ঠাণ্ডা-গরমের ফারাকের চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় 

Print
গত কয়েক দিন ধরে ঠাণ্ডা-গরমের ফারাকের চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়
সালেকিন মিয়া সাগর,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি::::
চুয়াডাঙ্গায় কয়েক দিন ধরেই সকালে বেশ গরম লাগছে। বেলা গড়িয়ে দুপুর হলে বাড়ে রোদের তেজও। আবার সন্ধ্যা পড়তে-না-পড়তেই হিমেল ভাব।
আবহাওয়ার এই তারতম্যের ফলে রোগজীবাণু বাসা বাঁধছে। জ্বর সর্দি কাশি, গলাব্যথা, ভাইরাল ফিভার নিয়ে শিশু থেকে বয়স্কদের অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে ঠাণ্ডা-গরমের ফারাকের চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানান, তাপমাত্রার এই তারতম্য জীবাণুকুলের পক্ষে আদর্শ। ফুসফুসের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। যে কারণে কখনো হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসারও প্রয়োজন পড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
ক’দিন আগেও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা তেমন লক্ষ করা যায়নি। কিন্তু গত তিন দিনে ৪০০-এর বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ সময় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন। এদিকে রোগীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে ঠিক চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খাচ্ছে সেবিকারা।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে ঠাণ্ডাজনিতসহ বিভিন্ন রোগে শুধু বহির্বিভাগে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ চিকিৎসা নিয়েছে আড়াই শ’রও বেশি রোগী। আর তিন দিনে ভর্তি হয়েছে ৪০০ রোগী। সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। হাসপাতালের দুই মেডিসিন ওয়ার্ডে পা ফেলার জায়গা নেই। শিশু ওয়ার্ডেরও একই অবস্থা। চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা।
বহির্বিভাগে দেখা যায়, শিশু কোলে নিয়ে কয়েকজন অভিভাবক ডাক্তার দেখানোর অপেক্ষা করছেন। দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ নাসরিন বেগম জানান, তিন দিন ধরে তার ছয় বছর বয়সী মেয়েটির বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এরপর পরদিন থেকে জ্বর। তিন দিনেও জ্বর না কমায় আজ মেয়েকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: শামিম কবির বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে সাধারণ জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের উপদ্রপ হঠাৎ করে বেড়েছে। শুধু বয়স্কই নয়, শিশুদের মধ্যেও নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। সুতরাং এই সময়টায় খুবই সতর্ক থাকতে হবে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: শামিম কবির বলেন, নাকেমুখে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। নিয়মমাফিক ভিটামিনযুক্ত খাবার, পরিমাণমতো পানি পান ও পূর্ণ বিশ্রাম নিলে এমনিতেই এসব রোগের হাত থেকে পরিত্রাণ মিলবে। এ সময় বেশি করে আদা ও লেবুর চা খেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ফার্মাসি থেকে কাশির সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়াই উত্তম। সকাল-বিকেল কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করতে হবে। অনেক সময় ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা কাশি থেকেই সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, কখনো বৃষ্টি, কখনো গরম- এই আবহাওয়ায় শিশুদের সর্দি কাশি লাগার একটি প্রবণতা থাকে। শিশুদের যদি সাধারণ ঠাণ্ডা, কাশি, সর্দি থাকে, সেই ক্ষেত্রে কী করণীয়, আসলে শিশুদের অ্যালার্জির সমস্যা অনেক বেশি।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 142 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com