দোহারে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে অবৈধ ডগইয়ার্ড, নিউজ প্রকাশের পরেও প্রশাসন নিঃচুপ

Print
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি :
ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসেদপুর ইউনিয়নের নারিশা, পূর্বচর/ ডাকবাংলো নামক এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবাধেই গড়ে উঠেছে জাহাজ শিল্প! স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে জাহাজ তৈরি করার ডগইয়ার্ড। গত সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন। ফলে শাইনপুকুর  থেকে নয়াবাড়ি পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসরকারীখাত শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসন এর সাংসদ সালমান এফ রহমান (এমপি) এর একান্ত প্রচেষ্টায় পদ্মার ভাঙ্গন রোধে নদী শাসনের প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ সহ ক্ষতি হচ্ছে জনজীবন। তবে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলছে না এলাকাবাসী! এতে সরকারি সুদৃষ্টি খুবই জরুরী বলে মনে করেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পল্লীবিদ্যুতের ৫/৬ টি বাণিজ্যিক সংযোগের মাধ্যমে এই গডইয়ার্ড গুলো চলছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটাই যে, পল্লীবিদ্যুতের দেয়া সংযোগ গুলো নিয়ে তার গুলো জালের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে। যার ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। এছাড়া পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী এরা সংযোগ পাওয়ার যোগ্য না হয়েও সংযোগ পেয়েছে। যে কোন দূর্ঘটনা ঘটেগেলে পল্লী বিদ্যুত কি তার দায় বহন করবে? স্থানীয় সুত্রে জানাযায় পল্লী বিদ্যুত মোটা অংকের টাকা খেয়ে এখানে এ সংযোগ গুলো দিয়েছে।
কোন শিল্প এলাকা গড়ে উঠার আগে চাই তার যথাযথ নিয়মনীতি। সরকারের নিয়মনীতির তুয়াক্কা না করে যখন কোন কিছু করা হয় তখন সেটা উপকারের চেয়ে ক্ষতি বয়ে আনে অনেক। মুকসুদপুরের পূর্বচরে তথা ডাকবাংলো দোহারের অন্যতম একটি ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে পায় ১৫ বছর আগে। সেই স্থানে এখন জাহাজ তৈরীর ঠকঠক আওয়াজ আর বিপদজনক ভাবে ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে বৈদ্যুতিক তার। এবিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর দোহার জোনাল  অফিসের ডিজিএম মো. খোরশেদ আলম জানায়, আমি জানি না এরা কি ভাবে সংযোগ নিয়েছে। সম্ভবত আরইবি থেকে সংযোগ গুলো পাশ করানো হয়েছে।
গডইয়ার্ডের নেই কোন প্রকার পারমিশন, পরিবেশের ছাড়পত্র, নেই ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র এমন কি ভাল কোন ইলেক্ট্রিশিয়ান। তার পরেও এরা কি ভাবে এই শিল্পের বিকাশ ঘটালো? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গডইয়ার্ডের এক শ্রমিক জানান, এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে সঠিক ভাবে তাদের বেতন দেয়া হয় না। এছাড়া এখানে শ্রমের মুজুরীও কম দেয়া হয়। শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য কোন প্রকার পোষাক আষাক দেয়া হয় না। নদীর কুল ঘেষে খালি স্থানে এরা গড়ে তুলেছে গডইয়ার্ড। এসব ডগইয়ার্ডে এখনো ৪০/৫০ টি জাহাজ নির্মান কাজ চলছে। প্রতি বছরে এক একটি জাহাজ তৈরীতে জমি ভাড়াবাবত স্থানীয় প্রভাবশালীরা হাতিয়ে নিচ্ছে ১০/১২ লক্ষ টাকা। আর সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। এছাড়া এখানে জাহাজ তৈরী করালে আয় কড় ফাঁকি দিতে পারেন জাহাজ মালিকরা। প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এরা চালিয়ে যাচ্ছে এদের এই অবৈধ ডগইয়ার্ড ব্যবসা।
এবিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, মুকসুদপুরে এখনো ৩০/৪০ টা জাহাজ তৈরী হচ্ছে তা আমিও দেখেছি। তবে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এবিষয়ে আমি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন জানান, আমাদের দোহারের মুকসুদপুরে যে ডগইয়ার্ড রয়েছে তা আমার জানামতে সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়মনীতি ছাড়াই চলছে। আমাদের প্রশাসন এ বিষয়ে কেন যে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা বলতে পারবো না।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 42 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com