দোহারে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে অর্থ উপার্জনের মহা উৎসব

Print

মহিউল ইসলাম পলাশ, দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ

প্রকৃতির নিয়মের মধ্যে দিয়েই  মায়ের গর্ভে সন্তানের জন্ম হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার দুহায় দিয়ে  হাসপাতাল নামের কশাইখানা  আর ডাক্তার নামের কশাইদের হাতে নীরব মৃত্যুর শিকার হচ্ছে শত শত মা। সেই সাথে সরকারী হাসপাতাল গুলোতে ডাঃ থাকে না ঠিকমত। সেখানে নেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মত যন্ত্র তন্ত্র। সরকারী ডাঃ দেখানোর পরে ডাক্তার একটি প্রেসক্রিপশন লিখে দেয় তার মধ্যে লিখে দেয় ৫/৬ টি টেস্ট। যেমন ব্লাডের টেস্ট ২/৩ টা, মূত্র টেস্ট, আলট্রাস্নোগ্রাফি ও ই.সি.জি। এগুলোর একটি টেস্ট ও সরকারী হাসপাতালে  করা হয় না। এই টেস্ট গুলো করার জন্য ডাক্তারা পাঠায় বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে রোগীর প্রায় টেস্ট গুলো করতে ১৫ শত থেকে ২০০০ টাকা গুনতে হয়। এই টেস্টের টাকা থেকে ৩৫ শতাংশ চলে যায় ঐ সরকারী ডাক্তারদের পকেটে। এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও কোন প্রকার অপারেশন করা হয় না সরকারী হাসপাতাল গুলোতে। রোগীদের সাথে কন্টাক করে সরকারী ডাক্তারা অপারেশন করে বেসরকারী হাসপাতালে  গিয়ে। 

আবার বেসরকারী হাসপাতাল গুলোতে গর্ভপতি  মায়েদের  নিয়ে গেলে সেখানে নর্মাল ডেলিভারী করানোর কোন চিন্তা না করে তারা  টাকা ইনকাম করার লক্ষে রোগীদের ভয় দেখিয়ে সিজারিয়ান ডেলিভারি করিয়ে নিচ্ছে। এতে ফুলে ফেঁপে উঠছে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজানো বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক  ও ডায়গনেস্টিক সেন্টার গুলো। আর তিলেতিলে  নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে শত শত মায়ের জীবন। এছারা একজন ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর যেমন ভীর দেখা যায় ঠিক তেমনি ভীর থাকে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির এছারদের। এরই ধারাবাহিকতায় দোহারে গড়ে উঠেছে অনেক বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনেস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে  স্বাস্থ্যসেবার  নামে অর্থ উপার্জনের মহা উৎসব। 

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে  টেষ্ট ও ভিজিটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয় বলে সাধারণ মানুষ গুলো ভীড় জমাচ্ছে হাতুড়ে পল্লী চিকিৎসকদের চেম্বারে। যাদের নেই কোন প্রকার এমবিবিএ,এফসিপিএস বা ফার্মেসীর উপরে কোন স্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সনদ। এদের মধ্যে কেউ কেউ কোন ডাক্তারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে আবার কেউ ফার্মেসীতে কাজ করে বা মেডিসিনের উপর কোর্স করে এখন হয়েছে বড় ডাক্তার। এদের হাতে কতটা নিরাপদ আমাদের রোগীদের জীবন? এখানে এসেও শান্তি মিলছে না রোগীদের।এখানে ও রোগীদের উচচ্ছে পড়া ভীড় ঠেলে পল্লী চিকিৎসক  এর স্বরনাপ্ন হওয়ার পরে তাকে দিতে হচ্ছে ভিজিট ২০০ টাকা করে। এছাড়া সামান্য সমস্যার জন্য দিয়ে দিচ্ছে এক গাধা ঔষধ। হাতিয়ে নিচ্ছে রোগী প্রতি ১০০০/১২০০ টাকা। ঔষধের গায়ে মূল্য দেয়া না থাকায় মূল্য হাঁকাচ্ছে ইচ্ছে মত। পল্লী চিকিৎসক বা ফার্মেসী থেকে প্রেস্কিপশণ ছাড়া এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ থাকা সত্বেও এরা রোগীদের এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ দিচ্ছে হরহামেশাই। এমনটাই চালাচ্ছে উপজেলার হলের বাজারের বন্ধু মেডিসিন কর্নার এর পল্লী চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসেন, মেঘুলার সাহ্ ফার্মেসীর পল্লী চিকিৎসক সুমন সাহ্, পশ্চিমচর বেলতলার পল্লী চিকিৎসক ননী গোপালসহ অনেকে। পল্লী চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসেন এভাবেই মালিক হয়েছেন মেঘুলার প্রমিজ ডিজিটাল হাসপাতালের।       
আরো জানাযায়,  ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি করানোর মত কোন বালাই নেই।দোহার জেনারেল হাসপাতাল, মুক্তি ক্লিনিক, সমাধাণ ডায়াগনস্টিক, জনসেবা ক্লিনিক, আশা ক্লিনিক, রেজিয়া ক্লিনিক, নাফিস ক্লিনিক, প্রমিজ ডিজিটাল  হাসপাতালসহ  ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে গর্ভবতী  মায়েরা চিকিৎসা নিতে আসলেই তাদেরকে সিজার করানো হয়। এতে একজন মা হয়ে যাচ্ছেন  অর্ধেক। ধীরে ধীরে আক্রান্ত হচ্ছে নানান রোগে। সংসার জীবনে আসছে নানাবিধ সমস্যা। একজন এমবিবিএস  ডাক্তার দিনে যদিও ২০ জনের অধিক রোগী দেখতে পারার কথা নয়। কিন্তু তাদের রোগী দেখার সিরিয়াল বইতে চোখ দিলে দেখা যায় সকাল ৯টা থেকে ২টার মধ্যেই রোগী দেখা হয়েছে ১০০টার ও উপরে। রোগী প্রতি ডাক্তারদের ভিজিট ৫০০/ থেকে ১০০০/ টাকা।  দুপুর ২টার মধ্যেই ডাক্তারের ইনকাম প্রায় ৫০,০০০/ আবার রাত ৯টা পর্যন্ত আয় হবে ৫০,০০০/ টাকা। এভাবে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার নামে ডাক্তার, পল্লী চিকিৎসক, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা। 
দোহারের বিভিন্ন নামীবেনামী হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, ফার্মেসী ও পল্লী চিকিৎসালয় ঘুরে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে এমনটাই উঠে আসে। জয়পাড়া ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলার সময় তানজিলা আক্তার  জানাযায়, আমি সকালে আসছি এখন ২.৩০ বাজে। ডাক্তার দেখিয়েছি প্রায় ৫০/৬০ জনের সিরিয়ালের পরে। আবার আল্টাস্নো করতে গিয়ে ৪৩ জনের পেছনে পরেছি। ৩৮ জনের সিরিয়াল শেষে এখন বলতেছে আল্টাস্নো এখন আর হবে না। এখন আল্টা রুমে ইকো করা হবে। এটা কেমন কথা বলেন, প্রতিটি আলাদা আলাদা টেষ্টের জন্যে আলাদা আলাদা রুম থাকবে না? সারাদিন এখানে চিকিৎসা নিতে এসে তো আরও অসুস্থ হয়ে পরতেছি। শিমুলিয়ার সাহিদা নামের এক রোগী জানান, দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  ডা. মন্ঞু এলাহী সরকারী হাসপাতালে আসা রোগীদের সাথে কন্টাক করে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে সিজার করেন। আমার ভাতিজি নিপা আক্তার কে তিনি কন্টাক করে অন্য ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করেছেন। গত মঙ্গলবার আমাকে তিনি সিজার করতে চাইছিলেন কিন্তু আমার স্বজনরা জয়পাড়া ক্লিনিকের একজন মহিলা ডা. দিয়ে সিজার করাতে চাইলে এলাহী সাহেব ঐ ক্লিনিকে কল দিয়ে একটু ঝামেলা করেন। 

এভাবে দিনের পর দিন স্বাস্থ্যসেবার সাথে মিশে থাকা কর্মকর্তা, কর্মচারী, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের চাপা কলে পিশে মরছে দোহারের সাধারণ জনগণ। বিষয়টি দেখার কেউ নেই। এ বিষয়টির উপর সু-দৃষ্টি দেয়ার জন্য ঢাকা-১ দোহার- নবাবগঞ্জের মাননীয় সাংসদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, দোহার-নবাবগঞ্জের এমপি জনাব সালমান এফ রহমানের নিকট দোহারবাসীর প্রানের আকুতি।                 
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 615 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com