দোহারের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া কন্টন্টের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে না ক্লাস !

Print

মোঃ শাকিল মৃধা ঃ
সারাদেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে পাঠ্য উপকরন বদলে ফেলার সু-পরিকল্পিত উদ্দ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু বই, খাতা, পেন্সিল বা ব্লাক বোর্ড দিয়েই নয় ল্যাপটপ ও ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রজেক্টর ব্যাবহার করে পাঠ্য বিষয়কে আরো আকর্ষনিয় ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পদ্ধতি।যার একটি অংশ ঢাকার দোহার উপজেলা। যেখানে রয়েছে ৫৯ টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষালয়ে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে দোহার উপজেলায় সরকারী ভাবে ৫৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে ৫৪ টি পাশাপাশি ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট দেওয়া হয়েছে ৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (তথ্য সূত্রঃ দোহার উপজেলা শিক্ষা অফিস)। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনো বিদ্যালয়েই ল্যাপটপ বা ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ঠিকমতো করানো হয় না ক্লাস।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রাথমিক শিক্ষা কন্টেন্ট ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল ভার্সনে রূপান্তর শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের (প্রথম-পঞ্চম শ্রেণি) আলোকে ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ইং তারিখে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর উদ্বোধন করেন। যার মূল উদ্দেশ্য, কন্টেন্টসমূহ শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠ্যবিষয়কে সহজ এবং শিখন-শেখানো প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক, আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করা।
কন্টেন্টসমূহ শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষকে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক শ্রেণিকক্ষে পরিণত করা, পাঠদানকে অধিকতর মনযোগ-আকর্ষনীয় করা এবং বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট করা ও উন্নততর প্রয়োগ পাঠ্য সম্পর্কে শিক্ষকের অনুধাবন বৃদ্ধি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য স্ব-শিক্ষণের ব্যবস্থা করা। আধুনিক যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে প্রযুক্তি। শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০, জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা ২০০৯ ও ৭ম পঞ্চবাষির্কী পরিকল্পনা শিক্ষাব্যবস্থায় কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ঠিক কতোখানি সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে তার প্রশ্ন থেকেই যায়। গত কয়েক সপ্তাহ অনুসন্ধান ও উপজেলার মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট পাওয়া বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে দেখায় যায় একটি বিদ্যালয়েও ঠিক নিয়মনীতি ও রুটিন অনুসারে সরকারের দেওয়া ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্টের মাধ্যমে ক্লাস করানো হয় না। উপজেলার প্রথম কাতারে থাকা জয়পাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গোপনে জিজ্ঞাসা করলে শিক্ষার্থীরা জানায় এ বছর মাত্র ২ টি ক্লাসে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট ব্যাবহার করা হয়েছে। যেখানে একবার লাইফবয় কম্পানির পক্ষ থেকে লাইফবয় সাবানের এ্যাড ও কিছু বাঘ, হাতি দেখানো হয়েছে আরেকবার দেখানো হয়েছে ফিফা বিশ্ব কাপের একটি ফুটবল ম্যাচ। পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীরা জানেই না ডিজিটাল কন্টেন্ট কি জিনিস ! এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোঃ জায়েদ হোসেন বিডি সারাদিন কে জানায়, ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন ৩ জন। সরকারি মাধ্যমে ২০১২ সালে তার বিদ্যালয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট দেওয়া হয়েছে। দেবার কিছুদিন পর ডিজিটাল কন্টেন্টির যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ার কারনে ঢাকা ডিসি অফিসে মেরামতের জন্য প্রেরণ করার পর প্রায় ৫/৬ মাস পরে মেরামত করে কন্টেন্টটি পুনঃরায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তারা মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট ক্লাস রুমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। কিন্তু মূলত একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম না থাকার কারনে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে সরকারের এমন উদ্দ্যোগ ও আর্থিক অনুদান যাচ্ছে বিফলে পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না তাদের পূর্ন শিক্ষা।

আধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তির সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিচিত করানো একটি জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হল শিক্ষা। জ্ঞান, মেধা ও মননে আধুনিক এবং চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু দোহার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন দুর্দশা নিয়ে দেশ ঠিক কতটা এগিয়ে যেতে পারবে তার প্রশ্ন থেকেই যায়! কাটাখালী প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়েও একই অবস্থা বিদ্যমান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিগার সুলতানা জানান, মূলত মাল্টিমিডিয়া অডিটোরিয়াম ক্লাস না থাকার কারনে প্রতিদিন ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের দ্বি তলা ভবনে নতুন ক্লাস রুম তৈরি হচ্ছে আশাকরি আগামী দুই মাসের মধ্যে শ্রেণির কাজ শেষ হলে একটি ক্লাসকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম হিসেবে ব্যাবহার করা হবে। যার ফলে প্রতিদিন অনায়াসে আমরা বর্তমান সরকারের মূল মহৎ উদ্দ্যেশ্য সফল করার কাজে সাহায্য করতে পারবো। কিন্তু পরে ডিজিটাল কন্টেন্টটি দেখতে চাইলে দেখা যায় যে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল কন্টেন্টটি এখনো নতুন প্যাকেট জুড়েই রয়েছে। কন্টেন্ট ছাড়া বাকি যন্ত্রাংশ গুলো প্যাকেট থেকে খোলা হয়নি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে জানায় তারা কন্টেন্টের মাধ্যমে প্রায় সময়েই ক্লাস করনো হয়।

ঘাটা-০১ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাহিদ সুলতানা শিলা জানান, ২০১৪ সালে সরকারি মাধ্যমে ডিজিটাল কন্টেন্ট পান তারা। তবে মাত্র ১ জন শিক্ষক রয়েছেন ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। পাশাপাশি ১ টি ল্যাপটপও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। কিন্তু ডিজিটাল ল্যাপটপের যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে ঢাকা অধিদপ্তরে মেরামতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে ল্যাপটপ ছাড়া ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম ছাড়া আমাদের প্রতিনিয়ত ডিজিটাল কন্টেন্টের ক্লাস করানো খুব কষ্টদায়ক হয়। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম থাকলে শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত শিক্ষা দিতে আমাদের অনেকটাই অসুবিধা হয়। কারন একাডেমীক ভবনে ক্লাস রুম ছাড়া অতিরিক্ত কোনো ক্লাস নেই। তাছাড়া ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ে বারংবার প্রতি ক্লাসে আনা নেওয়ার মাধ্যমে যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উল্টো অভিযোগ ঘাটা-০২ নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল কন্টেন্ট কাকে বলে সেটাই জানে না। জানে না ডিজিটাল বিষয়টা কি? তাছাড়া ডিজিটাল কন্টেন্টতো নয়ই ল্যাপটপ দিয়েও কখনো ক্লাস করানো হয়নি বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা। তবে সকল অভিযোগ এক কথায় অস্বীকার করেন ঘাটা-০২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন ক্লাসের পাঠ রুটিন ভেদে ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ক্লাস করানো হয়। কিন্তু তার বক্তব্য সংগ্রহনের সময় অন্য এক শিক্ষক জানান, সপ্তাহে ২/৩ দিন মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ক্লাস করানো হয়। যার ফলে একই সময় দুই শিক্ষকের দুই মতের মাধ্যমেই প্রশ্ন উঠে আসে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাগত মান সম্পর্কে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে কোনোরূপ নেগেটিভ মন্তব্যসূত্র না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। ডিজিটাল কন্টেন্ট পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ধারাবাহিক তালিকার মাধ্যমে পালমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে ঠিক একই অভিযোগ আর বুক ভরা হতাশা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। ল্যাপটপ বা ডিজিটাল কন্টেন্ট বিদ্যালয়ে আছে কিনা সেই সম্পর্কে অবগত নয় তারা। অথচ বিদ্যালয়টিতে সরকারি ভাবে ডিজিটাল কন্টেন্ট ও ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুর রহমান জানান, সরকারি ভাবে যে ডিজিটাল কন্টেন্ট দেওয়া হয়েছে তা যান্ত্রিক সমস্যার ফলে ঢাকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে মেরামতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে গত ৬ মাস আগে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ঠিক কতদিন নাগাত সময় নিয়ে মেরামত করে পুনঃরায় প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে সেই বিষয়ে সঠিক সময় না জানাতে পারার অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারী ভাবে ডিজিটাল কন্টেন্ট দেওয়া হয় ২০১২ সালে পাশাপাশি ৩ জন শিক্ষক ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া প্রশিক্ষন প্রাপ্ত রয়েছেন। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির পূর্বে বিদ্যালয় সুবিধা অনুযায়ী ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ক্লাস করানো হয়েছে বলে জানান, পাশাপাশি একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের অভাবে প্রতিদিন ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করানো সম্ভব হয় না। লটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক আছেন জন। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ২ টি ল্যাপটপ। কিন্তু ডিজিটাল কন্টেন্ট কি সেটাই জানেন না অনেক শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চঞ্চল (নিরুপম) গুহ জানান, চলতি মাসেত শুরুর দিকে আমাদের ডিজিটাল কন্টেন্টটি নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে কন্টেন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান করানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কন্টেন্টটি মেরামতের জন্য মেকানিকস এর কাছে দেওয়া হয়েছে অতিশীঘ্রই তা মেরামত করে পুনঃরায় ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু ল্যাপটপের মাধ্যমে আমরা শ্রেণি কক্ষে ক্লাস করাতে চেষ্টা করি।শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু আকর্ষণীয় ও আনন্দময় করে তোলা অতি জরুরি। মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং অনুসন্ধিৎসু মননের অধিকারী হয়ে সকল শিক্ষার্থী যাতে প্রতিস্তরে মানসম্পন্ন প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্টের ব্যবহার অত্যাবশ্যক। দেশজ আবহ ও উপাদান সমপৃক্ততার মাধ্যমে শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনা ও সৃজনশীলতার উজ্জীবন এবং তার জীবন-ঘনিষ্ঠ জ্ঞান বিকাশে সহায়ক। কিন্তু পরিশেষে প্রত্যেকটি সরকারি বিদ্যালয়ে সরকারি অধিদপ্তর থেকে মাসিক বেতন ভাতা পান প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগন। কিন্তু বেতন পাওয়ার পরেও তারা সরকারি চাকুরীজীবি শিক্ষকগন সৎ ও নিষ্ঠার সাথে প্রতিষ্ঠানে দেন না পাঠদান! রয়েছে প্রাইভেট বানিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কার্জকলাপ! যা তুলে ধরে দুঃখ প্রকাশ করেন সাধারণ নিরিহ অভিভাবকগন। তাদের একটাই দাবি বর্তমান সরকারি ভাবে শিক্ষাপ্রদানের জন্য নানান পদক্ষেপ গ্রহন করা হলেও শিক্ষকরা তা পরিচালনা করেন না। অতিশীঘ্রই শিক্ষকগন তাদের অলসতা ও অহিংসা মনোভাব রেখে যেনো প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে কাজ করেন এমন প্রত্যাশা করেন হতাশাগ্রস্থ অভিভাবক গন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ হিন্দোল বারী বিডি সারাদিনকে জানান, আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে দাত্বিয় গ্রহনের পরে প্রায় ৫১ টি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে একাধিক ল্যাপটপও রয়েছে। পূর্বে বেশ কিছু ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে যেখানে আমার নীজ হাতে ৫১ টি ল্যাপটপ দিয়ে মোট ৫৯ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ প্রদান করা হয়েছে, বাকি ৫ টি প্রতিষ্ঠানে বিদুৎ না থাকার কারনে ল্যাপটপ বা ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রদান করা সম্ভব হয়নি। তবে এই ডিজিটাল যন্ত্রাংশটি শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠাদান ও হাতে ধরে ল্যাপটপ চালানো প্রসঙ্গে। তবে ডিজিটাল কন্টেন্ট দেওয়া হয়ে ৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নীজ উদ্দোগ্যেও ডিজিটাল কন্টেন্ট কিনে নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অভিযোগ সর্বদাই করছে তারা যে নানান কারনে প্রতিনিয়ত ডিজিটাল ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না। যার মধ্যে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের অভাব রয়েছে এই ৮ টি প্রতিষ্ঠানেই। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের জন্য লিখিত ভাবে উর্দ্ধোতন অধিদপ্তরে দরখাস্ত করেছে সময় মত তারা তাদের দরখাস্তের সাড়া পাবে। কিন্তু এমন সমস্যা ব্যাতিরেখেই প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে জানাচ্ছে তারা প্রতিদিন ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠাদান করছে! প্রকৃত পক্ষে তারা যে একদমই এই ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে ক্লাস করাচ্ছেন না সেটা আমি একদমই অবগত ছিলাম না। তবে প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রধান শিক্ষকদের সাথে অতিশীঘ্রই আলাপচারীতার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 210 বার)


Print
bdsaradin24.com