দোহার-নবাবগঞ্জে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি, প্রশাসন নীরব

Print

মোঃ জাকির হোসেন, দোহার, জেলা প্রতিনিধি : ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে খননযন্ত্রের মাধ্যমে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালীরা ইজারা ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গত বেশ কিছুদিন ধরে এই মাটি কাটার মচ্ছব চালিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করতে গেলে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। খবর পেয়েও এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জানা গেছে, দোহার উপজেলার মুকসুদপুর, নারিশা,কুসুমহাটি,মাহমুদপুর ও কার্তিকপুর ইউনিয়নের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র সেখানকার মৈনট পদ্মার ঘাট এলাকায় সমতল ভূমি থেকে প্রায় এক মাস ধরে অব্যাহতভাবে মাটি কাটছেন। অন্যদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাল,যন্ত্রাইল, নয়নশ্রী ও চুড়াইন ইউনিয়নে সরকারি ইজারা ছাড়াই তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে খননযন্ত্র ব্যবহার করে ফসলি জমির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন। দিনরাত সমানে চালানো হচ্ছে মাটি কাটা ও সরবরাহের এই কর্মযজ্ঞ।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত ভারী ড্রাম ট্রাক ও শতাধিক অবৈধ স্টেয়ারিং গাড়িতে মাটি বোঝাই করে এ উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। পদ্মা থেকে গায়ের জোরে মাটি কেটে বিক্রি করে ওই প্রভাবশালী চক্রটি প্রতিদিন বিপুল টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে ভারী ড্রাম ট্রাকে মাটি ভর্তি করে নিয়মিত যাওয়া আসার কারণে উপজেলার উপজেলার কার্তিকপুর থেকে  ফুলতলার রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া রাস্তার ছোট বড় কালভার্টগুলোও দেবে যাচ্ছে।
সম্প্রতি এলাকাবাসী ড্রাম ট্রাকের প্রবেশ রোধ এবং মাটি কাটা বন্ধ করতে জোটবদ্ধ হয়ে এগিয়ে গেলে মাটি কাটার সাথে যুক্ত ওই শক্তিশালী চক্রের নিয়োজিত দুর্র্ধষ বাহিনীর সদস্যরা এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এ ভাবে নদীর ওপরের সমতল জমি কেটে পুকুরে পরিণত করায় আসছে বর্ষা মওসুমে ফের নতুন করে ওই এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে পদ্মার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির ঘটনা অবগত করা হলেও উপজেলা প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের নীরবতায় প্রভাবশালী চক্রটি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসন আর প্রভাবশালী চক্র অনেকটা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ায় এলাকার লোকজন ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এ নিয়ে কেউ টু শব্দ করলে তাকে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নদী ধ্বংস করে মাটি কাটা চক্রের হোতা আনোয়ারের কাছে জোর করে মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজের জমি থেকে মাটি কাটছেন বলে দাবি করেন। তিনি নদী কিংবা সরকারি জমি থেকে নয়, আমার নিজের জমির মাটি কাটা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুকসুদপুরের ইট ভাটর মালিক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পদ্মা ও ফসলি জমির মাটিই কেটে সাবাড় করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দোহার উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আক্তার রিবার সাথে  সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ইউএনও জানিয়েছেন, যদি এলাকাবাসী অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রভাবশালীদের কবল থেকে নদী রক্ষায় দ্রত মাটি কাটা বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin24@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 49 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com