জীবনে অপ্রাপ্তি

Print

জীবনে কারো কাছে তেমন কিছু চাইবারই সুযোগ পাইনি। ফলে অপ্রাপ্তির হিসেব কষে দেখিনি। ভাগ্যগুণে যা হাতে পেয়েছি, তাই পরম পাওয়া বলে গ্রহণ করেছি। আমার জন্ম হয়েছিল সদ্বংশীয় সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা সাধারণ চাকরি করতেন, মা করতেন শিক্ষকতা। সংসারে কখনওই প্রাচুর্য ছিলনা কিন্তু স্বস্তি এবং শান্তি ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছোট ছিলাম, তখন সময়টা কারো নিয়ন্ত্রণে ছিলনা। চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারগুলোও বুঝতাম না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চারজন ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে বাবা মা শূন্য থেকে জীবন শুরু করলেন।

পরবর্তী দশ বারো বছর আমাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব দূর্বল ছিল, বিশেষ কিছু চাওয়া-পাওয়ার কথা মনেই আসেনি। মাপা পয়সার সংসারে পরিবারের প্রত্যেককে বুঝদার হতে হয়, আমরা সকলেই ছোটবেলা থেকেই বুঝদার ছিলাম। বাবা মায়ের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতাটুকু হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলাম।

তবুও মনের কোথাও কিছু একটা ব্যথা ছিলো। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল আমার প্রচন্ড ঝোঁক। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে আমার বয়স কতইবা ছিল, ৫/৬ বছর। রাস্তা দিয়ে সিনেমার ক্যানভাসার যেতো, মাইকে বাজতো গান। সেই ছোট্ট আমি কান পেতে গানগুলো শুনতাম। এরপর আপন মনেই গানগুলো গাইতাম।

কিশোরীবেলায় পাশের বাড়িতে সমবয়সী দুটি মেয়ে গান শিখতো। আমার খুব ইচ্ছে করতো যদি বাবা আমাকেও একটা হারমোনিয়াম কিনে দিত, তাহলে বড় হয়ে লতা মঙ্গেশকারের মত গান গাইতে পারতাম। কিন্তু মনে মনে জানতাম, তা হবার নয়।
বাবা চাইতেন, আমরা লেখাপড়ায় মন দেই, যেনো সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করতে পারি। সকলেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। বাবা মায়ের কষ্টে গড়া সংসারে মনের অন্য কোন চাওয়াকে প্রশ্রয় দেইনি। কিন্তু গান শেখার চাওয়াটাকে অস্বীকারও করতে পারিনি। মায়ের একটা খুব ভাল রেডিও ছিল। রেডিওতে গান শুনতাম, শুনে শুনে গান শিখতাম, নিজের মনেই গান গাইতাম।

আজও সারাক্ষণ গানের মধ্যে ডুবে থাকি। মধ্যবয়সে কত কারণে মন খারাপ হয়, মন খারাপ হলেই গানের মধ্যে ডুব দেই, ভুলে যাই সকল না পাওয়ার ব্যথাগুলো। টিভি দেখার নেশা নেই, তবে গানের অনুষ্ঠানগুলো দেখি, বিশেষ করে দুই বাংলার রিয়েলিটি শো। ছেলেমেয়েরা গান গায়, আমার হৃদয়ে তালাবন্ধ কুঠুরীতে কিশোরী মিঠু জেগে উঠে, সেও স্টেজে যায়, গান গায়, বিচারক এবং শ্রোতাদের প্রশংসায় স্নাত হয়।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 85 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com