দোহারে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, ফসলি জমি ভরাট, পরিবেশ হুমকির মুখে

Print
দোহারে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, ফসলি জমি ভরাট, পরিবেশ হুমকির মুখে
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি।
ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া, নারিশা ও মুকসুদপুর পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ  বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। কোন রকম সরকারি অনুমতির তোয়াক্কা না করেই নদীর তীরবর্তী এলাকায় শ্যালো মেশিন,বালু কাটার মেশিন ও ড্রেজিং বসিয়ে নদীর বুকচিরে বালু উত্তোলন করছে এই সিন্ডিকেট বালুখেঁকোরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের কাজিরচর সংলগ্ন ফসলি জমি ভরাট করছে প্রচলিত বলগেট ড্রেজারের মাধ্যমে। জানাযায় ঐ এলাকার প্রভাবশালী বরকতুল্লাহ প্রচলিত বলগেট ড্রেজার ব্যবহার করে প্রায় ৭০/৮০ শতক ফসলি জমি বালু দিয়ে ভরাট করে বালুস্তুব করেছে। এতে ফসলি জমি ও পরিবেশের মারাক্তক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোন নিয়মনীতির তুয়াক্কা না করেই চালাচ্ছে বালুউত্তোলন ও ফসলি জমি ভরাট।
এবিষয়ে বরকতুল্লাহর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঐ জমিটা আমার একার না। আমরা কয়েকজন ভাগিদার রয়েছি। আমাদের জমিটা পরেছিল তাই ভরাট করতেছি। তবে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। জমিটা ভরাট করতেছে চঞ্চল।
ভূ-গর্ভস্ত বা নদীর তলদেশ হইতে বালু বা মাটি উত্তোলন সংক্রান্ত সরকারি বিশেষ বিধানের (৫)এর (১) এ বলা হয়েছে, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্ত বালু বা মাটি উত্তোলন কারা যাবে না। এছাড়া (৩) এর উপ-ধারা (২) এ বলা হয়েছে, ড্রেজিং কার্যক্রমে বাল্কহেড বা প্রচলিত বলগেট ড্রেজার ব্যবহার করা যাবে না।
উপজেলার সুতারপাড়া, নারিশা ও মুকসুদপুরের প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা পদ্মা নদীর তীর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দিনে-রাতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তুলছে। এইবালু আবার ঘাট এলাকায় বালুর পাহাড় স্তুপ করে প্রতিদিন শতাধিক অবৈধ ট্রাকের মাধ্যমে ১৫০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকা দরে চড়া মূল্যে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।ফলে নদী তীরবর্তী জনবসতির এলাকাসহ কৃষি ও আবাদি জমি ভাঙনের আশংকায় ভীত হয়ে পড়েছে স্থানীয় নদীতীরবর্তী এলাকাবাসী।
এছাড়াও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, আমরা এসব অবৈধ ড্রেজিং করাকে সাপোর্ট করিনা। আমরা প্রতিনিয়ত এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আসছি। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এ ব্যবসায় করে থাকে। আবারও তারা বালু কাটছেন নদীর বুক চিরে। কোন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীকেই ছাড় দেওয়া হবে না, অভিযান চালানো হবে।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 55 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com