তাজরীন ট্রেজেডির ৬ বছরঃবদলে গেছে দেশের পোশাক শিল্প

Print
খোরশেদ আলম, ঢাকা,জেলা প্রতিনিধি 
৬ বছর আগে রাজধানী ঢাকার অদূরে তোবা গ্রপের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেড নামের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোয় নিরাপত্তা বাড়ানোর খেত্রে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবী করেন কারখানার  মালিক ও সরকার। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছেন কারখানায় সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করার মত পরিস্থিতি এখনও হয়নি। তবে কারখানা মালিকরা বলছেন অগ্রগতি অনেকটাই হয়েছে, ”কাজ বাকি আছে সামান্যই”।
৬ বছর আগে তাজরীনের আগুনে পুড়ে অন্তত ১শ ১৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আর আহত হন দেড় শতাধিক শ্রমিক। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন মারা যায় আরো ৯ জন। মোট ১২৬ জন শ্রমিক প্রান হারায় তাজরীনের আগুনে। আর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গহানিসহ মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক।
বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান খাত পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় অর্ধ কোটিরও বেশি। নারী শ্রমিকের  এক বিরাট কর্মস্থল। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায় অনেকের মধ্যে কর্মস্থলে দুর্ঘটনার একটা ভয় কাজ করে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, “আমরা তো সরাসরি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলি আর আমাদের লুকোনোরও কিছু নেই। সে অবস্থান থেকে আমরা কিন্তু দেখি যে শ্রমিকরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বোধ করছেন এরকম অবস্থা কিন্তু এখনো হয়নি।”
কারখানা পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি বলেন,”ধরেন আপনি একটা ফ্লোরে  যাবেন, মালিক জানলো যে আপনি যাবেন, সেজন্য তারা কিছু অ্যারেঞ্জমেন্ট রাখলো। কিন্তু পরবর্তীতে তারা সেটা সরিয়ে ফেললো। তাহলে আপনি কী করবেন? এজন্য ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টর যারা আছেন তাদের দিয়ে সরকারের একটা সার্ব খণিক তদারকি রাখতে হবে,”
আশুরিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ট্রেজেডির ৫ মাসের মাথায় সাভারের রানাপ্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক খাতে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানা সংস্কারের জোর দাবি উঠে। এর পরিপ্রে ওই বছরই ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করে, এমন দুই হাজার দুইশ’ কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে ৫ বছরের জন্য আলাদা দুটি জোট গঠিত হয়। ওই জোটভুক্ত কারখানাগুলোর সংস্কার অগ্রগতি ৯০ শতাংশের উপরে। তবে এ দুটি জোটভুক্ত ক্রেতাদের কাছে পোশাক রপ্তানি হয় না, এমন দেড় হাজার কারখানা সংস্কারের  ২০১৫ সালের শুরুতে উদ্যোগ নেয় সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়।
অ্যাকর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে সোয়া দুইশ’ বায়ার ও ব্র্যান্ড। অবশ্য অ্যাকর্ডের বেশকিছু কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে অ্যাকর্ডের দূরত্ব তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতেই বাংলাদেশকে না জানিয়ে ফের তিন বছরের জন্য ‘২০১৮ অ্যাকর্ড’ নামে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাকর্ড। অবশ্য ওই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন ব্র্যান্ডের সংখ্যা ৫০ এর কিছু বেশি।
পোশাক খাতে বর্তমান নিরাপত্তা নিয়ে অ্যাকর্ডের কর্মকর্তাগন বলেন, কারখানা ভবনের নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজ এখনও অনেক বাকি আছে।
“কারখানায় নিরাপত্তার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু একই সঙ্গে অনেক ত্রæটি সংশোধন করছেন কারখানা মালিকপক্ষ, এসব কাজ এখনো শেষ হয়নি। অনেক কারখানায় নূন্যতম জীবন  নেয়া হলেও মানসম্মত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। যেমন কারখানার সবখানে ফায়ার এলার্ম, ষ্প্ঙ্কলার সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের মতো কাজ বাকি রয়েছে। ভবনের নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজও অনেক কারখানায় এখনো হয়নি।”

 

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 39 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com