ঢাকাশুক্রবার , ৮ জুলাই ২০২২
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ইতিহাস ঐতিয্য
  3. ইসলাম
  4. কর্পোরেট
  5. খেলার মাঠে
  6. জাতীয়
  7. জীবনযাপন
  8. তথ্যপ্রযুক্তি
  9. দেশজুড়ে
  10. নারী কন্ঠ
  11. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  12. ফার্মাসিস্ট কর্নার
  13. ফিচার
  14. ফ্যাশন
  15. বিনোদন

জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর পরিকল্পনার খেসারত দিচ্ছে কি বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
জুলাই ৮, ২০২২ ১:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জ্বালানি পণ্যের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। সারা দেশে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে দায়ী করছেন নীতিনির্ধারকরা। যদিও বিষয়টিকে একক কারণ হিসেবে মানতে নারাজ খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্যমতে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই বিশ্ববাজারের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাজুক অবস্থানে পড়েছে বাংলাদেশ।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫১ শতাংশ। তেলভিত্তিক এইচএফও এবং এইচডিও কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৩৪ শতাংশ। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৮ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এছাড়া ৫ শতাংশ আমদানি করা হয়। বাকি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে সৌর ও পানিভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এ মুহূর্তে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রয়েছে। তবে যেভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে তাতে এগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশের বেশির ভাগ বিদ্যুৎই তেল বা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে উৎপাদিত। এসব জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। জ্বালানির বিশ্ববাজার কখনই স্থির নয়, সেখানে ক্রমাগত দামের ওঠানামা চলতে থাকে। আমদানিনির্ভরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামার ওপর সরকারের এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বা দেশের বিদ্যুতের দাম নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা বারবারই দেশের বাস্তবতা অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের কথা বলে আসছেন। সে হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চালু রাখা উচিত ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে তাদের যুক্তি হলো দেশে তেল-গ্যাসের উৎস পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানির জন্য বিশ্ববাজার-নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমত।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বহু দেশই সংকটে পড়েছে। অনেক দেশেই জ্বালানি সাশ্রয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সরকারও এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।

২০১০ সালে জাপানের উন্নয়ন-সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাপান ইন্টারন্যাশন্যাল কো-অপারেশনের (জাইকা) সহায়তায় বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা বা ‘পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান-২০১০’ গ্রহণ করে বাংলাদেশ। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেয়া হলেও এজন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির সংস্থান নিয়ে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেয়া হয়নি। পরিকল্পনায় ২০৪১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার মেগাওয়াট নির্ধারণ করা হয়। এ পরিকল্পনায় মিশ্র জ্বালানি অর্থাৎ গ্যাস-তেল ও কয়লা সমানভাবে ব্যবহার করে তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অবশ্য এ মহাপরিকল্পনা ২০১৬ সালে সংশোধন করা হয়। সংশোধিত পরিকল্পনা ধরে বিদ্যুৎ খাত কাজ করলেও পদ্ধতিগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বছরের পর বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র কীভাবে চলবে, জ্বালানির সংস্থান কীভাবে হবে সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পথে এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। যে কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু জ্বালানির সংস্থান না হওয়ায় কেন্দ্র বসে থেকেছে।

আমদানিনির্ভর জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাবাহিকতায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিপিডিবির শুধু ঋণই বেড়েছে। সংস্থাটির এ টালমাটাল অবস্থার মধ্যেই নতুন বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন সময় ভুল নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আজকের এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন সময়ে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা মূলত ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্টতাকে রক্ষা করা হয়েছে। তার প্রতিফলনও দেখা গিয়েছে, সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। জাইকার মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের বাস্তবতায় কতটুকু গ্রহণযোগ্য সেটাও খতিয়ে দেখা হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তবে এ অর্জন কতটুকু ফলপ্রসূ হচ্ছে সেটি পুনঃপরীক্ষা করা প্রয়োজন। কেননা বিদ্যুৎ খাত নিয়ে নানা ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে। যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলেও সঞ্চালন লাইন অথবা বিতরণ লাইন নির্মাণ হচ্ছে না। আবার এসব কিছু প্রস্তুত হলেও যথাসময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানির অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। ফলে এখন সময় এসেছে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হঠাৎ করে শুরু হওয়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য এককভাবে এলএনজি আমদানি করতে না পারাকে দায়ী করা হচ্ছে। এমনটি বলা যেত যদি গ্যাসের অর্ধেকের বেশি আমদানি করতে হতো। কিন্তু ৭৫ শতাংশ গ্যাস পাওয়া যায় স্থানীয় উৎস থেকে। এর বাইরে এলএনজির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে আসে ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ ৯২ শতাংশ গ্যাস সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে খোলাবাজার থেকে বাকি যে ৮ শতাংশ এলএনজি আমদানি করা হতো, সেটি এখন আর করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলা হলেও গত পাঁচ বছরে দেশে ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি এলএনজি আমদানি করা যায়নি। অথচ এ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অন্তত ডজন খানেক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জ্বালানি বিভাগ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এসব দেশ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র। এলএনজি আমদানি করে দেশের শিল্প খাত পরিচালিত হবে এমন পরিকল্পনা করে শিল্প এলাকায় বৃহৎ সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।

দেশের বিদ্যমান গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য নানামুখী অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনায় রয়েছে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ লাইন নির্মাণ এবং শিল্প এলাকায় গ্যাস সংযোগ লাইন। এসব পরিকল্পনার অনেকটাই বাস্তবায়িত হলেও গ্যাসের অভাবে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চালু করা যায়নি।

আবার দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক ২৩০ কোটি ঘনফুটের কমবেশি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এর বাইরে এলএনজির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, কাতার ও ওমান থেকে আসা এলএনজি সরবরাহ হয় ৫০ কোটি ঘনফুট। বাকি ৪০-৫০ কোটি ঘনফুট খোলাবাজার থেকে আমদানি করা হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে এলএনজি আমদানিকে ঘিরে দেশের জ্বালানি খাতকে সাজানো হয়েছে। অথচ এ পরিকল্পনা কোনো কাজে দেয়নি। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম সব সময় অস্থিতিশীল। আর অস্থিতিশীল কোনো পণ্যের দাম নিয়ে জ্বালানি পরিকল্পনা করা যায় না। এখন বাংলাদেশ গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে জোর দিয়েছে। অনেক আগেই এ উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। তাহলে আজ এতটা বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে নিজস্ব অনুসন্ধানে মনোযোগ দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সরকার ৪৬টি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সংযুক্ত করার কথা বলছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ৫ জুলাই গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি ও কূপগুলোর আরো গভীরে খনন করার জন্য গ্যাসের অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। আগামী তিন বছরের জন্য একটা আপগ্রেডেশন, ওয়ার্কওভারের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যেখান থেকে ৪৬টি কূপ থেকে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।