ঢাকাই সিনেমার সেকালের সাফল্য একালের ব্যর্থতা

Print

দেশি ছবির দিকে তাকালে সত্যিকার অর্থেই এখন কান্না পায়। একসময় কী জমজমাটই না ছিল এ দেশের সিনেমা হলগুলো! চিরচেনা চরিত্রের ভিড়ে সামাজিক সেন্টিমেন্টের ছবিগুলো ছিল হাসিকান্নার সিকোয়েন্সে ভরপুর।

দর্শক প্রাণভরে উপভোগ করে তৃপ্তি নিয়ে সিনেমা হল থেকে বেরিয়েছেন। এরপর কয়েকটা দিন ছায়াছবির দৃশ্যগুলো দর্শকের স্মৃতিপটে ভাবনা বিলাসের রিল টেনে যেত। আনমনে দর্শক বারবার সুর ভাজতেন ছবির হৃদয়ছোঁয়া কোনো গানের। কল্পনায় ছবির নায়ক বা জীবনঘনিষ্ঠ কোনো চরিত্রের মাঝে আবিষ্কারের চেষ্টা করতেন নিজেকে।

আর এখন? দেশি চলচ্চিত্রের দৈন্য। হাজারো সিনেমা হলের অস্তিত্ব বিলীন হতে হতে এখন শতকের ঘরে বন্দী। হতাশা এখানেই ঝাপটা মেরে ক্ষান্ত নয়। এসব হল বছরজুড়ে সচল রাখার মতো নতুন ছবির আকাল। জবরদস্ত লগ্নি নেই, এক নামে ঘাঁই মারার মতো পরিচালক নেই, আর নায়ক-নায়িকার আক্রা তো আছেই। এক শাকিব খান বা বুবলীকে নিয়ে আর কদিন?

এখন প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক, দেশি চলচ্চিত্রের এমন ১২টা বাজল কেন? এই মহিরুহের পতনবীজ খোঁজার আগে একপাক ঘুরে আসা যাক আদি উৎস সেই সত্তরের দশকে।

জাদুকরি সত্তর

ওই সময় দেশি ছায়াছবির মধ্যে একটা জাদু ছিল। কাহিনি, নির্মাণশৈলী, অভিনয়, গান এমনকি সিনেমার পোস্টারেও ছিল ছুঁ মন্তর ছুঁ। জেলা বা মফস্বল শহরের জনবহুল মোড়ে নতুন কোনো ছবির পোস্টার লাগালে পথচারীরা গন্তব্যের কথা ভুলে হাঁ করে দাঁড়িয়ে যেতেন।

সত্তরের দশক এ দেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ। ওই সময় সামাজিক সেন্টিমেন্টের এমন সব দারুণ ছবি নির্মিত হয়েছে, প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে সব ধরনের দর্শক ছবিগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখেছেন।

ঢাকাই ছবির যাত্রালগ্ন থেকেই বেশ কিছু ভালো ছবি তৈরি হয়েছিল। এরপর ১৯৭০ সাল বা এর আগে বেশ কিছু ভালো ছবি তৈরি হয়েছে। সব ধরনের দর্শককে একঠায় সিনেমা হলে ধরে রাখার মতো গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতারও অভাব ছিল না। পুরোধা ব্যক্তি আবদুল জব্বার খানের পথ অনুসরণ করে এহতেশাম, মুস্তাফিজ, সুভাষ দত্ত, রহীম নেওয়াজ, নারায়ণ ঘোষ মিতা, এস এম শফি, মোস্তফা মেহমুদ, খান আতাউর রহমান, আজিজুর রহমান, মহসিন, কামাল আহমেদ প্রমুখ বেশ কিছু ভালো ছবি তৈরি করেছেন।

‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘হারানো দিন’, ‘চকোরী’, ‘রাজধানীর বুকে’, ‘চান্দা’, ‘কখগঘঙ’, কাঁচের স্বর্গ, ‘নাচের পুতুল’, ‘কাঁচ কাটা হীরে’, ‘সমাধান’, ‘দীপ নেভে নাই’, ‘ছদ্মবেশী’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, ‘পীচ ঢালা পথ’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘আবির্ভাব’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘কত যে মিনতি’, ‘আগন্তুক’, ‘যোগবিয়োগ’, ‘মানুষের মন’, ‘অন্তরঙ্গ’, ‘একই অঙ্গে এত রূপ’, ‘স্মৃতিটুকু থাক’, ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’—এমন আরও অনেক ছবির নাম করা যায়।

গুণী নির্মাতা জহির রায়হান তাঁর এক ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’ দিয়েই তো বাজিমাত করলেন। সাধারণভাবে তা পারিবারিক ড্রামা। প্রতীকী ব্যঞ্জনায় এসেছে তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এককথায় ওই সময় জহির রায়হানের এই সাহসী শৈল্পিক ভূমিকা ছিল অসাধারণ!

এ সময় দর্শক মাত করা অনেক ছবি তৈরি হয়েছে। কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ, পরিচালনা সবই ছিল স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অনন্য। গানগুলোর কথা আর সুর মন ছুঁয়ে যেত। এখানে ‘দর্পচূর্ণ’ ছবির কথা বলা যায়। নিটোল একটা প্রেমের গল্প। কাহিনির বাঁকে বাঁকে ছিল ড্রামা। অভিনয়ে ছিলেন ওই সময়ের অন্যতম সেরা রোমান্টিক জুটি রাজ্জাক-কবরী। ছবিটির সেই যে প্রাণ উতলা করা গান ‘তুমি যে আমার কবিতা…’ এখনো অনেককে আপ্লুত করে। এ ধরনের ছবি ছিল আরও অনেক।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 20 বার)


Print
bdsaradin24.com