জাবিতে দ্বিতীয় দিনের ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাসে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

Print
মোঃ রায়হান চৌধুরী, জাবি প্রতিনিধি :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির দ্বিতীয় দিনের ভর্তি পরীক্ষায় আসন বিন্যাসের ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। সোমবার তৃতীয় শিফটের (১১:৫০-১২:৫০) ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ অভিযোগ উঠে।
সোমবার সর্বমোট ৬টি শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের (‘এ’ ইউনিট) ৩টি শিফট (৯টা থেকে ১২:৫০ পর্যন্ত) এবং ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (‘এইচ’ ইউনিটে) এর বাকী ৩টি শিফটের (১:৫০ থেকে ৫:৪০ পর্যন্ত)।
জানা যায়, গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের তৃতীয় শিফটে অনুষ্ঠিত সমাজ বিজ্ঞান ভবনের সকল পরীক্ষা হয় ইংরেজি মাধ্যমে। কিন্তু প্রায় দেড় শতাধিক বাংলা মাধ্যমের পরীক্ষার্থীর আসনও সমাজ বিজ্ঞান ভবনে পড়ে। সেখানে তারা ওএমআর ফরমে প্রাথমিক তথ্যাবলী পূরণের পর জানতে পারে এখানে পরীক্ষা হবে ইংরেজি মাধ্যমে। ফলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের সেখান থেকে গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনে পাঠিয়ে দেন। ততক্ষণে অন্যান্যদের ৩৫ মিনিটের পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।
পরে তারা গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনে এলে সেখানে তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তাদের নষ্ট হওয়া সময়ও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে তাদের পরীক্ষা শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট পর অর্থাৎ ১:২৫ মিনিটে।
এদিকে, পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক যারা তাদের ছেলে-মেয়েকে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে দিয়ে এসেছেন পরীক্ষার নির্ধারিত সময় (১২:৫০টা) শেষে তারা একই অনুষদের সামনে গেলে দায়িত্বরত বিএনসিসি ক্যাডেটরা বলেন, তাদের পরীক্ষার্থীদের গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনে পাঠানো হয়েছে। অভিভাবকরা গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনে আসলে সেখানকার দাায়িত্বরত গার্ড তার অজ্ঞতার কারণে জানায় যে, ৩য় শিফটের পরীক্ষার্থীরা বের হয়ে গেছে। যার ফলে তারা গণিত ও সমাজ বিজ্ঞান ভবনের দু-তিন বার ঘোরাঘুরির পরেও তাদের সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। পরবর্তীতে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, তাদের সন্তান গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনে এখানো পরীক্ষারত অবস্থায় আছে। এ কথা জানার পর তারা কিছুটা আশ্বস্ত হন।
পরবর্তীতে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা জানান, পরীক্ষার সময় হঠাৎই কেন্দ্র পরিবর্তনের ফলে তাদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়, এবং এটি তাদের পরীক্ষায়ও কিছুটা প্রভাব ফেলে। অভিভাবকরা এ রকম পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন।
এ বিষয়ে গণিত ও পরিসংখ্যান ভবনে দায়িত্ব পালনরত শিক্ষক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, ’ভর্তি পরীক্ষায় এ ধরনের পরিস্থিতি সত্যিই অনাকাঙ্কিত। তবে আসন বিন্যা‌সের এই ভুল আইটি ডিপার্টমেন্টের। তারা আসন বিন্যা‌সের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হওয়া উচিত ছিল। তাছাড়া সমাজ বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষকরা ছাত্রদের এখানে না পাঠিয়ে প্রশ্ন পাঠাতে বললে হয়তো বিষয়টি এরকম হতো না।’
অন্যদিকে, এমন অনেক পরীক্ষার্থীকে দেখা যায়, যাদের প্রবেশপত্রে নিজেদের ছবি কিংবা সাক্ষর নেই। পরে এ সকল পরীক্ষার্থী গাণিতিক ও পরিসংখ্যান বিষয়ক অনুষদের ডীনের অনুমতিক্রমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে পরীক্ষায় দায়িত্বরত ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির বিভিন্ন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষার্থীদেরকে একটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি ও সাক্ষর আপলোড করতে বলা হয়। কিন্তু তারা যথাসময়ে তা করতে না পারায় এখন অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
এদিকে, আগামীকালকের (২ অক্টোবর) ভর্তি পরীক্ষা হবে জীব বিজ্ঞান অনুষদের (‘ডি’ ইউনিট) ওপরে। পরীক্ষার ফলাফল ও আসন বিন্যাস সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলী পাওয়া যাবে www.ju-admission.orgওয়েবসাইটে।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 240 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com