নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা

Print

নানা জল্পনা-কল্পনার পরে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরেনি মোটেও। মোটরসাইকেল চালক-আরোহীরা হেলমেট ব্যবহারসহ কিছুটা আইন মানলেও বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহন, পথচারী পারাপারের চিত্র তেমন বদলায়নি। বাসগুলোয় ধরা পড়েছে চিরাচরিত সব অনিয়ম। নতুন আইন কার্যকর করতে না করতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে পরিবহন সংশ্লিষ্ট চালক-শ্রমিকরা। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, যেভাবে আইন করা হয়েছে তাতে তাদের পক্ষে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।

এ দিকে নতুন সড়ক পরিবহন আইনের জামিন অযোগ্য ধারা পরিবহন চালক সঙ্কট বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন মালিকরা। নতুন আইনকে স্বাগত জানালেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জামিন অযোগ্য ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।

অপর দিকে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত ফুটপাথ ও ফুটওভারব্রিজ কিংবা পার্কিং স্পেসের মতো ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না দিয়েই সড়ক পরিবহনে কঠোর আইন কার্যকর করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। ফলে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ দিকে রাজধানীতে যে হারে বাড়ছে স্কুল-কলেজ এবং বিপণিবিতান সে তুলনায় পার্কিংয়ের জায়গায়ই বা আছে কতটুকু। আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পার্কিংয়ের জায়গা কি পর্যাপ্ত? এত সব প্রশ্নের সমাধান না করেই সড়কে কঠোর আইনের খড়গ নেমে আসায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

তারা বলেন, পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত ফুটপাথ নেই, ফুটওভারব্রিজ নেই। ব্যবস্থাপনা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সাধারণ মানুষ বেশি হয়রানি হবেন। এ দিকে গতকাল সোমবার থেকে নতুন সড়ক আইন কার্যকরে অভিযান ও মামলা দেয়া শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রথম দিনেই রাজধানীর ছয়টি স্থানে আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, নগরীর অনেক স্থানেই ফুটওভারব্রিজ নেই তার পরে জেব্রাক্রসিংয়ে যানবাহন থামে না। সেখানে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে হাজার টাকা জরিমানা বেমানান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত রোববার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আইন করে জরিমানা আদায় মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, নতুন সড়ক পরিবহন আইনের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, সরকার চায় সবাই আইন মেনে চলুক।

পরিবহন সেক্টরের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়ে গেছে, এটি নিয়ে এখন কিছুই করার নেই। কিছু করতে হলে আবার সংসদে যেতে হবে। আইনটি করার সময় আমরা বহু দেশের সড়ক আইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি।

তিনি বলেন, চালক ইচ্ছা করে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটান তাহলে ৩০২ ধারায় মামলা হবে। জামিনের এখতিয়ার আমাদের নেই, এটি আদালতে বিচারক দেখবেন। আমরা শুধু আইন করে দিয়েছি। চালকের ভূমিকা পর্যালোচনা করে বিচারক জামিন দেয়ার বিষয়টি দেখবেন। তবে কোনো কিছুই অপরিবর্তনযোগ্য নয়। আইনে কোনো অসঙ্গতি থাকলে আমরা পরীক্ষা করে দেখব। পরিবর্তনের বিষয়টি যদি যুক্তিসঙ্গত মনে হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সড়ক পরিবহন আইনের সাথে যুক্তিযুক্ত না হয়, তাহলে বিষয়গুলো আমরা বিবেচনা করে দেখব।

[ প্রিয় পাঠক, আপনিও বিডিসারাদিন24 ডট কম অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইল, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, রান্নার রেসিপি, ফ্যাশন-রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন- bdsaradin@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে। নারীকন্ঠ এবং মত-দ্বিমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে  bdsaradin24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরণের দায় গ্রহণ করে না। ]

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 60 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
bdsaradin24.com