ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটক করলে কী করবেন?

Print

অনেক সময় আদালতে উপস্থিত হয়ে দোষ স্বীকার করলে শাস্তির পরিমাণ কম হওয়ার সুযোগ থাকে। মোটরযানসংক্রান্ত মামলায় সাধারণত জরিমানা হয়ে থাকে। এ জরিমানার টাকা আদালতে জমা দিলে মামলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আপনি যদি মনে করেন গাড়িটি অহেতুক আটক করা হয়েছে, সে সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। কোনো কারণে আদালতের আদেশ সঠিক মনে না হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার আপনার রয়েছে।

গাড়ি কীভাবে জিম্মায় নেবেন

সন্দেহজনক কারণে কিংবা নির্দিষ্ট অভিযোগে গাড়ি পুলিশ আটক করলে বা থানায় কোনো মামলা হলে গাড়িটি নিজের জিম্মায় নিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা যায়। থানা থেকে মামলার এজাহারের ফটোকপি তুলতে হবে প্রথমেই। সেই সঙ্গে গাড়ির নিবন্ধনের ফটোকপি নিয়ে একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হবে। যেহেতু গাড়িটি থানায় আটক করা হয়েছে, আইনজীবী বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দিষ্ট শাখায় গিয়ে মামলার নথি পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রথম দিনে আবেদন শুনানির পর সাধারণত আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) থেকে গাড়ির মালিকানা নিরূপণ করে কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেবেন।

আদালতের আদেশ সাধারণত পরবর্তী কার্যদিবসে সংশ্ল্লিষ্ট থানায় পৌঁছে যায়। থানায় যোগাযোগ করতে হবে, যেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন অতি সত্বর থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করেন। প্রতিবেদন থানা থেকে আদালতে পাঠানো হলে আইনজীবী নথি পর্যবেক্ষণ করে দেখবেন যে তা নথির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কি না। এরপর আইনজীবী একটি দরখাস্তের মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করবেন যে বিআরটিএ থেকে গাড়ির মালিকানা নিরূপণ করা হয়েছে। শুনানির সময় আদালতের সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। আদালত বিআরটিএ প্রতিবেদন, তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও আইনজীবীর শুনানিতে সন্তুষ্ট হলে থানা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেবেন আটক গাড়িটি জিম্মায় দেওয়ার জন্য। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে গাড়ি নিজের জিম্মায় নিতে পারবেন এই শর্তে যে পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তিনি তা থানায় হাজির করবেন। এভাবে গাড়িটি জিম্মায় নিতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 927 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com