দামুড়হুদা উপজেলায় ক্ষেত-খামারে নারী শ্রমিকের উপস্থিতি বাড়লেও দূর হয়নি মজুরি বৈষম্য

Print
সালেকিন মিয়া সাগর,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মতই চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায়  কৃষিকাজ সহ নানা ক্ষেত্রেই পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশিও দিন দিন নারী শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়ছে। তুলনামুলক ভাবে   নারীরা প্রতিটি কাজে বেশি মনোযোগী সেই সাথে পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় মজুরি কমহওয়ায় নারী শ্রমিকদের কদর বেড়েই চলেছে দামুড়হুদা উপজেলায়। গ্রামীণ জনপদে নারীরা এখন আর শুধু ঘর-সংসারের কাজে ব্যাস্ত নেই।ঘর সংসার সামলানোর পাশাপাশি নারীরাও পুরুষের মত বেরিয়ে পড়ছে বাড়তি উপার্জনের আশায়।
উপার্জন বাড়িয়ে সংসারে স্বচ্ছতা ফেরাতে পুরুষের পাশাপাশি ক্ষেত-খামারে ও শ্রম বিক্রি শুরু করেছে নারীরা।জানা যায়, ইতিপুর্বে এ জনপদে পুরুষদের মতো নারীদের ক্ষেত খামারে কাজ করার তেমন একটা রেওয়াজ ছিল না। কয়েক দশক আগে এলাকায় বসবাসরত বাগদি সম্প্রদায়ের কিছু কিছু নারীরা কৃষি ক্ষেত্রে ধান রোপন, ফসল তোলা ও সবজি ক্ষেতে কাজ করতে শুরু করে। বর্তমান ও দুূর্মূল্যের বাজারে শুধুমাত্র পুরুষদের পরিশ্রমে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পুরুষের পাশপাশি নারীরাও ক্ষেত খামারে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে শুরু করেছে। তবে, নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে একই কাজে পুরুষের সম পরিমানে প্ররিশ্রম করলেও তারা মজুরি পাচ্ছে কম। সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অবজ্ঞায় কারনে নারীরা বঞ্ছিত হচ্ছে তাদের শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে।
একসময় এ অঞ্চলের নারী শ্রমিকদের কাজ লাগাতে ও গৃহস্থের বাড়িতে ধান সিদ্ধ করা, শুকানো ও চাউল তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে নারী শ্রমিকেরা কৃষি ক্ষেত্রে ধান, ভূট্টা, সবজিসহ নানা ধরনের ফসলের রোপন পরিচর্যা ও ফসলের তোলার কাজ করছে। এছাড়া ধান, গম, ভূট্টা ইত্যাদি মাড়াই থেকে শুরু করে ঝেড়ে ঘরে তোলা পর্যন্ত সমস্ত কাজই করে থাকে নারীরা। জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বাঘাডাঙ্গা  গ্রামের মাঠে সবজি ক্ষেতে কর্মরত নারী টেবি খাতুন,মরি,হাসিনা জানান  দল বেঁধে গ্রামের ক্ষেত-খামারে কাজ করি। এ অঞ্চলের নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৭ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত গৃহস্থের জমিতে নানা ধরনের কৃষিকাজ কাজ করে থাকি। গৃহস্থরা আমাদেরকে মজুরি দেয় ১শ’ ৫০ টাকা। অথচ একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিকদের মুজুরি দিতে হয় ২৫০/৩০০ টাকা ।সচেতনমহল মনে করেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশিই হলো নারী। বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নানামুখী কাজ করছে। তাই বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে কৃষক হিসেবে নারীর স্বীকৃতির বিষয়টিও ভেবে দেখার দাবী রাখে। সেইসাথে বেকার নারীদের কৃষিকাজ সহ নানা ধরনের কাজের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ও কাজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে পুরুষের মতো নারীরাও কৃষিক্ষেত্রসহ সমাজের নানা কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে। তাতে একদিকে যেমন বেকার সমস্যার সমাধান হবে অপরদিকে নারী-পুরুষ মিলে দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 53 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com