ডিজিটাল মিটার ব্যবহারের কিছু তথ্য

Print

প্রথম বার ১০০০ টাকা রিচার্জে আপনি পাবেন ৭৯২ টাকা।কারণঃ

১। আপনাকে প্রথমেই ১০০ টাকা মিটারের সাথে দেওয়া হয়ে ছিল। তাই ১০০ টাকা কাটবে।
২। ডিমান্ড চার্জ আগে প্রতি কিলো ছিল ২৫ টাকা এখন ডিজিটাল মিটারের ক্ষেত্রে ১৫ টাকা।(প্রতি মাসে এক বার)
৩। মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। (প্রতি মাসে এক বার)
৪। সরকারি ভ্যাট আগেও ছিল ৫% এখনো ৫%।
৫। সার্ভিস চার্জ ১০ টাকা। (প্রতি মাসে একবার)

বিঃ দ্রঃ- এই সব কারণে ডিজিটাল মিটার প্রথম রিচার্জে টাকা ১০০০ টাকার স্থানে ৭৯২ টাকা দেখাইতেছে। কিন্তু আপনি ঐ মাসেই যদি আবার ১০০০ টাকা রিচার্জ করেন তাহলে শুধু সরকারি ভ্যাট ৫% টাকা কাটার পর বাকী টাকা মিটারে রিচার্জ হবে। তাই ডিজিটাল মিটার গ্রাহকগণ আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নাই।

আরও কিছু বিশেষ তথ্যঃ-
১। আপনি কত ইউনিট ব্যবহার করেছেন তা চেক করতে ৮০০ চাপুন।
২। আপনার ব্যালেন্স জানতে ৮০১ চাপুন।
৩। ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স জানতে ৮১০ চাপুন।
৪। মিটার টি চালু বা অফ করতে ৮৬৮ চাপুন।
৫। আপনার মিটার টি কত কিলো ওয়ার্ডের তা জানতে ৮৬৯ চাপুন।

প্রিপেইড মিটার-এর যত সুবিধা

বর্তমান সময়ে সবার মুখে মুখে প্রিপেইড মিটারের কথা। এখন সারাদেশে বৃহৎ পরিসারে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। মূলত গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ বিল শতভাগ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা মতে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারা দেশে প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুতসেবা দেয়া হবে।

প্রতিবছর বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তার যথাযথ হিসাব রাখা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে যায়। আবার কখনও কখনও গ্রাহক পর্যায়ের নানা কারণে বিদ্যুৎ খাতে ৫-৭% বিদ্যুৎ নষ্ট হয়। এ সমস্যা সমাধানে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনটির মাধ্যমে শতভাগ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয় নি। তাই বিদ্যুতের অপচয় রোধ করতে এবং বিদ্যুতের যথাযথ হিসাব রাখতেই সরকারের নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রিপেইড মিটার সিস্টেম বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে অপচয় প্রায় শতকরা ০ ভাগে নিয়ে আসবে।

মূলত প্রিপেইড মিটারের ব্যবস্থা আসলে গ্রাহকদের সুবিধার জন্যই করা হচ্ছে। প্রিপেইড মিটারের সুবিধাগুলো হল-

১। প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থায় গ্রাহক ব্যবহারের আগেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। যার কারণে কোম্পানির মিটার রিডিং, বিল প্রণয়ন এবং আদায়ের কোন ঝামেলা থাকে না।

২। মিটারে প্রিপেইড সিস্টেম থাকায় গ্রাহক নির্দিষ্ট সীমার উপরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন না।

৩। গ্রাহক প্রয়োজনে মোবাইল কার্ডের মত কার্ড কিনে বা দরকার পড়লে ভেন্ডিং স্টেশনে গিয়ে নিজেই রিচার্জ করে নিতে পারবেন।

৪। মিটারে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই গ্রাহককে মিটার সংক্রিয়ভাবে সংকেত দিবে, ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ে গ্রাহক আরও সচেতন হবে।

৫। প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে বিল দেয়ার জন্য অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে আর হবে না।

৬। যেকোন সময়ে গ্রাহক দেখতে পারবেন তার কত বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে আর কত অবশিষ্ট আছে।

৭। বিতরণ কোম্পানি বিদ্যুৎ দেওয়ার আগেই সব টাকা পেয়ে যাবে। ফলে বিল তৈরি ও বিতরণের ঝামেলা ও ব্যয় কম হবে।

৮। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হবে না, ফলে লাইন কাটার টেনশন থাকবে না।

৯। গ্রাহকরা তাদের বিদ্যুৎ বিলের উপর ২% ডিস্কাউন্ট পাবেন।

১০। প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে, অযথা ভোল্টেজ উঠা-নামার ফলে বাসার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির উপর প্রভাব পড়বে না।

১১। প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে সয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ বিলের রেকর্ড থেকে যাবে।

প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল জমা দেয়ার কোন টেনশন নেই। এক্ষেত্রে বকেয়া বিল থাকবে না। এই বিষয়টি বাড়ির মালিকদের জন্য একটি সুবিধাজনক বিষয়। এক্ষেত্রে ভাড়াটেদের কোন বিল বকেয়া হবে না। তারা বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই বিল পরিশোধ করে ফেলবে, যার ফলে বিল নিয়ে কোন টেনশন থাকবে না। প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করা যেমন সহজ, তেমনিভাবে মিটারে টাকার পরিমাণ কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এলে মিটার  স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত দিবে। এই পর্যায়ে কার্ডের মাধ্যমে টাকা চার্জ না করলে মিটার তথা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে মিটার বন্ধ হবে না। টাকা একেবারে শেষ হয়ে গেলেও সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত মিটার চালু থাকবে। এই সময়ের মধ্যে মিটার রিচার্জ করতে হবে। ভবিষ্যতে প্রিপেইড মিটারের বিল অনলাইনে লেনদেনের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, প্রিপেইড মিটার প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় একটি দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন আনবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 1564 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com