলীগের (সাঈদ)যোগ্য প্রার্থী।আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নিজাম উদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।দল থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে  স্থানীয়রা আশা করছে। অপরদিকে বারবার জামায়াত মনোনয়ন পাওয়ায় বিএনপি নেতারা গা ছাড়া অবস্থায় আছেন।বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন,দলের সহযোগী সংগঠন কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সহ-সভাপতি ব্যবসায়ী হাজ্বী ইউনুস আলী।কর্মজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পরপর ধোপাদহ ইউনিয়ন থেকে দু’বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন খান।উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান। খাইরুন্নাহার মিরু।বিএনপি নেতা সাংবাদিক আব্দুল আজিজ।বিএনপি নেতারা গনসংযোগ চালাচ্ছেন।এ আসনে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থীর তালিকায় আছে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড সাজাপ্রাপ্ত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির ডাঃ আব্দুল বাসেত খান।ব্যারিস্টার মোমেন অবশ্য মাঠে নামেনি।জোটের পক্ষ থেকে বিএনপি না জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন পাচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে নানা হিসাব নিকাশ।ফেস্টুন বিলবোর্ড ব্যানার ছাড়া এসব মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচন কেন্দ্রীক কার্যক্রম তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।জামায়াত চুপিসারে প্রচার চালালেও বিএনপি নেতাদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না।জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন,দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সরদার শাহজাহান। জেলা জাতীয় পার্টির নেতা নাসির উদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বর্তমান সাংসদ শামসুল হক টুকু ও সাবেক তথ্য-প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডঃ আবু সাঈদ এবং মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার মোমেনকে প্রার্থী ধরা হচ্ছে।

 

 

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 164 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com