ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কড়া নজরদাড়ির পরেও থামছেনা দালালদের দৌরাত্ম্য

Print
স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কড়া নজরদাড়ির পরেও থামছেনা দালালদের দৌরাত্ম্য। গতকাল বুধবার বিকেলে এমনই এক দালাল চক্রের সন্ধান মেলে বিডিসারাদিন২৪.কম এর প্রতিবেদকের কাছে। আর ঐ দালাল চক্রের শীকার হয় রোগী উর্মী আক্তার পান্না (১৯) এবং তার মা পলি আক্তার।
রোগীর মা পলি আক্তার অভিযোগ করেন, আমার মেয়ে গর্ভবতী সাত মাসের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারনে দোহার থেকে ঢাকা শহরে নিয়ে আসি চিকিৎসার জন্যে। আমাদের পরিবারের সকলের চিকিৎসা করা হয় ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিন্তু রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে আর এন আই সি ইউ না থাকার কারেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন  ইবনে সিনা হাসপাতালের গাইনী বিভাগের ডা. সালমা লাভরীন। কারন যদি অপারেশন করে ৩০ সপ্তাহের বাচ্চা বের করতে হয়, তখন বাচ্চা কে বাচাতে এন আই সি ইউ এর প্রয়োজন হতে পারে। তাই যে খানে এন আই সি ইউ আছে সে খানে নিয়ে গেলে সবচেয়ে উত্তম হবে বলে জানন ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষ।
বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে পরি দালালদের খপ্পরে। তখন জরুরী বিভাগের একটি টিকিট ও কাটা হয়। পরে ৪ জন মহিলা এসে আমাকে বলে, আপনি এখানে সিরিয়াল দিয়ে ৪/৫ ঘন্টার মধ্যেও ডা. দেখাতে পারবেন না। এই ঢাকা মেডিকেলের একজন বড় ডা. আছেন যিনি  একটি জেনারেল হাসপাতালে বসেন। আপনি চাইলে ঐ খানে গিয়ে দেখাতে পারেন। আমি বললাল আমিতো চিনি না। ওনারা বললো আমরা নিয়ে যাই চলেন। আমি রাজি হলাম এবং তাদের সাথে চলে গেলাম। আমাদেরকে নিয়ে গেল “দি চানখারপুল জেনারেল হাসপাতালে”। যেটি দালাল চক্রের ফ্যাক্টরী।
ওখানে নেই কোন প্রকার স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দেখেই আমার মাথা কাজ করতে শুরু করলো যে, আমি তো দালালদের খপ্পরে পরেছি। বললাম কোন ম্যাডাম কে দেখাবেন তাকে ডাকেন। একটি ভিজিটিং কার্ড চাইলে দিলেন। যাহার মধ্যে লেখা আছে, ডাঃ রওশন আরা সুলতানা, এম. বি. বি. এস (ডি. এম. সি) এফ সি পি এস( অবস ও গাইনী) আবাসিক সার্জন অবস ও গাইনী বিভাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। ম্যাডাম এসে একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দিলেন। কিছু টেষ্ট দিলেন করিয়ে নিয়ে আসেন। পরে চিকিৎসা দিচ্ছি। আমার তখন মনে হলো ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এছাড়া ধানমন্ডি শংকর মোড়ের ইবনে সিনা মেডিকেলে এন আই সি ইউ না থাকার কারনে ভর্তি করলেন না। কিন্তু এখানে কি ভাবে চিকিৎসা দিতে চায়? আমি আর কিছু না ভেবে ডাঃ এর ফি বাবদ ৭০০/ টাকা আক্কেল সেলামি দিয়ে চলে আসি।
ডাঃ রওশন আরা সুলতানার নিকট ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন, আমি কোথায় বসি না বসি তা দিয়ে আপনার কি? আপনি এখানে আসছেন চিকিৎসা নিতে আমি চিকিৎসা দেবো। কি ভাবে কার মাধ্যমে আসছেন তা তো আমি জানি না। হ্যা ঢাকা মেডিকেল আপনার জন্য সিট খালি করে বসে আছে না। এছাড়া আপনি এন আই সি ইউ এর কথা বলেন। ঢাকা মেডিকেলের এন আই সি ইউ তে বাচ্চা রাখলেই মারা যায়। কারন এন আই সি ইউ তে প্রচুর  জীবাণু আছে। বাচ্চা যদি বের করে এন আই সি ইউ তে রাখতে হয় তাহলে প্রাইভেট কোন ক্লিনিকের এন আই সি ইউ তেই রাখতে হবে। তবে আমি সিজারিয়ান টা সকলের চেয়ে ভাল করতে পারবো বলতে পারি।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 213 বার)


Print
bdsaradin24.com